রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৪ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ই-কমার্স গ্রাহকদের নিয়ে পরামর্শ দিলেন হাইকোর্ট    আদালতে জেমস    খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ল    জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন আহমেদ    বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে: ওবায়দুল কাদের    ইভ্যালির রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে আরেক মামলা    ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল কারাগারে   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আমি কিন্তু গুলি করা মানুষ, আমার পিস্তল বালিশের নিচে থাকে: ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১, ৯:১৪ পিএম আপডেট: ২৬.০৭.২০২১ ৯:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

 ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি। কোনো বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে, তাহলে আমি ওর পেছনে লাগব। আমি শুধু ভিকারুননিসা নয়, দেশছাড়া করব।’— এভাবেই ফোনে মীর সাহাবুদ্দিন টিপু নামে অভিভাবক ফোরামের নেতার সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলছিলেন ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার।

এই ফোনালাপটি রোববার (২৬ জুলাই) থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

রেকর্ডটিতে ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ধরে অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপু কথা বলেন। এতে অধ্যক্ষ এমন বিশ্রি ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেছেন যা শোনারও অযোগ্য।

৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের এই ফোনালাপ নিচে তুলে ধরা হলো- 

কামরুন নাহার : লকডাউনের মধ্যে আমি অফিস করি কি না করি কার বাপের কী? কোন ... বাচ্চার কিছু যায় আসে?

টিপু : না ...।

কামরুন নাহার : কোন ...র বাচ্চার যায় আসে কিছু? যদি আমি অফিস না করি? আমি জানতে চাই, কোন ... পোলার কী যায় আসে?

টিপু : এইডি তো আপনার জিবির (গভর্নিং বডি) লোক।

কামরুন নাহার : কোন ... পোলার কী যায় আসে? আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না।

টিপু : না...।

কামরুন নাহার : আমি বলে দিলাম, আমি শিক্ষক। আমি প্রিন্সিপাল। আমি সেই দিকটায় আলাদা পরিচয়।

টিপু : এইডি তো আপনের...।

কামরুন নাহার : ওই ... পোলা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু তার গোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়ব।

টিপু : না, আপনের বোধহয় ওই যে জিবির মেম্বারে এইগুলা ছড়ায় কি না দেখেন।

কামরুন নাহার : কোন মেম্বার আর কোন মার ভাতার আমার দেখার কিন্তু বিষয় না। কোনো ... বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগব। আমি শুধু ভিকারুন্নিসা না, আমি দেশছাড়া করব।

টিপু : ঠিক আছে আপা। এইটা ভালো।

কামরুন নাহার : এবং আমি অনেক সহ্য করেছি। এই কালকে সচিবের কাছে বলে এসেছি। সচিব বলেছে, মন্ত্রী তোমাকে খুব ভালোবাসে। তুমি এই জায়গায় থাকবা। আমি বলেছি, স্যার...। ...তুমি এইখানে থাকবা, তুমি যোগ্য, মন্ত্রী তোমাকে পছন্দ করেছে।

টিপু : আইচ্ছা।

কামরুন নাহার : আর কোনো ... বাচ্চা তদন্ত কমিটি করলে আমি কিন্তু দা দিয়ে কোপাবো তারে, সোজা কথা।

টিপু : হা হা হা।

কামরুন নাহার : আমার ... আছে। আমার বাহিনী আছে। আমার ছাত্রলীগ আছে, যুবলীগ আছে, আমার যুব মহিলা লীগ আছে।

টিপু : আফনে আবার...।

কামরুন নাহার : কিন্তু কিচ্ছু লাগবে না। কাপড় খুইলা রাস্তার মধ্যে পিটাব।

টিপু : আফনে আবার আগের চরিত্রে চইলা যাবেন মুকুল আফা। হা হা...।

কামরুন নাহার : হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ যাব। যাব। আমি কিন্তু একদম, আমি কিন্তু গুলি করা মানুষ। রিভলবার নিয়া ব্যাগের মধ্যে হাঁটা মানুষ। আমার পিস্তল বালিশের নিচে থাকত। সারারাত পিস্তল আমার বালিশের নিচে থাকত। আমি কিন্তু...

টিপু : আমি নাজমারে (যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার) ফোন করে কইতাসি মুকুল আফা চেইতা গেসে তুমি থামাও। তোমার জিএসরে (হাসি)।

কামরুন নাহার : হ্যাঁ। নাজমা আমারে বলসে। যে কেউ তরে ডিস্টার্ব করলে আমারে খালি বলিস। আমার নাজমাও লাগবে না। নাজমার গ্রুপের শুধু মেয়ে আমারে পরশু দিন অফিসে বসছিল, পরে আমারে বলতেছে আপা, আসবেন আমরা কাপড় খুইলা রাস্তার মধ্যে রাইখা পিটাব তারে। তার এত দুঃসাহস আপনার বিরুদ্ধে কথা বলে, আর আপনাকে ডিস্টার্ব করে। ঘরের থেকে টাইনা বাইর কইরা রাস্তার মধ্যে পিটাইয়া কাপড় খুইলা ফেলাব। আমার সম্পর্কে লেখে, আমার ঢাকা পতেঙ্গা ফেয়ারেল গলিতে চাইনিজ খাবার খাওয়াইসি। আর আমার সম্পর্কে লেখে, প্রিন্সিপাল অফিস করে না। কোন কুত্তার বাচ্চার মায়ের কোনে লিখেছি আমি। আমি আমার অফিস করি সচিবকে বইলা। করোনার মধ্যে, করোনার মধ্যে এই। করোনার মধ্যে আমার বারান্দার অফিসে আমি দরজা খুলে বসে থাকি, আমার চেয়ার টেবিল নিয়ে। আমি অফিসে গিয়ে রাউন্ড দিয়ে চলে আসি কর্মচারীরা ঠিকমতো আছে কি না। করোনার মধ্যে অফিসের নিয়ম নাই। আমাকে নিষেধ করছে, সারা বাংলাদেশ যে করোনার মধ্যে তোমরা লকডাউনের মাঝে অফিস খোলা রাখবে না, তাহলে করোনা ছড়াবে। কোন ... বাচ্চার কী যায় আসে? কোন ...র বাচ্চার কী যায় আসে? আমি অফিসে না গেলে ...বাচ্চারা ... বাচ্চারা কি আমার জায়গাটায় মজা পায়? কোন ... বাচ্চারা চায় যে আমি অফিসে বইসা অফিস করি, তাদের অফ করেন। ...র বাচ্চা।

টিপু : ঠিক আছে আপা।

কামরুন নাহার : আমি রাজনীতি করা মেয়ে।

টিপু : আমি তো আছি, আফনে এত...।

কামরুন নাহার : আমি কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে আসছি বলে কিন্তু...।

টিপু : আফনের চাইর নাম্বার গেইটের অপজিটে হইল আমার বাসা। এত চিন্তা করেন ক্যান? আমার দুই মিনিট লাগব যদি বসুন্ধরা...।

কামরুন নাহার : আমি কোনো চিন্তা করি না। কারণ, আমি নিজেই শক্তিশালী। কোনো... কথায় আমি চলি না। কোনো... বাচ্চার কথায় আমি চলি না। আমি নিজেই কিন্তু শক্তিশালী। দলটার আমি প্রেসিডেন্ট ছিলাম। মনে রাইখেন এই দলটা এখন সরকারে। যতদিন এই দলটা আছে ততদিন আমার পাওয়ার আছে। আমি কিন্তু ... বাচ্চাদের লেংটা করে রাস্তার মইধ্যে পিটাইতে পারব। আমার লাগবে না আমার দলের মেয়েদের ডাকলে দলের ছেলেও লাগব না। মেয়েরাই ওর চুল-দাড়ি ছিঁইড়া প্যান্ট খুলে নামাইয়া দিবে। আমার সম্ভবত তিন সপ্তাহ যেন দাঁড়াতে সাহস না পায়। আমি কিন্তু কোনো অন্যায়ের সাথে বসবাস করি না, এইডা মনে রাইখেন।

টিপু : তয় নাসির যে...।

কামরুন নাহার : আমার নামে যে লেখে ... বাচ্চারে আমি অনেক সহ্য করছি।

টিপু : তয় নাসির যে...।

কামরুন নাহার : সচিব স্যারকে বলছি, অসভ্যরা আমার পেছনে লাগে, আমারে আপনি ঢাকা বোর্ডে পোস্টিং দিয়ে দেন। স্যার বলছে, মন্ত্রী তোমাকে পছন্দ করে। আমাকে যেহেতু ধরতে গেলে থাকতেই হবে তাহলে কুত্তার বাচ্চাদের সাথে লইড়াই আমি থাকব।

টিপু : না... নাসির যে এত চিল্লাচিল্লি করল আপনি নাসিররে কিছু কইলেন না ক্যান?

কামরুন নাহার : কোনো নাসিররে আমি চিনি না। নাসিররে কী বলব তা আমি বুঝি। কেউ যেন আমার পেছনে লাগে না আপনি নিষেধ কইরে দিয়েন। আপনার সঙ্গে যারাই বলবে নিষেধ করে দিবেন।

টিপু : না, তা তো বলবই। আফনে রোববারে ইস্কুলে আইলে আমারে একটু ফোন কইরেন।

কামরুন নাহার : স্কুল করব কি না করব তা আমার এখতিয়ার, আমি বসব কি না বসব। আমি সচিবকে বলছি, সচিব স্যার- আমি বাসায় বসে অফিস করি। বলে, যে বাসাটা দেওয়া হইসে বাসায় বইসা অফিস করবা। যখন সুবিধা অফিসে যাবা এখন করোনার মধ্যে। তুমি এই নিয়া চিন্তা কইরো না। আমরা অফিস করি না মাসে একবার-দুবার আসি জরুরি মিটিং থাকলে। আর ... বাচ্চারা সারাক্ষণ কয় আমি অফিসে যাই না, অফিসে যাই না।

ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপের অডিওটি ভিত্তিহীন ও সুপার এডিট করা বলে মন্তব্য করেছেন কলেজের প্রিন্সিপাল কামরুন নাহার। তিনি বলেন, ওরা অভিভাবক ফোরাম চায় আমি কিছু আসন ফাঁকা রাখি যাতে তারা ভর্তি বাণিজ্য করতে পারে। আমি বলেছি শিক্ষামন্ত্রী আমাকে এখানে থাকতে বলেছেন। এ প্রতিষ্ঠানকে ঠিক করার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। আমি যদি এদের কথায় ভর্তি বাণিজ্যের অনিয়ম করে বেড়াই মন্ত্রীর কাছে আমি তখন কি জবাব দেবো। আমার ইতিহাসে অন্যায়ের কোন দাগ নেই। এর আগের কোন প্রিন্সিপাল এখানে কেন থাকতে পারেনি এখন বুঝতে পেরেছি।



ফোনালাপটি ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন কলেজ অধ্যক্ষ এমন ভাষায় কথা বলতে পারেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন রেখে অনেকে তার অপসারণ দাবি করছেন।



ভোরের পাতা/কে 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  গুলি করা মানুষ   ভিকারুননিসা   অধ্যক্ষ  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]