শুক্রবার ৬ আগস্ট ২০২১ ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

শিরোনাম: প্রযোজক রাজ মাদক মামলায় রিমান্ডে    পরীমনিকে রিমান্ডে পেল পুলিশ    রাতেই আদালতে পরীমনি-রাজ, রিমান্ড আবেদন     ভারতকে বাদ দিয়ে ব্রিটেনের লাল তালিকায় বাংলাদেশ    সিনোফার্মের সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ    ভ্যাট দিল গুগল    ইতিহাসের সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখলো দেশ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদ উদযাপিত হয়েছে
#ঈদুল আজহার সুমহান মর্যাদা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মাবুদ। #ঈদ উদযাপনে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে মহামারি করোনা: ড. শাহিনূর রহমান। #করোনা যুদ্ধে একদিন আমরা জয়ী হবো: এফ এম শাহীন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১, ১১:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ দ্বিতীয়বারের মতো ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। এই ঈদে পশু জবাই আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম। আসলে আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন, কে কোন উদ্দেশ্যে কোরবানি করছে তা তিনি ভাল করেই জানেন। করোনার কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। করোনা যুদ্ধ আমাদের জন্য একটি লড়াই এবং এই লড়াইয়ে আমাদের অবশ্যই জিততে হবে। 



দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৪০৭তম পর্বে বুধবার (২১ জুলাই) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- সেক্টর কমান্ডার ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা  মো. আব্দুল মাবুদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এর ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহিনূর রহমান, গৌরব ৭১-এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মাবুদ বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। সমগ্র বিশ্ব এক বিশেষ সময় অতিবাহিত করছে। মহামারি করোনা মানুষের সাধারণ গতি পাল্টে দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ দ্বিতীয় বারের মত ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। ঈদ আনন্দে ধনী-গরীব সবারই আশা থাকে পরিবারের লোকদের নিয়ে আনন্দময় সময় অতিবাহিত করার। কিন্তু এবারও সাধারণ খেটে খাওয়া ও দরিদ্র শ্রেণির পক্ষে সম্ভব হবে না ঈদে পরিবারের জন্য বাড়তি কিছু করার। এই ঈদে পশু জবাই আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম তবে তা ঐ ব্যক্তির জন্য যে নিষ্ঠার সাথে কেবল আল্লাহ তাআলার ভালোবাসায়। আসলে আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন, কে কোন উদ্দেশ্যে কোরবানি করছে তা তিনি ভাল করেই জানেন। মূলত মানুষের মধ্যে সকল লোভ লালসা দূর করে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সকল পশুত্বকে বিসর্জনের শিক্ষাই হলো কোরবানির শিক্ষা। তাই কোরবানির অন্যতম ধর্মীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের মধ্যে পশুত্বকে হত্যা করে মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলা। নিজের মধ্যে যে খারাপ জিনিষ রয়েছে সেটা দূর করার জন্যই কিন্তু পশু কোরবানি দেওয়া হয়। আমরা পশু কোরবানি করলাম ও সাথে সাথে নিজের ভিতরে হিংসা বিদ্বেষ রাখলাম তাহলে কিন্তু পশু কোরবানি হবে না। কোরবানির অর্থ কেবল পশু জবাই করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ কোরবানি কারো জন্য নিজ প্রাণের কোরবানিও হতে পারে আবার কারো নিজ পশুত্বের কোরবানিও হতে পারে। আমরা যদি মনের পশুকে কোরবানি করতে পারি তাহলেই আমরা আল্লাহ তাআলার প্রিয়দের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব। ঘরবন্দি এবারের ঈদও যেহেতু গতবারের মতো পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে তাই আমাদের সকলের উচিত পরিবার-পরিজনদের এই মহামারি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সকল স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে সাহায্য করা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আমরা বাড়ির বাইরে যাব না। অসহায় এবং দুস্থ প্রতিবেশীদের সাহায্য করার মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব এবং তাদের সুরক্ষিত রাখতে সচেষ্ট থাকব। আমাদের সচেতনতাই পারবে পরবর্তী ঈদের আমেজ আমাদের ফিরিয়ে দিতে। আমাদের এই ঈদে বর্জন করতে হবে আমাদের সাময়িক আনন্দ, গ্রহণ করে নিতে হবে করোনা দূরীকরণের শপথ।

ড. শাহিনূর রহমান বলেন, করোনা মহামারি কালকে আজকের এই দিনটি অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহা কিভাবে উদযাপন করলাম সেটি একটি বিষয় বটে তার সাথে আরেকটি বিষয় হচ্ছে ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো। ঈদ মানে কোলাকুলি, করমর্দন। ঈদ মানে প্রতিবেশীদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা দেয়া। নাড়ির টানে গ্রামে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একত্র হওয়া। নতুন জামাকাপড় পরা। এবারও সেই অনাবিল আনন্দের আবহ নেই। খুশির জোয়ারও নেই। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এই ঐতিহ্য ও চর্চা এবার থমকে গিয়েছে শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে কারণ এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটি একটি বৈশ্বিক যুদ্ধ যে শত্রুকে আমরা দেখতে পাইনা, ছুঁতে পাইনা শুধু শুনতে পাই এমুক আক্রান্ত হয়েছে অমুক মারা গিয়েছে। এবার ঈদে আমি কোথাও যায়নি এমনকি আমার স্ত্রী আমাকে ঈদের নামাজ পড়তে যেতে দেয়নি কারণ আমার বয়স ৫৫ বছর হয়ে গিয়েছে। আমাকে কিছু জিনিস মেনে চলতে হয়, কিছু সমস্যা রয়েছে সেকারণেই করোনা মহামারির মধ্যে আমাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবার কারণে আমাকে এই কাজ গুলো করতে হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন করলেন এবং স্বাধীনতার পর যে বাংলাদেশে যে আবহাওয়া ও চর্চার বিপরীত মেরুতে এই করোনা দাড় করিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ করোনা আমাদের সেই চিরাচরিত চর্চাটি করতে দেয়নি। ঈদের যে একটি আনন্দ ও ধর্ম যার যার উৎসব সবার; এই যে কনসেপ্ট এটা নিয়ে কিন্তু আমরা চলমান ছিলাম এবং এটাকে আমরা মনে লালন ও ধারণ করি। কিন্তু এবার আমরা সেভাবে সেটি করতে পারিনি। বিশ্বে বিভিন্ন শতকে হানা দেয়া কলেরা, ম্যালেরিয়া, প্লেগ ইত্যাদি মহামারি রূপ পাল্টে দুর্বল হয়েছে। আর করোনা রূপ পাল্টে হচ্ছে আরো শক্তিধর। আমরা যেন অচিরেই করোনা মুক্ত একটি সুন্দর সুস্থ জীবন ফিরে পাই সেজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি। 

এফ এম শাহীন বলেন, সবাইকে ঈদ মোবারক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে গতকাল একটি কথা বলছেন যে, এই করোনা যুদ্ধ আমাদের জন্য একটি লড়াই এবং এই লড়াইয়ে আমাদের অবশ্যই জিততে হবে। এখন সে লড়াইয়ে জিততে হলে আমাদের কি কি করতে হবে সেই জায়গাটি উনি আমাদের স্পষ্ট করেছেন। সেই জায়গাটা আমি আরও পরিষ্কার করে বলতে চাই এবং সেটা হলো জীবন ও জীবিকার মধ্যে সরকার যে একটি ব্যালেন্স তৈরি করেছেন সরকার লকডাউন দিয়েছে তা পিছিয়েছে আবার বাড়িয়েছে এবং ঈদের পরে আমরা যে শঙ্কাটা করছি যে বর্তমানে হাঁসপাতালে আইসিইউ বেড নেই, রোগী ভর্তি হতে পারছেন না, দক্ষিণ অঞ্চলের অবস্থা ভয়াবহ বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া; এই অঞ্চলগুলোর অবস্থা খুবই বাজে। এর মধ্যদিয়েই আমরা প্রার্থনা করি এই লড়াইয়ে অবশ্যই আমরা জিতব।  কোভিড-১৯ বিশ্বে মানব শরীরে হানা দেয় ২০১৯-এ। আমাদের দেশে এলো আজ প্রায় বছর দেড়েকের কাছাকাছি। এরই মধ্যে ৪টি ঈদ পার করেছি আমরা। এবারের ঈদটাও ঠিক আগের মতোই এসেছে আমাদের জীবনে। শুধু মানবিকতা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় নেয়া লকডাউন গরিব-দুঃখী মানুষদের অসহায় করে তুলেছে। শুধু তারাই নয় করোনাভাইরাসের কারণে আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে কর্মহীন হয়েছেন অনেকে। অসহায় মানুষের প্রতি পারস্পরিক সমবেদনা, সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রমজান মাসের রোজার ভূমিকা অপরিসীম। সমাজে ধনী-গরিব, দুঃখী-অসহায়, অনাথ-এতিম বিভিন্ন ধরনের মানুষ বসবাস করেন। আজকের এই দিনে আমি রাষ্ট্র ও এর জনগণের কাছে আহ্বান জানাতে চাই যে, কোনো প্রকার জঙ্গি কার্যকলাপের সাথে সংযুক্ত কোনো মসজিদ মাদ্রাসা বা এতিমখানায় যেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যেন এই কোরবানির অর্থ সে জায়গায় না দেন। কারণ মুজিব শতবর্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ বিরোধী হেফাজতে ইসলাম দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়েছে, তা কেবল ১৯৭১ সালের পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোষর রাজাকার-আলবদরদের ঘৃণ্য ও নৃশংস কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর সর্বশেষ আরেকটি অনুরোধ করতে চাচ্ছি সবার কাছে যে, সবাই একটু কষ্ট হলেও মাস্ক পরিধান করুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   স্বাস্থ্যবিধি   ঈদ  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]