শুক্রবার ৬ আগস্ট ২০২১ ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

শিরোনাম: মেসির বার্সা ত্যাগ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা    প্রযোজক রাজ মাদক মামলায় রিমান্ডে    পরীমনিকে রিমান্ডে পেল পুলিশ    রাতেই আদালতে পরীমনি-রাজ, রিমান্ড আবেদন     ভারতকে বাদ দিয়ে ব্রিটেনের লাল তালিকায় বাংলাদেশ    সিনোফার্মের সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ    ভ্যাট দিল গুগল   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
২ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও নির্মাণ হয়নি কাঠের ব্রিজ
স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলো এলাকাবাসী
মোশারফ হোসাইন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১, ৯:২৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

গত ২৮ জুন দিবাগত রাত থেকে টানা তিনদিনের ভারি বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে  শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার দিঘীরপাড় মধ্যপাড়া এলাকার সিরাজ মাষ্টারের বাড়ির কাছে মহারশি নদীর বাঁধের প্রায় ৭০ ফুট বাঁধ ভেঙে যায়। এতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ওই দিন আহাম্মদনগর-দিঘীরপাড় পাকা সড়কের দিঘীরপাড় মধ্যপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়ির কাছে একটি ইউড্রেনসহ প্রায় ৮০ ফুট পাকা সড়ক ভেঙে যায়। এতে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত ১৩ দিন ধরে প্লাস্টিকের চারটি ড্রাম ও বাঁশের তৈরী ভেলা দিয়ে পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট এ খালটি পারাপার হচ্ছিলেন স্থানীয়রা।

পাকা সড়কে পাহাড়ি ঢলের কারণে খালের ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও সেতু নির্মাণ হয়নি। পারাপারের কোনো উপায় খুজে না পেয়ে অবশেষে স্বেচ্ছাশ্রমে প্লাস্টিকের ২০টি ড্রামের ওপর প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন স্থানীয়রা। 

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় সাঁকোটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এতে প্রায় তিন হাজার মানুষের কিছুটা দুর্ভোগ কমেছে বলে জানান এলাকাবাসী। 

গত ৩ জুলাই বিকালে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম, ইউএনও ফারুক আল মাসুদ, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক, সদর ইউপি সদস্য (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) আব্দুল কুদ্দুস ওই স্থানটি পরিদর্শন করেন। এ পথে চলাচলকারীদের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত রাস্তা মহারশ্মি নদীর বাঁধও ভেঙে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য সদর ইউপি সদস্য (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) আব্দুল কুদ্দুসকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ দেওয়ার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও ওই স্থানে কোন কাঠের সেতু বা বাঁশের সাঁকো নির্মিত হয়নি। তাই এলকাবাসীর কেউ দিয়েছেন বাঁশ, কেউ দিয়েছেন টাকা আর কেউ দিয়েছেন স্বেচ্ছাশ্রম-এভাবেই সবাই মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ প্রস্থের সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরিদ মিয়া বলেন, ‘আমরা ১৩-১৪ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। গত ১০ দিন আগে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও স্যারসহ আরও অনেকেই এ স্থানটি পরিদর্শন করেন। ওই সময় একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। অথচ আজ  (সোমবার) ১০ দিন পার হইল, একজনেরও আর দেখা পেলাম না। তাই এলাকাবাসীরা সবাই মিলে গত ২ দিন ধরে বাঁশ ও টাকা উত্তোলন করে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলাম আমরা। তবে ওই স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পাকা সেতু অথবা দ্রুত সড়কটি মেরমতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।



এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘বরাদ্দের তিনদিন পর প্রাক্কলনের কাগজ হাতে পাইছি। প্রাক্কলনে ৩৬টি সিমেন্টের খুঁটি ধরা হয়েছে। মিস্ত্রি দিয়ে খুঁটি তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাঠেরও অর্ডার দেওয়া হয়েছে। খুঁটি শুকাইতে সময় লাগবে। আশা করছি ঈদুল আযহার দুই-তিন দিনের মধ্যেই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, ‘ভেঙে যাওয়া সড়কটিতে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। বরাদ্দের ১০ দিন অতিবাহিত হলেও কাজ শুরু হয়নি জানতে চাইলে জবাবে বলেন, খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে। উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে সেতু নির্মাণের কাজের গতি বাড়ানো হবে।

ভোরের পাতা/পি


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  স্বেচ্ছাশ্রম   বাঁশের সাঁকো  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]