শুক্রবার ৬ আগস্ট ২০২১ ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

শিরোনাম: মেসির বার্সা ত্যাগ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা    প্রযোজক রাজ মাদক মামলায় রিমান্ডে    পরীমনিকে রিমান্ডে পেল পুলিশ    রাতেই আদালতে পরীমনি-রাজ, রিমান্ড আবেদন     ভারতকে বাদ দিয়ে ব্রিটেনের লাল তালিকায় বাংলাদেশ    সিনোফার্মের সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ    ভ্যাট দিল গুগল   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
লকডাউনে সব কিছু বন্ধ হলেও পেট তো আর বন্ধ করা যায় না
ইমতিয়াজ উদ্দীন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১, ৯:২০ পিএম আপডেট: ১৩.০৭.২০২১ ৯:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

লকডাউনে হাতে কোন কাজ নেই, তাই মুখে কোন খাবার ও নেই। এমন পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে রাজধানীর ছিন্নমূল মানুষেরা।কাজ নেই টাকা নেই। ধার দেনা করে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। রাজধানীর বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ডে ঘুরে দেখা যায় অসংখ্যমানুষ বসে আছেন একটি কাজের আশায় তাদের কেউ বা রংমিস্ত্রি কেউ মাটিকাটা শ্রমিক কেউ দিনমজুর আবার কেউ নির্মানশ্রমিক। কঠিন লকডাউনের দশদিনে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকেন একটি কাজের অপেক্ষায়, যদি মিলেএকটি কাজ তাহলে দু মুঠো খাবার জুঠবে তাদের মুখে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেরিবাধে  গিয়ে দেখা যায় অলস সময় পারকরছেন ভ্যান শ্রমিকরা। চরম দুর্দিনে সময় পার করছে তারা। না পারছে নিজেরা নিয়মিত খেতে না পারছে পরিবারের মুখে খাবারতুলে দিতে। এই কঠোর বিধিনিষেধে পাননি সরকারি বা বেসরকারি কোন সহায়তা। একই ভাবে দিন কাঠাচ্ছে রাজধানীর কমলাপুরের কুলিরা। ফ্লাটফর্মে নেই যাত্রীদের ভিড় তাই কাজ নেই স্টেশনের কুলিদের ও এখন দুর্দিন। অনেকেরই মুখে গেলকয়েকদিন কোন খাবার জুটেনি। একই অবস্থা দেখা যায় রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ডে ও। কর্মহীন হয়ে পড়ায় করোনাআতঙ্কের পাশাপাশি জীবিকা নিয়ে বড়ো দুশ্চিন্তায় আছেন  তারা। 

রাস্তায় হেটে হেটে পান সিগারেট বিক্রি করা মোক্তার আলম বলেন লকডাউনে সব কিছু বন্ধ হলেও পেট তো আর বন্ধ করা যায়না। আমরা খুব কষ্টে আছি,আমাদের দেখার কেউ নেই, আমারা কার কাছে যাবো। ঝালমুড়ি বিক্রেতা রাজীব  জানালেন, পেটেরদায়ে করোনা ঝুঁকি উপেক্ষা করে ঝালমুড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। কিন্তু ক্রেতা নেই। পরিবারের ছয় সদস্যের প্রতিদিনের খাবারকীভাবে যোগান দেবেন তা নিয়েই মহাদুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

কুড়িগ্রামের জামাল হোসেন ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও এবারের কঠোর লকডাউনে সেই কাজও বন্ধ। তিনি বলেননিজে ঢাকা শহরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি, গ্রামে আমার পরিবার থাকে সেখানেও টাকা পাঠাতে হয়। এই কঠোর লকডাউনেআয় না থাকায় পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারছি না। জানি না তারা কিভাবে দিন কাটাচ্ছে? সামনে কোরবানির ঈদ।বাড়িতে যাওয়ার জন্য অন্তত কিছু টাকা তো যোগাড় করতে হবে তাই রাস্তায় নেমেছি, কিন্তু কোন কাজ পাচ্ছি না। জামালহোসেনের মত  মতো এমন গল্প ঢাকা শহরের লাখো  ছিন্নমূল মানুষের। কঠোর লকডাউনে চরম দুর্ভোগের মধ্যে জীবন-যাপনকরছে তারা। কেউ কেউ  বলছেন, অনাহারে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। পরিবারের অন্নের যোগান নিয়ে দিশেহারা পরিস্থিতিরমধ্যে পড়ে গিয়েছেন। 



জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান  বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন আর্থিক অনটনে শহরে টিকতে না পেরে অনেকে গ্রামে চলে যাচ্ছে। গ্রামে চলে যাওয়ামানুষদের জন্য গ্রামে স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। একই সাথেতাদের জন্য সরকার যে সব প্রনোদনা বা সাহায্য সহযোগীতার ব্যাবস্থা করেছে তা যেন তাদের হাতে পৌছায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভোরের পাতা/পি


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  লকডাউন   পেট   







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]