রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৭ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: দ. কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান    বিএফইউজের নেতৃত্বে ওমর ফারুক-দীপ আজাদ    দেশে ৬ কোটির বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর    ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট: ইবি শিক্ষার্থী গ্রেফতার    ওয়েস্ট ইন্ডিজদের লজ্জায় ডোবালো ইংল্যান্ড    রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার জয়   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মহামারিতেও অভূতপূর্ব বিনিয়োগ টেক্সটাইলে
রমজান আলী
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১, ১০:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক খাত টেক্সটাইল অনবদ্য সাফল্য ধরে রেখেছে। গত এক দশকের রেকর্ড ভেঙে এ বছর চার হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে এ খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে উৎপাদন মান বাড়ানো ও উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষেই মূলত এ বিনিয়োগ হচ্ছে। করোনা মহামারির মতো বৈশ্বৈক সংকটে যেখানে মানুষ চাকরিহারা হচ্ছে সেখানে অন্তত নতুন করে ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, টেক্সটাইল খাতে মোট রফতানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১.১ শতাংশ বেশি। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। পোশাক রফতানিকারকরা আশা করছেন, এই অর্থবছরে পোশাক রফতানি ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত এক দশকে তৈরি পোশাকের রফতানি ১৭৬ শতাংশ বেড়ে পেয়ে ৩৪.১৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে ওভেন পোশাকের রফতানি ১৯৮ শতাংশ বেড়ে ১৬.৬৩ বিলিয়ন ডলার এবং নিট পোশাকের রফতানি ১৬৫ শতাংশ বেড়ে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে তৈরি পোশাক রফতানি করে দেশ ২৮.৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ খাতে ৪২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। স্টেক হোল্ডারদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নতুন বিনিয়োগের ফলে প্রায় ৬,০০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়। এ বিনিয়োগের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাবার জন্য উৎপাদন মান বাড়ানো ও উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম তন্তুর চাহিদা বেশি বলেই জানিয়েছেন তারা। ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় দুই বাজার ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি প্রকোপ কমে গেছে। ফলে এই বাজারগুলোতে তৈরি পোশাকের চাহিদা এখন আবার প্রায় কোভিডপূর্ব সময়ের সমান বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। অনেক কারখানা মালিক এত বেশি অর্ডার পেয়েছেন যে বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দিতে পারবেন না। 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন ভোরের পাতাকে বলেন, প্রায় প্রতিটি কারখানা এখন বিএমআরই (ব্যালেন্সিং, মডার্নাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন, এক্সপেনশন) অর্থাৎ ভারসাম্যকরণ, আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করছে। তিনি আরও জানান, গত দশ বছরে যেসব কারখানা এসব খাতে বিনিয়োগ করেনি, তারা এখন ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়েছে। সুতি ও কৃত্রিম ফ্যব্রিকসহ টেক্সটাইল পণ্যের চাহিদা বেড়েছে জানিয়ে মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘বর্তমানে আমার কারখানায় প্রতিদিন ১০০ টন কাপড়ের রফতানি অর্ডার রয়েছে। কিন্তু আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ৬০ টন। স্থানীয় উদ্যোক্তা ছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও কৃত্রিম ফ্যাব্রিক উৎপাদনের জন্য দেশে কারখানা স্থাপনের জন্য এগিয়ে আসছেন। কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের মালিক, বিখ্যাত কোরিয়ান শিল্প গ্রুপ ইয়ংগোন কোরিয়ান এ বছরের প্রথম দিকে ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা কৃত্রিম ফ্যাব্রিক উৎপাদনে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। 



বিটিএমএর তথ্যানুসারে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে ৪৩৩টিরও বেশি স্পিনিং মিল চালু ছিল। এ কারখানাগুলো বছরে সম্মিলিতভাবে ৩২৭০ টন কেজি তন্তু উৎপাদনে সক্ষম। স্থানীয় উৎপাদকরা নিটওয়্যারের জন্য প্রয়োজনীয় তন্তু ও ফ্যাব্রিকের প্রায় ৮৫-৮৯ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম। বিটিএমএ’র তথ্যানুযায়ী, বোনা কাপড়ের খাতে যে পরিমাণ তন্তুর চাহিদা আছে, স্থানীয় তাঁতিরা তার ৪০ শতাংশের কম সরবরাহ করতে পারে। এ কারণে কারণে বোনা পোশাক শিল্প বিদেশি ফ্যাব্রিকের ওপর নির্ভরশীল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক পোশাক নির্মাতাদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারার ফেডারেশন’র (আইটিএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত মোট পোশাকের ৭৮ শতাংশই কৃত্রিম তন্তু থেকে তৈরি হয়। বাকি ২২ শতাংশ তৈরি হয় তুলার তন্তু থেকে। কিন্তু কৃত্রিম তন্তু তৈরি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। 

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেছেন, ‘এ কারণেই আমরা এই পণ্যগুলোর জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দেশের শীর্ষ দশ স্পিনিং মিলগুলোর একটি, ম্যাকসনস গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছে যে তারা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে তিনটি নতুন স্পিনিং ইউনিটে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। গ্রুপটির সহ প্রতিষ্ঠান মেট্রো স্পিনিং লিমিটেড একটি ইউনিটে ৩৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। ম্যাকসনস স্পিনিং মিলস আরও দুটি ইউনিটে ২৫৪ কোটি ও ৩৪৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জানিয়েছে কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। 

ম্যাকসনস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোকন বলেছেন, ‘আমরা উচ্চমূল্যের বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনের জন্য বড় বিনিয়োগের যাচ্ছি, আমরা বাজারের প্রতিযোগিতায় ভালোমতো টিকে থাকতে পারি। ম্যাকসনস গ্রুপের মতো এনভয় গ্রুপ, নিউ এশিয়া গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, প্রাইড গ্রুপ, শাশা গ্রুপও মহামারিকালে বিপুল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোশাক খাতের আরেক বড় রফতানিকারক ডিবিএল গ্রুপ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৫৬২ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্প গ্রুপটি তাদের হামজা টেক্সটাইল মিল ইউনিট ২-এর ডাইং ও ফিনিশিং সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ৩৭৬ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। শিল্প গ্রুপটি কৃত্রিম তন্তুসহ বিশেষ ধরনের তন্তু উৎপাদনের জন্য মতিন স্পিনিং মিলসে একটি নতুন ইউনিটও স্থাপন করেছে। এই নতুন উদ্যোগের জন্য প্রায় ১৮৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। ডিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন ইউনিটগুলো এ বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদনে যেতে পারবে। এর ফলে প্রায় ২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। নিউ এশিয়া গ্রুপ তাদের উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি আধুনিকায়নের জন্য ২১৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ মতিন চৌধুরী টিবিএসকে বলেছেন, ‘তারা যে যে সুতা উৎপাদন করে, ক্রেতাদের কাছে তার ভালো চাহিদা আছে। কারণ আমরা আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সুতা তৈরি করি। তিনি আরও বলেন, ‘গোটা বিশ্বেই প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তন্তুর মানও বদলে গেছে। সেজন্য আমরা আরও উন্নত মানের সুতা উৎপাদন করবো।

ভোরের পাতা/পি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  মহামারি   অভূতপূর্ব বিনিয়োগ   টেক্সটাইল  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]