রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৪ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ই-কমার্স গ্রাহকদের নিয়ে পরামর্শ দিলেন হাইকোর্ট    আদালতে জেমস    খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ল    জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন আহমেদ    বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে: ওবায়দুল কাদের    ইভ্যালির রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে আরেক মামলা    ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল কারাগারে   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
শালিখায় বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যর ঢেঁকি
সংগ্রহশালা স্থাপনের দাবি সচেতন মহলের
শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১, ২:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

'ধান ভানি রে, ঢেঁকিতে পার দিয়া।ঢেঁকি নাচে আমি নাচি, হেলিয়া দুলিয়া। সখী ধান ভানি রে।’ গ্রামবাংলার তরুণী-নববধূ, কৃষাণীদের কণ্ঠে এ রকম গান এখন আর শোনা যায় না। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের সাথে সাথে সেসব পুরানো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মতো আর শালিখা উপজেলায় চোখে পড়ে না। উপজেলাটিতে একসময় ঢেঁকি ছিল গ্রামীণ জনপদে চাল ও চালের গুঁড়া বা আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণীদের ঘরে ধান থেকে নতুন চাল ও চালের গুঁড়া করার ধুম পড়ে যেত। সে চাল দিয়ে পিঠা-পুলি, ফিরনি, পায়েস তৈরি করা হতো।

এছাড়াও নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূজায় ঢেঁকিতে ধান ভেনে আটা তৈরি করা হতো। তখন বধূরা ঢেঁকিতে কাজ করতো রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। ঢেঁকিছাঁটা আউশ চালের পান্তা ভাত খেতে খুব স্বাদ হতো। একসময় মানুষ ঢেঁকিতে ধান ও চাল ভেনে চিড়া-আটা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে মুখরিত ছিল বাংলার জনপদ। কিন্তু এখন ঢেঁকির সেই শব্দ শোনা যায় না। তখন কবি-সাহিত্যিকগণ ঢেঁকি নিয়ে কবিতা ও গান লিখেছেন।

বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোথাও ঢেঁকির শব্দ নেই। ফলে মাগুরায় বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি ঢেঁকি।গ্রাম ঘুরে দেখা যায়  প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানেও ঢেঁকির ব্যবহার কমেছে। গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কেউ কেউ বাড়িতে ঢেঁকি রাখলেও ব্যবহার করছে না কেউ। যন্ত্র আবিষ্কারের আগে শালিখায়  ঢেঁকি শিল্পের বেশ কদর ছিল। তেল বা বিদ্যুৎ চালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল ভানার কারণে ঢেঁকি আজ কদরহীন।



শিক্ষক ও গবেষক শ্রী ইন্দ্রনীল বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন  গ্রামগুলোতে ঘুরেও এখন ঢেঁকির দেখা মেলে না।  আগে শালিখা উপজেলার প্রায় সবার বাড়িতে ঢেঁকি ছিল। সেই ঢেঁকিছাঁটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। পিঠার স্বাদ ও গন্ধ এখনো মনে পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তির ফলে মাগুরা জেলায় গ্রামবাংলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে।

ঢেঁকি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য। জেলা পর্যায়ে পুরাকীর্তি তত্ত্ব অধিদপ্তরেরল সংগ্রহশালা থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে এটি না থাকায় পুরাতন ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না তাই এটি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


ভোরের পাতা/কে 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  গ্রামবাংলা   ঢেঁকি   ঐতিহ্য  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]