শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: কুমিল্লার ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবাল সন্দেহে একজন আটক    হেসে-খেলেই সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ    পাপুয়া নিউ গিনিকে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জ    করোনায় একদিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু    বদরুন্নেসার সেই শিক্ষিকা দুই দিনের রিমান্ডে    ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড    টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে উদযাপনের সিদ্ধান্ত
গাজী এমদাদ
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.০৬.২০২১ ১২:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ৭২ বছর, শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ ২৩ জুন উদযাপিত হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হওয়ার দিনেই বাংলার মানুষকে আবার নব চেতনায় উদ্দীপ্ত করা ও স্বপ্ন দেখানোর দৃপ্ত শপথ নিয়ে যে রাজনৈতিক দলটি গঠিত হয়- সেটি উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল ‘আওয়ামী লীগ’। ২০০ বছরের শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে বৃটিশরা ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তান নামক পৃথক দু’টি রাষ্ট্র সৃষ্টি করে বিদায় নেয়। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্মের পর হতেই পাকিস্তানের দু’অংশ- পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে গড়ে উঠে তীব্র বৈষম্য। ভাষা-সংস্কৃতি, অর্থনীতি, শিক্ষা সবদিক দিয়ে চরমভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত হতে থাকে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী সর্ব প্রথম আঘাত হানে বাংলার মানুষের মাতৃভাষা বাংলার উপর- ভিন্ন সংস্কৃতির ও সংখ্যা লঘুদের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য জবরদস্তি শুরু করে- প্রতিবাদে সোচ্চার হতে শুরু করে বাংলার জনগণ। আস্তে আস্তে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র, নিপীড়ন, নির্যাতনের মাত্রা যখন সীমা অতিক্রমের উপক্রম এমনই প্রেক্ষাপটে বাংলার মানুষের মাঝে আশা, সাহস ও শক্তি সঞ্চারে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন গঠিত হয় একটি রাজনৈতিক দলের। ওই বছরের ২৩ জুন পুরানো ঢাকার টিকাটুলির কেএম দাস লেনের ‘রোজ গার্ডেন প্যালেস’ এ গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানি, সহ সভাপতি আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন, আলী আহমদ, আলী আমজাদ খান, আবদুস সালাম খান, কোষাধ্যক্ষ ইয়ার মোহাম্মদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক, পরবর্তীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দলকে পরিচালিত করার প্রত্যয়ে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। 

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কার্যকরী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় দলটি, বাংলার মানুষের মনে সাহস যুগাতে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর একের পর এক বৈষম্যের বিরুদ্ধে মাঠে সক্রিয় থাকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। বাংলার মানুষকে সম্পৃক্ত করে গড়ে তোলে আন্দোলন-সংগ্রাম। ১৯৫২ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক জনাব শামসল হক অসুস্থ হয়ে পড়লে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান শেখ মুজিবুর রহমান, পরের বছর ১৯৫৩ সালে ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান- নতুন ভাবে শক্তি সঞ্চার করে এগিয়ে যেতে থাকে দলটি, মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উদ্দীপনা, আসে ১৯৫৪ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানের সকল গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ফ্ল্যাটফরমে নিয়ে এসে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে চরমভাবে পরাজিত করে বিজয়ী হয়, কিন্তু মাত্র দেড় বছরের মাথায় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক অন্যায়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হয় যুক্তফ্রন্ট সরকার। এরপর ১৯৬২ এর আন্দোলন, ‘৬৪ এর শিক্ষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। বাংলার মানুষের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগ উত্থাপিত হয় বহির্বিশ্ব হতেও, আন্তর্জাতিক জনমত গঠনেও কাজ করতে থাকে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। 
১৯৫৩ সাল হতে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৬৬ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদ। বাঙালিদের অধিকার আদায়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। সামাজিক-সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা সবদিক দিয়ে বঞ্চিত বাঙালিদের পাশে আরও শক্তভাবে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেন পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক সরকার বাঙালিদের কোন দিন সামনে এগিয়ে যেতে দেবেনা- পাকিস্তানের জাতীয় আয়ের সিংহ ভাগ যোগান দিতো পূর্ব পাকিস্তান, কৃষি উৎপাদনের ৮০ ভাগও আসতো পূর্ব পাকিস্তান হতে,  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বেশি পূর্ব পাকিস্তানে, অথচ সেই বাঙালিদের দিনের পর নিষ্পেষিত হতে হচ্ছে সংখ্যা লঘু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক। এটা কিছুতেই আর মেনে নিতে পারেন নি শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৬ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন তাঁর ঐতিহাসিক ৬ দফা- এ ৬ দফার মূল দাবিই ছিল- পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলার স্বাধীকার, স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক স্বাধীনতা ও অধিকার আদায় করা। পরবর্তীতে এ ৬ দফার সাথে ছাত্ররা আরও ৫ দফা যুক্ত করে ১১ দফা নিয়ে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে, শুরু হয় হরতাল, অবরোধ ও অসহযোগ আন্দোলনের মতো কর্মসূচি- পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষ। পূর্ব পাকিস্তানের তথা বাংলার মানুষের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেকের বিরুদ্ধে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে জেলে নেয় শেখ মুজিবুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দকে। পরবর্তীতে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ওই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দানে বাধ্য হয় সামরিক সরকার। শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠেন ‘বঙ্গবন্ধু’- বাংলার তথা সমগ্র পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা! 

এরপর ‘৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তান হতে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন দখল করে নিরঙ্কুশ জয় পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, প্রাদেশিক পরিষদের আসনের মধ্যে ২৮৮ আসন পায় আওয়ামী লীগ, প্রাদেশিক পরিষদের ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সবগুলোতেই জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক সরকার বাঙালিদের নিকট রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে, নানা ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে - বিষয় টি অনুধাবন করে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করে ডাক দেন তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হতে ঘোষণা করেন স্বাধীকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনের কর্মসূচি, ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায় সামরিক সরকার, গ্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে চূড়ান্ত স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যা পরের দিন ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাটস্থ বেতার কেন্দ্র হতে ঘোষিত হয় আনুষ্ঠানিকভাবে- অবশেষে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন-সংগ্রাম, ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা- বিশ্ব মানচিত্রে শোভিত হয় ‘বাংলাদেশ’ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি নতুন রাষ্ট্রের। আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে এজন্য সমার্থক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা ও রাষ্ট্র নায়ক। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন সরকার গঠন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন ও দেশগঠনে নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। 

মাত্র ৭ মাসের মাথায় নতুন একটি সংবিধান উপহার দেন জাতির পিতা, যেটাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আধুনিক সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়- যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো বিনির্মাণ, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, মানুষের মুখ দু’বেলা খাবার তুলে দেওয়াই ছিল জাতির পিতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সপরিবারে শহীদ হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুম,হত্যা, হামলা- মামলা চলতে থাকে, এরপর সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমান এসে স্টীম রোলার চালাতে থাকেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর, জাতির পিতার বিচার রোধে জারি করেন কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’। জেনারেল জিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এসে ৯ বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন-নির্যাতন চালান আওয়ামী লীগ ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার উপর। হত্যা, গুম, হামলা-মামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের  দেশান্তরি করারও অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন এরশাদ। জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার বানান ও রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর আবার শুরু হয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া- বাতিল করা হয় কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ বিচার শুরু হয় জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের, জেলহত্যার, শুরু হয় নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। ২০০১-২০০৮ পর্যন্ত আবারও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর পুরানো কায়দায় নিপীড়ন-নির্যাতন, দলীয় সভাপতিকে হত্যার বহু ষড়যন্ত্র ও উদ্যোগ! সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে ২০০৯ সালে আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২০০৯ হতে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে জাতির পিতার খুনিদের বিচার ও শাস্তি কার্যকর, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতা বিরোধী ও হত্যার বিচার ও রায় কার্যকর এবং দেশকে বিশ্বের দরবারে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী ও উন্নত ভাবমূর্তির রাষ্ট্রে পরিণত করা সহ বাঙালি জাতির সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দলীয় সভাপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গত ১২ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সুবাদে সামাজিক, অর্থনৈতিক, অবকাঠামো গত উন্নয়নসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ হতে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশের কাতারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে পরিগনিত। বিভিন্ন সূচকে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত, পাকিস্তানসহ বহু দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার ভূমিকা আজ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে ব্যাপক সাফল্য, দেশের অর্থনীতির ভিত হয়েছে মজবুত।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের কথা বলে, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথ দেখায়। আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমনটা বলেন আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় থাকে দেশের জনগণ কিছু পায়। বিগত ১২ বছরে একটানা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছে, অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে, বাস্তবায়িত করেছে অনেক সাহসী পদক্ষেপ। এসময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি পদক্ষেপ বিশেষভাবে উল্লেখ্য, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার হ্রাস, আইসিটি খাতে উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, মানব সম্পদ উন্নয়ন, প্রতি বছর জানুয়ারির ১ তারিখে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, জাতীয় পরিচয় পত্র সহ সব জায়গায় বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নাম সংযোজন, বয়স্ক ও দুস্থ ভাতা প্রদান, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদান ও বৃদ্ধিসহ আরো বহু জনমুখী কার্যক্রম। 



গত ১২ বছরে বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সুচিন্তিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে আরো যেসব খাতে উন্নয়ন সূচিত হয়েছে, জনগণের কল্যাণ সাধিত হয়েছে সে গুলোর মধ্যে রয়েছে- দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে, বেড়েছে রেমিট্যান্স, প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৭:২ শতাংশ, মহামারি করোনা পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মুক্তচিন্তার চর্চা বৃদ্ধি, ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান, তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি ও চাকরিতে পদায়ন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে জরুরি সেবা প্রদান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের বিনামূল্যে জমি ও গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া, দেশে প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, শিশু ও প্রসূতির মৃত্যু হ্রাস। 

আওয়ামী সরকারের ১২ বছরে অনেক বড় বড় প্রকল্প গৃহীত হয়েছে যার অধিকাংশই বাস্তবায়িত ও কিছু সমাপ্তির পথে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হচ্ছে, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্নফুলি নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রমুখ। বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন- রুপপূর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা ও মাতারবাড়ি গভীর সমূদ্র বন্দর, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ। প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্জন ও সাফল্য কতটুকু- এ প্রশ্নের জবাবে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, অন্যতম ‘থিংক ট্যাংক’, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও শিক্ষা চিন্তাবিদ, দেশবরেণ্য জ্বালানি আইন ও পলিসি বিশেষজ্ঞ ড. সেলিম মাহমুদ জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতেই জনগণের পক্ষে কথা বলেছে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন এসেছে তার বেশির ভাগই এসেছে আওয়ামী লীগের মাধ্যমে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। ভাষা আন্দোলন, ৬৬ এর ঐতিহাসিক ৬ দফা, বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন, ‘৬৯ এর গণ আন্দোলন, সর্বোপরি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ- সবই এসেছে আওয়ামী লীগের কারণে। সামরিক শাসন বিরোধী সকল আন্দোলন এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের ভূমিকা সর্বজন বিদিত। 

আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন দল বাংলাদেশের জনগনের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে- জবাবে ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, জন্মলগ্ন হতে আওয়ামী লীগ বাংলার জনগনের প্রত্যাশা পূরণ করতে কাজ করেছে, মানুষের অধিকার আদায় ও এ লক্ষ্যে সকল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ যতবারই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। ৭২ বছরের আওয়ামী লীগের অর্জন ও সাফল্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু ব্যর্থতা ও বদনাম। বিশেষ করে বিগত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ লাগাতার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে কিছু কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল দলের কিছু অসৎ নেতাকর্মীর সহযোগিতায় দলে অনুপ্রবেশ করে সরকার ও দলের নানাবিধ অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। র্তণমূল হতে কেন্দ্র পর্যন্ত এ অনুপ্রবেশকারিরা বেশ সক্রিয়। এদের বিষয়ে এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে আবারও দল বিপর্যয়ে পড়তে পারে।   

করোনা পরিস্থিতির কারণে গতবারের মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত কর্মসূচি পালিত হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর। ২৩ জুন সূর্যোদেেয়র সাথে সাথে কেন্দ্রীয় কার্যালয় সহ দেশের সকল কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হবে, সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। ওই দিন বিকেল তিনটায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউসহ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন হতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন। সারা দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হবে প্রদর্শনী ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও অর্জনের নানা চিত্র।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]