শুক্রবার ৬ আগস্ট ২০২১ ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

শিরোনাম: মেসির বার্সা ত্যাগ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা    প্রযোজক রাজ মাদক মামলায় রিমান্ডে    পরীমনিকে রিমান্ডে পেল পুলিশ    রাতেই আদালতে পরীমনি-রাজ, রিমান্ড আবেদন     ভারতকে বাদ দিয়ে ব্রিটেনের লাল তালিকায় বাংলাদেশ    সিনোফার্মের সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ    ভ্যাট দিল গুগল   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
শেখ হাসিনার মুক্তিতেই বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছিল
#বাংলাদেশকে রাজনীতি থেকে বিমুক্ত করতেই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল: মে. জে. (অব.) আব্দুর রশিদ। #শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার মূলত আ. লীগকে ধূলিসাৎ করার পাঁয়তারা ছিল: সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। #শেখ হাসিনার মুক্তি মানেই রাজনীতির মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি, বাংলাদেশের মুক্তি: ড. শাহিনূর রহমান।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৩ জুন, ২০২১, ১০:১৬ পিএম আপডেট: ১৩.০৬.২০২১ ১০:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আমরা দেখেছি ১/১১ তে সামরিক হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল সেটা মূলত গণতন্ত্রের প্রতি হস্তক্ষেপ ছিল। এর পেছনের কারণে যেটা ছিল সেটা যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাবো যে, তৎকালীন বিএনপি সরকার এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্থাপন করার জন্য একের পর এক বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছিল, তখন দেশবাসীর কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। ওইসময় ১/১১ এর সামরিক সরকার বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিকে উদ্ভাসিত করার জন্য আলোড়িত করার জন্য চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পরে গিয়ে তারা এটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।



দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩৬৯তম পর্বে রোববার (১৩ জুন) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক গবেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহিনূর রহমান। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতা সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা দেখেছি ১/১১ তে সামরিক হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল সেটা মূলত গণতন্ত্রের প্রতি হস্তক্ষেপ ছিল। এর পেছনের কারণে যেটা ছিল সেটা যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাবো যে, তৎকালীন বিএনপি সরকার এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্থাপন করার জন্য একের পর এক বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছিল তখন দেশবাসীর কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তখনই মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতা দখল করার পর তারা যে কাজটি করলো আমাদের জননেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে গ্রেফতার করলো। আসলে তারা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশকে রাজনীতি থেকে বিমুক্ত করতে চেয়েছিল। এই ১/১১ সরকারকে স্থায়িত্ব করার জন্য সে সময় দেশি-বিদেশি যেসব রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক শক্তিরা কাজ করেছিল তারা কিন্তু সেই একাত্তরের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে তাদের অবস্থান ছিল। তাতে আমরা বুঝতে পারি যে স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সে স্বপ্ন থেকে বিপরীতে দিকে নেওয়ার জন্য তাদের এই প্রচেষ্টা ছিল। এবং যখন তারা বঙ্গবন্ধু কন্যাকে গ্রেফতার করলো এবং পরে তখন তারা জনগণের চাপে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলো। শেখ হাসিনা তার ১১ মাসের কারাজীবন সৃজনশীল রাজনৈতিক চিন্তায় পার করেছেন। দেশ ও মানুষের কল্যাণে নির্জন কারাগারে তিনি জনগণের কল্যাণ চিন্তা করেছেন। এক স্মৃতিচারণায় শেখ হাসিনা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা, তা সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাগারে নিঃসঙ্গ দিনগুলোতেই তৈরি করেছিলেন তিনি। তার মুক্তির পর আমরা যেটা দেখলাম রাজনীতি বিমুক্তিকরণ ও রাজনীতির একটা পুনরুদ্ধার পর্যায়ে আসলো। 

সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ধূলিসাৎ করতেই সেসময় আমাদের জননেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ধর্ষণ ও লুটপাটের মাধ্যমে নরকে পরিণত করেছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে। গ্রেনেড, বুলেট, বোমায় শেষ করতে চেয়েছিল গণতন্ত্রের মানসকন্যাকে। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সকল সংকট থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে তাদের সুখে-দুঃখে অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালনের জন্য বার বার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে সেনাসমর্থিত মেয়াদোত্তীর্ণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর এই দিন সাবজেলের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হন তিনি। মুক্তির পর শেখ হাসিনা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। নির্বাচনের ইশতেহার প্রণয়নেও শেখ হাসিনা অনন্য উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখাতে পারেন। এর প্রস্তুতির জন্য তিনি বন্দি জীবনের সময়টি কাজে লাগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কাজ সম্পন্ন করা এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরুর দাবির পাশাপাশি সামনে আনেন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের কর্মসূচি। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় শেখ হাসিনার জয় ছিল আওয়ামী লীগের ইশতেহারের প্রতি বিপুল সমর্থনের প্রমাণ। এ জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নবযাত্রা শুরু হয়। ১১ জুনের প্রভাবে ও তাঁর সৎ নেতৃত্বের কারণেই নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অতীতের জেল-জুলুম, হত্যার প্রচেষ্টা এবং হুমকি আর বর্তমানের অপপ্রচারের মধ্যেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে করোনা কবলিত হয়েও ২০২১ সালের পরই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। 

ড. শাহিনূর রহমান বলেন, আজকের এই শিরোনাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিরোনাম। ওইসময় ১/১১’র মিলিটারি সরকার বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিকে উদ্ভাসিত করার জন্য আলোড়িত করার জন্য চেষ্টা করেছিল কিন্তু পরে গিয়ে তারা এটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আমরা সবাই জানি ১১ জুন বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি আনন্দঘন স্মরণীয় দিন। ২০০৮ সালে এদিন শেখ হাসিনার মুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি গণতন্ত্রও মুক্ত হয়েছিল। আমি মনে করি যে শুধু আওয়ামী লীগ নয় যতগুলো রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন ছিল সবাই কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই গ্রেফতার প্রক্রিয়াকে ধিক্কার জানিয়েছিল। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর এই দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা হচ্ছেন গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের শেষ ঠিকানা। তাই বঙ্গবন্ধুকন্যা কারাগারে তা মুজিব আদর্শের লাখো-কোটি নেতাকর্মী তো বটেই, মেনে নিতে পারেনি দেশের সাধারণ জনগণও। রাজনৈতিকভাবে তাকে দমিয়ে রাখার জন্যই এটা দায়ের করা হয়েছে। ততদিনে ঢাকায় ‘মাইনাস টু’ গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বলা হচ্ছিল শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক নির্বাসনে পাঠানো হবে। তবে রাজনৈতিক হালচাল যাদের জানা, তারা বলছিল-তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাইনাস টু নয়, প্রকৃতপক্ষে চাইছিল শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিতে। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য মাইনাস ওয়ান। সামরিক বাহিনী নেপথ্যে থেকে যে সরকার চালাচ্ছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে তারা। কিন্তু আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদ একই কথা বলেছিলেন। কিন্তু গণমানুষের দল আওয়ামী লীগের মূল শক্তি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তখন ঐক্যবদ্ধ থাকায় সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। নেতাকর্মীদের ক্রমাগত চাপ, আপসহীন মনোভাব ও অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা ফিরে আসার মানেই হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন, জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি মানেই আমাদের বাংলাদেশের মুক্তি, আমাদের রাজনীতির মুক্তি, আমাদের গণতন্ত্রের মুক্তি, আমাদের বাক স্বাধীনতার মুক্তি, বাঙালির সংস্কৃতির মুক্তি, অসাম্প্রদায়িকতার মুক্তি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মুক্তি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]