সোমবার ১৪ জুন ২০২১ ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শিরোনাম: বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ    অবশেষে নেতানিয়াহু যুগের অবসান    ধর্ষণ চেষ্টাকারীর নাম প্রকাশ করলেন পরিমনী    শেখ হাসিনার মুক্তিতেই বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছিল    ২৩৮ কোটি টাকায় মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হচ্ছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি!    কিছু দেশ সারা পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেই যুগ শেষ: চীন    পরীমণিকে ধর্ষণ করলো কে?   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মডেল মসজিদের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে
#ইসলামের জন্য শেখ হাসিনা যা করছেন তা অন্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধান করেননি: অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা। #ইসলাম নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করছেন শেখ হাসিনা: মাওলানা খলিলুর রহমান সরদার। #শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছে ৫০ মডেল মসজিদ: মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১, ১০:৪৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আজকে বাংলাদেশে আমাদের ধর্মীয় অনুশীলন, ধর্ম লালন-পালন, ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে এক অনন্য ঐতিহাসিক দিন। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার দেশব্যাপী মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে সম্পন্নভাবে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করেছেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের উন্নয়ন করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।



দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩৬৬তম পর্বে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান সরদার, জার্মান আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, আজকে বাংলাদেশে আমাদের ধর্মীয় অনুশীলন, ধর্ম লালন-পালন, ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে এক অনন্য ঐতিহাসিক দিন কারণ আওয়ামী লীগ সরকার দেশব্যাপী মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে যার মধ্যে সুসম্পন্নভাবে সারা দেশে আজ ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করেছেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা গোটা বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যাবে আমরা অনেক সময় অন্যান্য দেশের অনেক আলেমরাই তাদের দেশের সঙ্গে ইসলামের নিদর্শনের তুলনা দিয়ে থাকে, কিন্তু এমন কোন দেশ নেই যে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে অথবা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ৫০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করেছে। এমন কোন দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও দেখতে পাইনি। আমাদের দেশ ইসলামিক দেশ নয় তারপরেও দেশের সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা ইসলাম ধর্মের জন্য যে অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন তা বিরল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন খাঁটি মুসলমান। তিনি একদিকে যেমন অসাম্প্রদায়িক অন্যদিকে ধর্মকর্ম এমনভাবে পালন করছেন যারা অতীতে রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন তাদের চাইতেও বেশি। এটা সামাজিকভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। তিনিও তার সময়ে দেশীয়সহ আন্তর্জাতিক সব সভায় অনেক গর্ব করে বলতেন আমি একজন বাঙালি, একজন মানুষ ও একজন মুসলমান। আমি মুসলমান এই কথাটি সব সময় তিনি গর্ব করে বলতেন, কারণ ওইসময় ধর্মকে ইস্যু করে একটা অপরাজনীতি চালু ছিল। তাই তিনি সেসময় হিন্দুদের বলতেন তোমরা তোমাদের ধর্ম পালন করো, খ্রিস্টানদের বলতেন তোমরা তোমাদের ধর্ম পালন করো, বৌদ্ধদের বলতেন তোমরা তোমাদের ধর্ম পালন করো। সবাইকে তিনি সুযোগ দিতেন এবং উৎসাহ দিতেন যে যার ধর্ম আছে তা যেন তাদের রীতি মতো পালন করে। এই সুযোগটা বঙ্গবন্ধু তখন সৃষ্টি করে গিয়েছিলেন যা অন্য কোন রাষ্ট্রপ্রধান করতে পারেননি। তারা শুধু ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার পাঁয়তারা করেছে শুধু। এখনো পর্যন্ত আজকে অনেক ধর্মীয় দল আছে যাদেরকে আমি কটাক্ষ করছি না, কিন্তু তারা বর্তমানে ধর্মের না যা করছে তা ধর্মের পরিপন্থী। ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম, ইসলাম ধর্ম ঐক্যের ধর্ম। তারা যা করছে এগুলো ষড়যন্ত্রের অংশ এবং রাজনৈতিক কু-উদ্দেশে এ অপপ্রচারগুলো করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের উন্নয়ন করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। স্বাধীন দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদ নির্মূলের সাফল্যও তার সরকারের বড় অবদান।

মাওলানা খলিলুর রহমান সরদার বলেন, আজকের ভোরের পাতা সংলাপ যে বিষয় নিয়ে আলোচনার ইন্তেজাম করেছে সেটা আসলে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ প্রচারেই প্রসার। আওয়ামী লীগের কাজগুলো ঠিক মতো প্রচার হচ্ছে না। যার জন্য প্রসার লাভ করছে না। আওয়ামী লীগ সরকার অসংখ্য কাজ করে গিয়েছেন যা অনেকেই জানেন না। প্রত্যেক জিনিস তাঁর আসলের দিকে ধাবিত হয়। তার মানে হচ্ছে বাবা যেমন হয় তার সন্তানও তেমন হয়। আমি একটু ইতিহাসকে টানতে যাচ্ছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি ঈমানদার মুসলমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দেশে ইসলামের প্রকৃত পরিচর্যাকারী। বাংলাদেশকে সব ধর্মের সব মানুষের জন্য শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সদা সচেষ্ট। বঙ্গবন্ধুর স্বল্পকালীন শাসনামলে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণার্থে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের অনুগামী। তিনি ইসলামের প্রচার-প্রসারে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকরী নানামুখী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তার উদ্যোগেই ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা, প্রচার-প্রসার ও এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সামগ্রিক জীবনকে মহান ধর্ম ইসলামের কল্যাণময় স্রোতধারায় সঞ্জীবিত করার লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান এক অধ্যাদেশ জারি করে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে তুরাগ নদীর তীরবর্তী জায়গাটি প্রদান করেন। সেখানেই আজ পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা করে আসছে তাবলিগ জামাত। আজ তাঁরই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে যে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রথম ধাপে ৫০টি মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করে যে নিদর্শন স্থাপন করলেন তাতে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে যেমন নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইসলামের প্রচার ও প্রসারেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু যেমন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্থপতি ছিলেন, তেমনি বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামের প্রচার-প্রসারের স্থপতিও তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ইসলামের প্রকৃত পরিচর্যাকারী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সাড়ে ৩ বছর এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ইসলামের খেদমতে যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পৃথিবীতে তার দৃষ্টান্ত বিরল। সরকার মসজিদ-মন্দিরের যে উন্নয়ন করেছে তা কল্পনাতীত। ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে যার ৫০টির শুভ উদ্বোধন হয়েছে আজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন। করোনাকালীন মসজিদের ঈমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। কওমি মাদরাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার সরকার মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন; ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তর; জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের কাছে বাংলাদেশের আলেম-ওলামাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা; মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান; চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদের উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ন্যস্তকরণ; পবিত্র রমজানে মসজিদে মসজিদে ব্যাপক কোরআন শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা; সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ; আন্তর্জাতিক হিফজ, কিরাত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্য; জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অনুমোদিত প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন মডেলে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]