রোববার ১৩ জুন ২০২১ ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শিরোনাম: এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে বিকল্প চিন্তা: দীপু মনি    নির্বাচনে করোনা খুব প্রভাব ফেলতে পারবে না: সিইসি    সাভারে পোশাক শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলি, নারী নিহত    কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত ব্যক্তিও মারা গেছেন    কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে মা-ছেলেকে গুলি করে হত্যা    ডিপিএলের আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের ওপর হামলা    আশুলিয়ায় কারখানা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে
#দেশে করোনার তৃতীয় স্রোত ঠেকাতে হবে: ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। #জীবিকার চেয়ে জীবন অনেক গুরুত্বপূর্ণ: ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন। #করোনা মোকাবিলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: আতিয়ার রসুল কিটন। #সরকারের ১৮ দফা মানলে করোনা দূর হয়ে যাবে: ডা. শারমিন রহমান অমি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ মে, ২০২১, ১১:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারি তাহলে আমরা কোভিডকে টাইম লিমিটেশনের আগেই হ্রাস করতে পারবো, কিন্তু আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানি, তাহলে আমাদের প্রতিবেশী দেশে যে অবস্থা এখন আছে সেটার সম্মুখীনও হতে পারি। আমাদের এই মুহূর্তে যেটা করণীয় হচ্ছে, দেশে যেকোনো ভাবেই হোক করোনার তৃতীয় ওয়েবটি ঠেকাতে হবে। আমার এবং আমার পরিবারের। সরকার এখানে তার কিন্তু একেকটা পদক্ষেপ নেয়। এর বাইরে আর কিছুনা। আসলে সত্যি কথাটা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ এখনো এর ভয়াবহতা বুঝে উঠতে পারছে না।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩৩৫তম পর্বে সোমবার (১০ মে) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন, ইতালি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রসুল কিটন, শেরপুর সদরের সেন্ট্রাল কাউন্সিলর, বি এম এ, মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. শারমিন রহমান অমি। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।



অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারি তাহলে আমরা কোভিডকে টাইম লিমিটেশনের আগেই হ্রাস করতে পারবো কিন্তু আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানি তাহলে আমাদের প্রতিবেশী দেশে যে অবস্থা এখন আছে সেটার সম্মুখীনও হতে পারি। আমাদের এই মুহূর্তে যেটা করণীয় হচ্ছে, দেশে যেকোনোভাবেই হোক করোনার তৃতীয় ওয়েবটি ঠেকাতে হবে। কারণ আমরা জানি বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ব্রিটিশ, সাউথ আফ্রিকান ও ব্রাজিলিয়ান যে ভ্যারিয়েন্টটি ছিল সেটা ইতিমধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং ইতিমধ্যে বাংলাদেশে সর্বশেষ যেটি ধুকেছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, যেটাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগে বলেছিল ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট কিন্তু আজ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এটি ভ্যারিয়েন্ট অব কনসারন্ড। তার মানে হচ্ছে আগের থেকে এখন এই ধরনটি ৭০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। এখন গত বছরের কথা চিন্তা করেন। সে বছরে ইতালি, স্পেনসহ অন্যান্য অনেক দেশে কিন্তু এই রকম ভ্যারিয়েন্ট ছিলনা। তারপরেও কিন্তু হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছে। গত বছরে ঈদের সময়ও আমরা একই চিত্র দেখেছি। গত বছর কিন্তু বাংলাদেশে এই রকম ভ্যারিয়েন্ট ছিল না, তারপরেও আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কিন্তু বেড়ে গিয়েছিল। এখন এই বছরে যেহেতু ভ্যারিয়েন্ট এসে পড়েছে সুতরাং সংক্রমণ আরও বেশি হবে। তার মানে সামনে একটা বড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে যাচ্ছি। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে এখনি যদি আমরা একটু সচেতন হই, যার যার জায়গা থেকে ঈদটা পালন করি তাহলে সামনে আমরা কিছুটা হলেও এই সংক্রমণ রোধ করতে পারবো। 

অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন বলেন, আজকে সারা বিশ্ব যে মহামারিটির কাছে ধরাশায়ী হয়ে আছে, সেটা নিয়ে আজকের ভোরের পাতা সংলাপের বিষয় করোনায় করণীয়। করোনা আসলে একটি ছোঁয়াচে রোগ। এই রোগটির প্রাদুর্ভাব যতো বেশি আমরা মানুষের সাথে মিশবো ততো বেশি এটি সবার মাঝে ছড়াবে। দীর্ঘদিনের করোনা জনজীবনে একটি অভিশাপে পরিণত হয়েছে। এই ভাইরাসটি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনীতি ও শিক্ষা সকল কিছুর উপরই প্রভাব বিস্তার করেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। আর বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। আশঙ্কার কথা হলো করোনাভাইরাস এক বছরের বেশি সময় পরেও দুর্বল না হয়ে আরও প্রথম দফার থেকে বেশি মরণ-ক্ষমতা নিয়ে দেশে দেশে মানুষের ওপর হামলে পড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নেই। গত কয়েকদিনে করোনার ভয়াবহতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেজন্য লকডাউন দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লকডাউন করোনা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নয়। স্বাস্থ্যবিধি মানা অর্থাৎ মাস্ক ব্যবহার করা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত সাবান দিয়ে ঘন ঘন ধোয়া এসবই হচ্ছে করোনা প্রতিরোধের কার্যকর উপায়। করোনাকে অদৃশ্যমান বলে আমরা অনেকেই এর তেমন গুরুত্ব দিচ্ছি না, সে কারণে আমরা দেখতে পাচ্ছি শপিংমলে, ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য এইযে লাখ লাখ মানুষ এভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এটা কিন্তু একটা আত্মঘাতি বিষয়। আমাদের মনে রাখতে হবে জীবিকার চেয়ে জীবন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আতিয়ার রসুল কিটন বলেন, জীবনটা আমার এবং আমার পরিবারের। সরকার এখানে তার কিন্তু একেকটা পদক্ষেপ নেই। এর বাইরে আর কিছুনা। আসলে সত্যি কথাটা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ এখনো এর ভয়াবহতা বুঝে উঠতে পারছে না।  করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই তা মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, কোভিড-১৯ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং বাস্তবতার মাঝে ব্যাপক ব্যবধান। অর্থাৎ প্রস্তুতির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রস্তুতির কোনো শেষ নেই। আমাদের চেয়ে শতগুণ ভালো ব্যবস্থাপনার দেশ ইতালি। তারাও বলছে যে, তাদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। তারপর থেকে বাংলাদেশের মানুষকেও এই ভাইরাসের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে আমাদের যেসব সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে, আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোরও একই ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। সংকটের সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজেকে ও আশপাশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে সাবান ও পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুতে বলা হয়েছে ডব্লিউএইচওর নির্দেশনায়। এই পরিস্থিতিতে সরকার-জনগণ এবং দেশের সকল রাজনৈতিক দল একই সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যদি কাজ না করে, তাহলে করোনা মহামারির থেকে উত্তরণ সহসায় হবে বলে মনে হয় না। 

ডা. শারমিন রহমান অমি বলেন, কোভিড-১৯ একটি মহামারি। পৃথিবীর সকল দেশ এতে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে ভারত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের শিকার। বাংলাদেশের প্রায় পুরো সীমান্তই ভারতের সাথে। নানা উপায়ে এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই মানুষ আসা যাওয়া করছেন। এটি ঠেকাতে না পারলে কোনো লকডাউনই আসলে কার্যকর হবে না। করোনা এমন একটি রোগ যেটা বাচ্চাকে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে দেয়, স্ত্রীকে তার স্বামীর কাছ থেকে আলাদা করে দেয়। এমন একটি ভয়াবহ রোগ এটি। আগামী এক বছরের মধ্যে করোনা মহামারির ছোবল থেকে কিছু কিছু দেশ ও জাতি রক্ষা পেলেও করোনার প্রাদুর্ভাব একেবারে নির্মূল করা সম্ভব হবে না। ফলে করোনা মহামারির অবসান মানেই করোনার অবসান নয়। অধিকাংশ দেশে তা মহামারি আকারে থেকে যেতে পারে ক্ষুদ্র বা মাঝারি পরিসরে। এমনকি চলমান করোনার ভ্যাকসিনের সফলতা বিদ্যমান থাকলেও এটা ঘটতে পারে। বাস্তবতা হলো, এখনও রাস্তায় অনেকেই মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়ান। টেলিভিশনের সংবাদে দেখা গেছে, অনেকে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে শপিং মলে গেছেন। এ রকম জরুরি পরিস্থিতিতে খুব প্রয়োজন ছাড়া কারো শপিং মলে যাওয়া এবং তাও শিশুদের সঙ্গে নিয়ে— এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আবার রাজধানীতে মাস্ক পরার প্রবণতা দেখা গেলেও ঢাকার বাইরের চিত্র একেবারেই আলাদা। যেহেতু বাংলাদেশের মানুষের, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সাহস ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, অতএব তাদের ঘরবন্দি করে না রেখে, তাদের জীবিকা বন্ধ না করে, সবাই যাতে অবশ্যই মাস্ক পরে চলাফেরা করেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রথমত কঠোর হতে হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]