সোমবার ১৪ জুন ২০২১ ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শিরোনাম: বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ    অবশেষে নেতানিয়াহু যুগের অবসান    ধর্ষণ চেষ্টাকারীর নাম প্রকাশ করলেন পরিমনী    শেখ হাসিনার মুক্তিতেই বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছিল    ২৩৮ কোটি টাকায় মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হচ্ছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি!    কিছু দেশ সারা পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেই যুগ শেষ: চীন    পরীমণিকে ধর্ষণ করলো কে?   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
'খালেদা জিয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত বেআইনি'
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৯ মে, ২০২১, ৮:৫৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এ মতামত বেআইনি।

রবিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনে নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকার একটা ঠুনকো আদেশ দিয়ে বলেছেন, আইনের বিধান নেই। বিধান নেই এ কথাটা কোথায় আছে? ৪০১ ধারায় বিধান আছে কি নেই এটা তো বলা হয়নি। সরকার শুধু এটুকুই পারে, একটা কন্ডিশন দিতে পারে যে, হ্যাঁ, জটিল অসুখের জন্য মেডিকেল টিম ওপেনিয়ন (মতামত) দিয়েছে, বিদেশে চিকিৎসা দেয়া দরকার। চিকিৎসার পরে ফেরত আসতে হবে— এই শর্তটা যুক্ত করতে পারে। এছাড়া চিকিৎসার জন্য তাকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দেয়া হবে না, এটা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি ম্যাডাম খালেদা জিয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় নেত্রী, তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এই দায়ভারটা নেয়া উচিত হবে না। যদি একটা অঘটন ঘটে এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আরও বলেন, আর একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, তার (খালেদা জিয়া) মামলা কিন্তু এখনো চূড়ান্ত ফয়সালা হয়নি। বিচারিক আদালত তাকে সাজা দিয়েছে, আপিলটা পেন্ডিং আছে। পেন্ডিংয়ে এমনও হতে পারে তিনি আপিলে খালাস পেয়ে যাবেন। আমি এখনো মনে করি, সরকার এত বড় দায়ভার গ্রহণ করবেন না। তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া উচিত।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, আইনের কোনো বিধান নেই। কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে দেয়া হবে না। ৪০১ ধারাটা ফৌজদারি কার্যবিধির একটা ব্যাপক আইন। সেখানে নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাহী আদেশে মওকুফ করা যাবে, কমানো যাবে। উইথ কন্ডিশন অর্থাৎ শর্তসাপেক্ষে অথবা শর্তবিহীন।

তিনি বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করা হয়েছিল তার সাজা স্থগিত করে চিকিৎসার জন্যে। সেই চিকিৎসার সুযোগ তিনি পাননি। এখন তার অবস্থা অত্যন্ত জটিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেক্ষেত্রে সরকার আইনের বিধান নেই— এই যে কথাটা বলছেন, ৪০১ ধারায় ফৌজদারি কার্যবিধির, এটা সঠিক না।

এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, আইনের ব্যাখ্যাটা একটু মানবিকভাবে করতে হবে এবং ওখানে কোনো খানে লেখা নেই— সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে পারবে না। এরকম কোনো বক্তব্য নেই, এটা ওয়াইড পাওয়ার, ব্যাপক ক্ষমতা।

এর আগে রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে ৪০১ ধারায় দণ্ড স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে তাঁর সুবিধা মতো চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বাসায় থেকে কিংবা সুবিধা মতো চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েকদিন আগে করোনা আক্রান্ত হলে তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার আরেকটি আবেদন করেন বিদেশে নেওয়ার জন্য। সেটার আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখার জন্য আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। তারা মতামত দিয়েছেন, যে ধারায় তার দণ্ড স্থগিত রেখে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়েছে সেটা পুনরায় বিবেচনা করে বিদেশে পাঠানোর কোনও সুযোগ নেই। তাই আমরা তাদের আবেদনটি মঞ্জুর করতে পারছি না।

এর আগে সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর আবেদনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মতামত সম্বলিত নথি আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গত বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় লিখিত আবেদনটি নিয়ে যান খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। লিখিত আবেদনটি পাওয়ার পরপরই তা মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে রাতেই পাঠানো হয়।



গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেদিন তার বাসভবন ফিরোজায় আরও আটজন ব্যক্তিগত স্টাফও করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। পরে ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে।

৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

তবে খালেদা জিয়া আক্রান্ত হওয়ার ২৭ দিন পর তিনি করোনাভাইরাস মুক্ত হয়েছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত চিকিৎসক দলের একজন সদস্য শনিবার দিবাগত রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মোট তিনবার খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

ভোরের পাতা/ই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]