মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে    স্কুল খোলার পক্ষে ৯৭ ভাগ অভিভাবক     বিক্ষোভের মুখে বাড়ল ঈদের ছুটি    দেশের টাকাতেও করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে!    ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ঘাটে বাড়ছে ফেরি    চট্টগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩    শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের রাবার বুলেট, আহত ২৭   
দুই লাখ না দিলে ইয়াবা ফেন্সিডিল দিয়ে চালান দেবো, মুদি ব্যবসায়ীকে পুলিশ!
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ মে, ২০২১, ৯:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মুদি দোকানী আলমগীর হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সানারপাড় এলাকায় বসবাস করে আসছেন। এই এলাকাতেই তার ছোট্ট মুদি দোকান। পাশাপাশি একটি গরুর ফার্মও করেছেন তিনি কিছু দিন আগে। 

গত ১৬ এপ্রিল জুম্মার নামায আদায় করে নিজের মুদি দোকানে বেচা-কেনা করছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ রাজধানীর ডেমরা থানা পুলিশের এসআই সেলিম রেজা ও এ এস আই আবু বক্করসহ আরো কয়েকজন সদস্য এসে হাজির। আমার পরিচিত ছোট ভাই রুবেলকে নিয়ে আসে তারা। ওই পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে থাকা একজন সোর্স কিছু বুঝে ওঠার আগে আমার দোকানের দোতলায় উঠে গিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘স্যার পাইছি পাইছি’। কিন্তু তারা পেয়েছে সেটা আমাদের জানায় নি। এমনকি পুলিশ আসার খবরে আমার দোকানের জড়ো হওয়া লোকজনও সেটা জানতে পারে নি। কি পেয়েছে সেটা তাদের দেখায়ও নি।
পরে তারা আমাকে বলেন, ওসি স্যার থানায় যেতে বলেছে। আমি যেতে অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে তারা আমাকে যেতে বাধ্য করে। আমাকে থানায় নেয়ার পর আমার কাছে থাকা ১৩ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে আমাকে থানা হাজতে রাখা হয়। ইফতারের আগে আমাকে হাজত থেকে বের করে ২ লাখ টাকা দাবি করেন এসআই সেলিম রেজা ও এ এসআই আবু বক্কর। টাকা না দিলে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল দিয়ে কোর্টে চালান দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। আর টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে আসস্থ করা হয়। 

আলমগীর হোসেন বলেন, পুলিশের হুমকির পর আমি খুবই ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়ি। এ অবস্থায় আমি বাড়িতে খবর দিয়ে আমার পরিবারের লোকজনকে ডাকি। তারা দর কষাকষি করে দাবি করা টাকা ৯০ হাজারে নিয়ে আসে। আমার পরিবারের লোকজন সেই টাকা এ এসআই আবু বক্করের কাছে দেয়। টাকা নেয়ার পর আবু বক্কর বলে সকালে ছেড়ে দেব। কিন্তু সকালে এসআই সেলিম আধাকেজি গাঁজার মামলা দিয়ে আমাকে কোর্টে চালান করে। আমি এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলে  যদি এ বিষয়ে মুখ খুলি তাহলে আমার বিরুদ্ধে আরো বড় মামলা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 
অভিযোগ পত্র

অভিযোগ পত্র

জানতে চাইলে ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘ ধরে এই এলাকায় সুনামের সঙ্গে চলাফেরা ও ব্যবসা করে আসছি।  আমার বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় কোন মামলা দুরের কথা একটি জিডিও নেই। ঘটনার দিন সোর্স সুজা কাউকে কিছু না বলে দুই তলায় উঠে যায়। তার সাথেও কেউ যায় নি। সেখানে গিয়ে সে চিৎকার করে বলতে থাকে স্যার পাইছি পাইছি। কিন্তু সেখানে কিছুই ছিলনা। পরে পুলিশ সদস্যরা আমাকে থানা নিয়ে যেতে চায়। আমি প্রথমে যেতে রাজি হয়নি। তারা বলে ওসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করে চলে আসবেন এই আশ^াসে নিয়ে যায়। পরে থানায় নিয়ে উল্টো আচরণ শুরু করে। 

তিনি বলেন, আমার উপর সম্পূর্ন অন্যায় করেছেন তারা। আমার কাছে তারা কিছুই পায়। কেউ আমাকে এ ধরনের অপবাদও দিতে পারবেনা। যে আমি মাদকের সাথে জড়িত। তারা হুমকি দিয়ে আমার টাকাও নিলো আবার চরিত্রেও কালো দাগ দিলো। আমি এদের শাস্তি চাই।  

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই সেলিম রেজা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলমগীরের অভিযোগ মিথ্যা। আমরা গাঁজাসহ তাকে আটক করি।  তার কাছ থেকে কোন টাকা পয়সাও নেয়া হয়নি। 

একই কথা বলেন এএসআই আবু বকর। তিনি বলেন, আলমগীর আমাকে কোন টাকা দেয়নি। সে মিথ্যা কথা বলছে। 

সুজা নিজেকে পুলিশের সোর্স দাবি করে বলেন, আমরা সানারপাড়ে একজন ফেন্সিডিল বিক্রি করছে এমন খবরে সেখানে যাই। পরে সেখানে গিয়ে তাকে না পেয়ে চলে আসার সময় রুবেলকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে নিয়ে আলমগীরের দোকানে যাই। সেখানে গাঁজা পাওয়া যায়। পরে তাকে গাঁজার মামলা দেওয়া হয়। 



এক প্রশ্নের জবাবে সুজা জানায়, আলমগীর এর আগে ব্যবসা করতো কি না তা সে জানেনা। 

স্থানীয় লোকজন বলছেন, পুলিশের সোর্স হিসেবে সুজা এলাকায় ব্যাপক দাপট দেখায়। বিভিন্ন নিরিহ লোকজনকে মাদক মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে। তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। পুলিশের সোর্স হওয়ার কারনে তার বিরুদ্ধে মানুষ মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে।  

তবে ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আলমগীরের ভাই আমার থানার একজন সাব ইন্সপেক্টর। তার ছত্রছায়ায় সে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে। তাকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তার ভাই তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য তদবির করে। তার তদবির না শোনায় সে এই অভিযোগ করেছে।

ভোরের পাতা/এএম

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]