মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: দেশে করোনায় মৃতু ৩৩, কমল শনাক্ত    ঈদ কবে, জানা যাবে বুধবার    শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ না কাটতে হাইকোর্টের নির্দেশ    চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জবাবে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী    প্রথমবারের মতো চলল মেট্রোরেল    মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৬৩ শতাংশ    বাংলাদেশসহ ৪ দেশের ওপর কুয়েতের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা   
পদ্মায় প্রাণহানী: নৌ প্রতিমন্ত্রী কি দায়ী নন?
এইচ রহমান মিলু
প্রকাশ: সোমবার, ৩ মে, ২০২১, ৮:২৫ পিএম আপডেট: ০৩.০৫.২০২১ ৮:৩৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আজ ৩ মে সকালে শিমুলিয়া থেকে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোট বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা করার পর স্পিডবোটটি কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে এলে বালু টানা কার্গোর পিছনে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়।

কাঁঠালবাড়ী নৌপুলিশের ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।বাকিদের উদ্ধার এর চেষ্টা চলছে কিন্তু স্পিডবোটে কত জন যাত্রী ছিলো তা এখনো জানা যায় নি।

বেপরোয়া গতির কারনে চালক ঘাটের কাছে পৌছাবার পরও নিয়ন্ত্রন রাখতে না পারার কারনে নোঙ্গর করা কার্গোর পিছনে সজোরে ধাক্কা লেগে বোটটি উল্টে যায় এবং অল্প ক,জন যাত্রী ছাড়া প্রায় সকলেই নিহত হন। সাঁতার জানা অনেকেই আঘাতপ্রাপ্ত হবার কারনে ডুবে মারা যান। 

এখানে তিনটি বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যার কারনে এই দূর্ঘটনা-

বোটটি বেপরোয়া গতিতে চলছিলো।
বোটটি ধারন ক্ষমতার দ্বীগুন যাত্রী বহন করছিলো।
বোটটি তে কোন যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট ছিলোনা।

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, এসব দেখভালের দ্বায়িত্ব কার? শিশু সহ এই যে গোটা পরিবার মারা গেলো, এর জন্য দ্বায়ী কে বা কারা? কাদের গাফিলতির কারনে এমন নৌ দূর্ঘটনায় নিয়মিত প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে?

নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় যতই এদিক ওদিক দোষ চাপাবার চেস্টা করুক না কেন, মূল দ্বায় টা তাদের উপরেই বর্তায়। নিয়ম ও আইন থাকা সত্বেও কোন ধরনের যাত্রীবাহী নৌপরিবহনে লাইফ জ্যাকেট পরিধান আমাদের নজরে খুব একটা পড়েনা। বেশির ভাগ নৌযানে লাইফ জ্যাকেট থাকেইনা, দুএকটায় যদিওবা থাকে, তার বেশির ভাগ ছেড়া ও ময়লা বিধায় কোন যাত্রী তা পড়তে চাননা।

শাজাহান খান যখন নৌ পরিবহন মন্ত্রীর দ্বায়িত্বে ছিলেন সে সময়ে আমি জীবনে প্রথমবার স্পীড বোটে করে মাওয়া থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত গিয়েছিলাম “অপরাজেয় বাংলা”র একটি ত্রান কার্যক্রম উদ্বোধন করতে। সেবার আমি দেখেছি ঘাটে ঝুলানো থাকা লাইফ জ্যাকেট যেখান থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সকলকে জ্যাকেট পরিধান করে স্পীড বোটে উঠতে হতো। আমি সহ আমার সহযাত্রীরাও তাই করেছিলাম। 

তার মানে আইন ও নিয়ম যেমন ছিলো তা পালনের চিত্রও আমরা দেখেছি। তবে এখন কেন সেই চিত্র নেই? কেন বর্তমান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এসব বিষয়ে এতটা উদাসীন? গরীব লোক আর তাদের বাচ্চার মারা যায় বলে কি মন্ত্রী মহোদয়ের গায়ে লাগেনা? এই ২৬ টি জীবন কি তিনি বা তার মন্ত্রনালয়ের সকলে মিলে ফিরিয়ে দিতে পারবেন?

তারা ঘাট ইজারা দেন, বানিজ্য করেন ভালো কথা, অন্তত ঘাটের নিয়ম ও আইন কানুনগুলো কি তারা দেখভাল করতে পারতেন না? লাইসেন্সবিহীন কতগুলো নৌযান আজ দেশব্যাপী চলছে এবং অযোগ্য কত শত চালক এসব নৌযান চালাচ্ছেন তার দেখভাল কে করবে? 

মাননীয় নৌ মন্ত্রী বলবেন কি? আজ যদি এই ২৬ জন হত্যার মামলার প্রধান আসামী আপনাকে করবার দাবী করি তবে কি খুব বেশি অযৌক্তিক কিছু দাবী করা হবে?

যেদিন থেকে এসব দ্বায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীদের দায়ী করে মামলা শুরু হবে, সেদিন থেকেই এই দেশে এমন অকারন দূর্ঘটনা কমে যাবে এবং সাধারন মানুষের জীবন অনেকটাই নিরাপদ থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

নৌযান দূর্ঘটনা রোধে অত্যন্ত জরুরী ভিত্তিতে করনীয় কিছু সুপারিশ -

প্রথমত, ঘাটে পর্যাপ্ত পরিমানের পরিস্কার ও ব্যবহার উপযোগী লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করতে হবে এবং লাইফ জ্যাকেট পরিধান না করা কোন ব্যাক্তিকে নৌযানে উঠতে না দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, নৌযানের আকার অনুযায়ী সামঞ্জস্য রেখে তার ইঞ্জিন ব্যবহারের অনুমতি নিতে হবে, যাতে অতিরিক্ত গতির কোন ইঞ্জিন নৌযানকে বেপরোয়া গতিতে চালাতে না পারে।

তৃতীয়ত, নৌযান চালকদের প্রশিক্ষন পূর্বক যান চালাবার লাইসেন্স প্রদান করতে হবে, যাতে করে অযোগ্য ও আনাড়ী কারও হাতে নৌযান না পড়ে এবং যাত্রীদের জীবন ঝুকির মুখে না পড়ে।



চতুর্থত, এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে হবে যাতে এসব বিষয় অমান্যকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়।

আপাতত জরুরী ভিত্তিতে এই চারটি সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে প্রতি বছর নৌ দূর্ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা শুন্যের কোটায় আনা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

নৌযান দূর্ঘটনায় আর কোন শিশুর লাশের ছবি দেখতে চাইনা। দেখতে চাইনা তাদের স্বজনদের গগণবিদারী আহাজারী। নিহত সকলের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

লেখক: সমাজকর্মী/কলামিস্ট

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]