মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে    স্কুল খোলার পক্ষে ৯৭ ভাগ অভিভাবক     বিক্ষোভের মুখে বাড়ল ঈদের ছুটি    দেশের টাকাতেও করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে!    ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ঘাটে বাড়ছে ফেরি    চট্টগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩    শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের রাবার বুলেট, আহত ২৭   
মায়ের লাশ দেখতে গিয়ে স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে ফিরলো আদুরি
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩ মে, ২০২১, ২:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসে কাঁদছিলেন ৩৫ বছর বয়সী আদুরি বেগম। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ নেই। স্বজন হারানোর কান্না থামছেই না। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে দুই নৌযানের দুর্ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী তিনি। দুর্ঘটনায় তার স্বামী আরজু মিয়া (৪০) ও দেড় বছর বয়সী ছেলে ইয়ামিন প্রাণ হারিয়েছেন।

আদুরির বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মাইগ্রো গ্রামে। স্বামী–সন্তান নিয়ে থাকতেন ঢাকার হাসনাবাদে।

রোববার (২ মে) রাতে আদুরির মা মনোয়ারা বেগম মারা যান মায়ের লাশ দেখতে স্বামী–সন্তান নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। সকাল ৬টার দিকে অন্তত ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান।

এসময় স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখেন।

মায়ের লাশ দেখতে যাচ্ছিলো মেয়েটি। এখন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে। আমরা কী বলে সান্ত্বনা দেব তাকে? বিধাতা কেনো এমন করলো!



মৃত ২৬ জনের মধ্যে আছেন আদুরির স্বামী ও ছেলে। আর জীবিত উদ্ধার হন আদুরি। সকাল ১০টার দিকে আদুরি স্বামী-সন্তানের খোঁজে ছুটে যান নদীর তীরে। সেখানে কাউকে না পেয়ে যান দোতরা স্কুলের মাঠে। স্বামী–সন্তান নেই জেনে তার কান্না আর থামছিল না। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান আদুরির দুই চাচা ও ফুফু। তারা লাশের সারি থেকে আদুরির স্বামী আরজু মিয়া ও ছেলে ইয়ামিনকে শনাক্ত করেন।

আদুরির চাচা বলেন, ‘মায়ের লাশ দেখতে যাচ্ছিলো মেয়েটি। এখন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে। আমরা কী বলে সান্ত্বনা দেব তাকে? বাড়িতে একটি কবর খুঁড়ে এসেছি। ফোনে আরো দুটি কবর প্রস্তুত করতে বলেছি। বিধাতা কেনো এমন করল!’

আদুরি কান্না করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে ঢাকায় আটকা পড়েছিলাম। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামে যাচ্ছিলাম। দেড় বছরের ছেলে আমার কোলে ছিলো। স্পিডবোট চলছিল অতিরিক্ত গতিতে। আমি এক হাতে ছেলেকে ও আরেক হাতে স্বামীকে ধরেছিলাম। হঠাৎ সজোরে ধাক্কা লাগে। আমরা সবাই ছিটকে পড়ি। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে। সঙ্গে সঙ্গে নদীর পাড়ে গিয়ে শুনি, আমার সব শেষ।’

ভোরের পাতা/এএম

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]