মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে    স্কুল খোলার পক্ষে ৯৭ ভাগ অভিভাবক     বিক্ষোভের মুখে বাড়ল ঈদের ছুটি    দেশের টাকাতেও করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে!    ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ঘাটে বাড়ছে ফেরি    চট্টগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩    শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের রাবার বুলেট, আহত ২৭   
ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা
শিশুদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে বাবা মাকেই রোল মডেল হতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২ মে, ২০২১, ৯:৪১ পিএম আপডেট: ০২.০৫.২০২১ ৯:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শিশুদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে বাবা-মাকে সত্যিকারের রোল মডেল হতে হবে বলে মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি অনুযায়ি বাবা-মাকে শিশুদের ইমোশন বুঝে প্যারেন্টিং করতে হবে। শিশুকে ফেমিলি ভ্যালুজ দিতে হবে। শিশুকে কোয়ালিটি টাইম দিতে হবে। তার সাথে গেইম খেলা, মুভি দেখাসহ তার মতো করে বাবা-মাকেও চলতে হবে। সেক্ষেত্রে নিরাপদ ইন্টারনেট দেয়া সম্ভব। পর্নোগ্রাফি রোধে প্রয়োজনে কিছু সফটওয়ার রয়েছে, তাও ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুকে ভালো ইন্টারনেট, ভালো প্রযুক্তি দিতে হবে-এটা না হলে শিশুরা পিছিয়ে পড়বে। জেনারেশন পরিবর্তনের সাথে কালচার অনুযায়ি, বাবা মাকে পরিবর্তন হতে হবে। তার সামনে কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যাবে না, যেখানে যে নিয়ম কানুন রয়েছে তা মানতে হবে। শিশুকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রতিটি বাবা-মাকে সত্যিকারের রোল মডেল হতে হবে। 

শনিবার রাতে ‘সন্তানের মানুষিক বিকাশে বর্তমানের প্যারেন্টিং প্রাকটিস কতটা সহায়ক’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা এ মতামত দেন। “স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরামের” উদ্যোগে ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের পরিচালনায় এতে অংশ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার, ব্র্যাকের প্রাক্তন পরিচালক শিপা হাফিজা এবং শিশু এডোলেসেন্ট এন্ড ফ্যামিলি সাইক্রিয়াট্রিস্ট ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

ডা. ঝুনু বলেন, আগে ছিল যৌথ পরিবার, এখন দম্পতি পরিবার। তার সাথে কর্মজীবী বাবা-মা। এটা এখনকার পবিবারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। বাচ্চাদের পড়ার চাপ। এই যে প্রতিযোগীতা এটা বাবা-মা চাপিয়ে দেয়। তারা বলেন, ক্লাসে প্রথম হতে হবে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। কিন্তু বলে না তোমাকে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। এটা কিন্তু বিদেশে দেখিনা, শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রেক্ষপটে দেখা যাচ্ছে। সিঙ্গেল বাবা অথবা মায়েদেরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাছাড়া করোনাকালে বাবা মা দুজনে যদি বাসায় থেকে অফিস করে তারা কিন্তু ঠিক মতো সময় দিতে পারছেন না।  

তিনি আরো বলেন, এখন ওয়ানে ক্লাস হচ্ছে। ক্লাস করতে করতে দেখা যাচ্ছে শিশুরা ইউটিউব অথবা ফেসবুকে চেটিং করছে- এ কথা অনেক বাবা মায়ের কাছ থেকে প্রায়ই শুনতে পাই। তারা বলছেন, স্মার্টফোন দেয়ার ফলে শিশুরা প্রযুক্তির ওপর আশক্তি হয়ে পড়ছে। করোনা কালে গত দেড় বছর স্কুলে না যাওয়ার কারণে ঘরের মধ্যে থাকতে থাকতে শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ছে স্বাভাবিকভাবেই পড়াশুনাসহ সব কিছুতেই শিশুদের ছন্দপতন ঘটেছে। শিশুদের মতো বাবা মায়ের মেজাজও খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় বাবা-মা শিশুদের না বুঝে কখনো কখনো নির্যাতন করে বসছেন। আর পারিবারিক অশান্তি বেড়েই চলেছে।  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. ঝুনু বলেন, দেখা গেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বাবা মায়ের মধ্যে ডিভোর্সের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এটা কিন্তু সন্তানের সাথে নয়। সন্তান যেখানেই থাকবে বাবা মা উভয়কেই দায়িত্ব নিতে হবে। 

ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, শিশুদের ব্যক্তিত্বের বিকাশে বাবা মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাণীদের পার্থক্য হচ্ছে অন্যান্য প্রাণীরা সম্পর্ক তৈরী, আত্মীয়তা করা,  বা বন্ডিং তৈরী করার জায়গায় থাকে না, এটা মানুষের মধ্যে আছে। প্রাগতিহাসিককাল সিম্পল প্যারেন্টিং ছিল। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক কারণে ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে মানুষের চাওয়া পাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। এ বিষয়গুলো সন্তানের ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে, তার বিকাশের ওপর প্রভাব ফেলে। শৈশবে যদি কোনো শিশুর প্যারেন্টিং বিঘ্নিত হয়, প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় নিজেও গুড প্যারেন্টিং করতে পারবে না।



তিনি বলেন, আমরা এখন গুড, ব্যাড, পজেটিভ প্যারেন্টিং বলি না। আমরা এখন বলি রেস্পন্সিভ প্যারেন্টিং। শিশুর ইমোশন বুঝতে হবে, তার না বলা কথাগুলো বুঝতে হবে। এই শিশুরা কিন্তু আমাদের আগামী দিনের অর্থাৎ আমরা যে নিউ নরমাল লাইফ বলছি, তার কান্ডারি হবে। যখন করোনা ছিল না, তখন ভাবতাম আমরা নরমাল আছি। কিন্তু আমরা নরমাল না। আমরা তো এখন চরম এবনরমাল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি নিউ-নরমাল পৃথিবীতে আমাদের বয়সী মানুষদের খাপ খাইয়ে নিতে কষ্ট হবে। কিন্তু এখনকার শিশুরা সেই পৃথিবীতে নেতৃত্ব দেবে। এখন শিশুদের পর্যবেক্ষণ করা, তাদের অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে প্যারেন্টিং পরিবর্তন হতে হবে। শিশুরা তাদের আচরণ পরিবর্তন করবে না, শিশুদের মতো করে প্যারেন্টিং টা হতে হবে। 

শিশু এডোলেসেন্ট এন্ড ফ্যামিলি সাইক্রিয়াট্রিস্ট ডা. হেলাল বলেন, এটাই কিন্তু প্রথম প্রজন্ম যে বাবা মায়েরা সন্তানের হাতে ডিভাইস দিয়েছে। এই সন্তানরাও ডিভাইস পাওয়া প্রথম প্রজন্ম। প্রথম প্রথম আমাকে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বেগ পেতে হবে। কিন্তু তারপরও বলব, এই ডিভাইসকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের কাছে শুনতে চায় ডিভাইস মানেই খারাপ। কিন্তু আমি বলি, প্রত্যেক শিশুকে ভালো ডিভাইস, দ্রুত গতির ইন্টারনেট দিতে হবে। তা না হলে অন্যান্য দেশ এগিয়ে যাবে, আমাদের শিশুরা, আমার দেশ পিছিয়ে যাবে। অনেকে বলে, তাহলে তো শিশুরা আশক্ত হয়ে যাবে। তাদের আমি বলি, যখন বিদ্যুত আবিষ্কার হয়েছিল তখন তো বলা হয়েছিল ধরলেই বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যাব। তাই বলে বিদ্যুত ফেলে ঘরে কুপি জ্বালিয়ে রাখব? রাখি না। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুত চাই। বিদ্যুতের তারে একটি আবরণ দিয়ে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে, অন অফ করার জন্য সুইচ আছে, নিয়ন্ত্রণের জন্য রেগুলেটর আছে। বিদ্যুতের মতো করে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করতে হবে। অনেক বাবা মাকে বলতে শুনি আমি যেটা পারি না আমার চৌদ্দ বছরের ছেলে বা মেয়ে পারে। এই আত্মতৃপ্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনার সন্তান যেটা পারে তার চেয়ে আপনাকে বেশি পারতে হবে। প্রয়োজনে আপনাকে কোচিং করতে হবে। আপনি দক্ষ হন, সন্তানের সাথে গেইম খেলেন, তার প্যারালাল হন। সে যখন আপনার সঙ্গ পেতে চায়, তাকে দেয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় শিশুই আমাদের বলেন, বাবা মা আমাকে বুঝে না। এই বুঝার দায়িত্বটা বাবা মাসহ সবার নিতে হবে। এটা রাষ্ট্রকেও বুঝতে হবে।    

শিপা হাফিজা বলেন, বাবা-মা একা প্যারেন্টিং করতে পারব না। শিশুর স্কুল আছে, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজ  রয়েছে। অন্যান্য প্রযুক্তি তো আছেই| শিক্ষকদের কথা তো শিশুরা খুবই মান্য করে। সেক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতিতে শিশুরা ভ্যালুসটা শিখুক, বাবা-মায়ের সম্পর্ক কী হওয়া উচিত, বাসার কাজে শিশুরা কিভাবে বাবা মাকে সহযোগীতা করতে পারে-এটা স্কুলের কারিকুলামের সাথে যুক্ত হতে পারে। অনেক উন্নত দেশে এটা রয়েছে। এখান থেকে দেখা যাবে শিশুদের আচরণ উন্নতর হচ্ছে কিনা। তিনি বলেন, কোভিডকালীন সময়ে যে নতুন আচরণের মধ্যে আছি, সেখানে জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিচার ব্যবস্থায় সেই পরিবর্তনগুলো দেখতে চাই। এটা করা সম্ভব। যদি একটি পলিটিক্যাল সদিচ্ছা থাকে।

ভোরের পাতা/পি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  শিশু   পরিচালিত   বাবা মা   রোল মডেল   







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]