মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে    স্কুল খোলার পক্ষে ৯৭ ভাগ অভিভাবক     বিক্ষোভের মুখে বাড়ল ঈদের ছুটি    দেশের টাকাতেও করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে!    ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ঘাটে বাড়ছে ফেরি    চট্টগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩    শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের রাবার বুলেট, আহত ২৭   
আমার ভিন্ন উপলব্ধি!
মেজর (অব.) রেজাউল করিম ইবি
প্রকাশ: শনিবার, ১ মে, ২০২১, ১০:৪৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আমি আগেই বলে নিচ্ছি আমার এই লেখাটি জাতীয়, বিতর্কিত এবং অধিক আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোর  ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও তাদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে। আমার এই কথাগুলো ছোটখাটো ব্যক্তিগত পর্যায়ের ঘটনা বা দুর্ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে  জন্য প্রযোজ্য নয়।

যাইহোক, মুল কথায় ফিরি- আচ্ছা আমরা সবাই যে কোন কিছু হলেই সাংবাদিকদের দোষ দেই- আমরা বাস্তবে কি জানি বা খোঁজ নিয়ে দেখেছি যে মিডিয়ার প্রকৃত নিয়ন্ত্রন কাদের হাতে? সত্যিকার অর্থে কি আমরা জানি- বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়ার মালিক কারা ? আমরা কি জানি যে বাংলাদেশের মিডিয়ার নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের হাতে কতটুকু ক্ষমতা ন্যস্ত আছে ? জানি না! যদি তাই জানতাম তাহলে আমরা ঢালাওভাবে কখনই সাংবাদিকদের দোষ দিতাম না। কখনও কখনও আমি নিজেও তা করি, তবে সত্যের আলোর সময়ের সাথে সাথে আমাদের সত্যকে স্বীকার করতে শিখতে হবে ও জানতে হবে এবং সেক্ষেত্রে আমি কার্পণ্য করি না।
 
আজকে জাস্ট ভাবছিলাম - এতো অনিয়ম, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘিত অপরাধগুলো ধামাচাপা দিয়ে রাখার কারনে সাধারন মানুষ হওয়া সত্ত্বেও যদি আমার বিবেকের গহীনে এতো জ্বালাপোড়ন হয় তাহলে যারা সত্যিকার অর্থের পেশাদার সাংবাদিক তাদের অন্তরে কতই না যেন ব্যাথা অনুভব হচ্ছে! হয়ত নিশ্চয়ই তারা বিবেকের দংশনে ক্ষত বিক্ষত হচ্ছেন তবুও হয়ত তাদের চাকুরি বাচানোর কথা চিন্তা করে আমার মতো তারা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছেন না।

কারন আমি নিজ চোখে দেখেছি কতিপয় স্বনামধন্য সাংবাদিকের হঠাৎ বেকার হয়ে যাওয়ার কারনে কতটা দুর্বিসহ জীবন যাপন করেছেন; দেখেছি কিভাবে হয়রানির স্বীকার হয়েছেন; দেখেছি কিভাবে অপদস্থ ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন; দেখেছি তাদের চোখের পানি ও শুনেছি তাদের কান্নার আওয়াজ; এরা সবাই কিন্তু সরকার বিরোধী ছিলেন না বরং অনেকেই সরকারপন্হী হয়েও ম্যানেজম্যান্টের মন যোগার করতে ব্যর্থ হয়ে চাকুরী হারিয়েছেন। রিপোর্টার, উপস্হাপক, উপ-সম্পাদক থেকে শুরু করে প্রধান বার্তা নির্বাহি (CNE) পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের গুনী সাংবাদিকদের অসহায় জীবন দেখেছি; এমনও হয়েছে শুধু চাকুরি নয় - কারো কারো বাচ্চার দুধও কিনে দিয়েছি (যদিও লজ্জায় কখন চান নাই) আজকেও এমন একজনকে সহায়তা করতে হয়েছে।

তাই আমরা যারা সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে দোষ দেই তাদের একবার হলেও ভাবা উচিত বাংলাদেশে এই অবস্হার প্রকৃত দায় কার বা এই দায়ের কতটা এই সাংবাদিক কর্মীদের বর্তায় ? 

আপনারা কি জানেন- বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়ার মালিকরা ব্যবসায়ী? জানেন না। তাই সমস্ত নিয়ন্ত্রন থাকে মালিকদের হাতে সেখানে সাংবাদিকরা হচ্ছেন তাদের হাতের পুতুল, সেই পুতুলদের সেই অধিকার নেই স্বাধীনভাবে কাজ করার। শুধু তাই নয়, আমাদের টিভি ইন্ডাস্ট্রির মালিকানা লাইসেন্সগুলোর অধিকাংশই ব্যবসায়ী বা রাজনৈতিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণে তার সাথে আছে সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রনতো বটেই। অথচ শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের সব দেশেই সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে সাংবাদিকদেরর  হাতে (অথবা সাংবাকিতায় যাদের  অভিজ্ঞতা আছে)। অতীতে কিন্তু এই নিয়ন্ত্রন সাংবাদিকদের হাতেই ছিল, এমনকি স্বাধীনতার পুর্বের সেই পরাধীন বাংলাদেশেও (পূর্ব পাকিস্তান) এর চেয়ে ভালো অবস্হা ছিল; আর তাই তো আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে সাংবাদিকদের ত্যাগ অতুলনীয় ও অনস্বীকার্য । তখন মিডিয়া বা সংবাদ নিয়ন্ত্রনের দায়ও ছিল সাংবাদিকদের আবার ব্যর্থতার দায়ও ছিল সাংবাদিকদের। কিন্তু এখন দায় নেওয়ার ক্ষেত্রে কিন্তু সেই মালিকদের পাবেন না বরং সমস্ত দায় চাপিয়ে দিবে সাংবাদিকদের উপর। এখন প্রশ্ন সেই সকল মালিকদের অপরাধের দায় সাংবাদিকদের কেন নিতে হবে ? বলত পারেন ?

আর যদি আপনি সাংবাদিক হয়ে সেই সত্য প্রকাশ বা প্রতিষ্ঠিত করতে চান তার আগে আপনাকে ভাবতে হবে আপনি শুধুই সাংবাদিক নন আপনি একজন কর্মচারীও বটে আর এটা না ভাবতে পারলে আপনার চাকুরি থাকবে না। এখন একবার ভাবুনতো ঐ সকল বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধেই যদি কোন নিউজ বা রিপোর্ট  তৈরী হয় তখন ঐ সাংবাদিকের কি অবস্হা হবে ? চাকুরী হারাবে ? নাহ- চাকুরী হারানোর পাশাপাশি পালিয়ে বেড়াতেও হতে পারে।

আপনি হয়ত বলবেন- রিজিকের মালিক আল্লাহ, আল্লাহ সর্বোময় ক্ষমতার মালিক সুতরাং তিনিই রক্ষা করবেন, তিনিই একটা ব্যবস্হা করবেন।।

ভাই রে এখন একটু বাস্তাবতায় ফিরি- সবাইকে এতো ঈমানদার ভাবার কিছু নাই!



আমি এখন আপনাদেরকে থিয়রি অব রেশনালাইজেশন (Theory of Rationalisation) বুঝাইতে আসি নাই; আর আপনাদেরকে বুঝাতে চাইলেও হয়ত বুঝতে চাইবেন না; শুধু এতটুকু বলব- আপনি আপনার সকল Collectives values গুলোর মাধ্যমেই কিন্তু আপনি আপনার Best choice of means টা কেই বেছে নিবেন, তাই না ? 
কে কোন ঈমানের তৈরি তা দিয়ে সবকিছু বিচার করলে হবে না; যখন পুরো সিস্টেমটাই কলুষিত; আপনার চোখের সামনে যখন আপনার বউ বাচ্চার চেহারা, তাদের স্কুলের বেতন, তাদের খাওয়া খরচ ও বাসা ভারার কথা মনে পড়বে তখন এই উপদেশ হাজার সত্য হলেও মানতে ইচ্ছা করবে না।

কোন সিস্টেম বদলাতে হলে সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে, একক কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে দায়ী করলে তা অযৌক্তিক ও অসমান্তরাল হবে।

তবে আমি মনে করি এই মুহুর্ত সকল পেশাজীবি সাংবাদিকগণের উচিত ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং তাদের সেই অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা যে ঐতিহ্যে সাংবাদিকরা ছিল বাংলাদেশের মানুষের বিবেকের আয়না আর সেই আয়নায় আমরা আমাদের সব শ্রেনী-পেশার মানুষের ভুল-ত্রুটি দেখতে পেতাম এবং সাথে সাথে তাদের ভুলগুলোও শুধরে নেওয়ারও সুযোগ পেতো।

(স্ট্যাটাসটি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মেজর (অব.) রেজাউল করিম ইবি এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া)

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]