মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে    স্কুল খোলার পক্ষে ৯৭ ভাগ অভিভাবক     বিক্ষোভের মুখে বাড়ল ঈদের ছুটি    দেশের টাকাতেও করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে!    ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ঘাটে বাড়ছে ফেরি    চট্টগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩    শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের রাবার বুলেট, আহত ২৭   
স্বল্প আয়ের মানুষের পাতে ভাত নেই, হুতাশায় জরাজীর্ণ
এম এ মুছা, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ৮:০৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

প্রায় এক বছরের বেশি সময় পার হলো করোনা ভাইরাস বিশ্বকে কাঁপিয়ে তুলেছে। দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক জীবন প্রণালী সব আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। চতুর্দিকে মৃত্যুর মিছিল,মানুষের হাহাকার আর্তনাদ। দিন যতই যাচ্ছে ততই এ করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের হার বেড়েই চলছে। 

কিন্তু লকডাউন করোনা থেকে মানুষকে মুক্ত করলেও বিপাকে পড়ছে দেশের স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। তাদের পাতে ভাত নেই। এসব মানুষ প্রতিনিয়ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রম বিক্রি করে সংসারের চাকা সচল রাখে। প্রত্যহ সকাল হলে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবি মানুষের মাথায় চিন্তার ভাজ পড়ে যায় পরিবারের সদস্যদের মুখে ভাত দিতে হবে। চিন্তা মাথায় নিয়ে শ্রম বিক্রি করে যান তারা। কোন একদিন শ্রম বিক্রি না করতে পারলে,স্বল্প আয়ের শ্রমজীবিদের চুলায় আগুন জ্বলে না। দেশে লক্ষ লক্ষ স্বল্প আয়ের শ্রমিক রয়েছে। তারা প্রত্যেক দিন শ্রম বিক্রি করে তাদের সংসারের চাকা সচল রাখে। তাই সকল মানুষের পেটের হাহাকারের নিকট মৃত্যুর কোন ভয় নাই। এদের কাছে কোন ভাইরাসের ভয় নেই। 

এসব মানুষের ভয় একটাই পরিবারের মুখে ভাতের ব্যবস্থা করে না দেয়াটা। তাই স্বল্প আয়ের শ্রমজিবী মানুষ সকালের সূর্য উদয়ের সাথে সাথে শ্রম বিক্রির জন্য বেরিয়ে পড়ে। স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষের এখন গলার কাঁটা হয়েছে লকডাউন। দেশের সরকার মানুষকে বাঁচাতে যখন লকডাউন দিয়েছে তখনই এ সকল স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়েছে। লকডাউন খেটে খাওয়া মানুষের পেটের ভাত যোগাবে না। এসব স্বল্প আয়ের মানুষ শ্রম বিক্রি করতে না পারলে কি খাবে তারা? লকডাউন খেটে খাওয়া মানুষের নিকট আশির্বাদ নয়,যেন অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। 

ভ্যান শ্রমিক সাদ্দাম হোসেন বলেন,আমাদের কাছে করোনার কোন ভয় নেই,কিন্তু পেটের ভাতের ভয় আছে। এক বেলা কাজ করতে না পারলে পরিবারের মুখে আহার তুলে দিতে পারবো না। করোনার ভাইরাস থেকে বাঁচতে সরকার দেশে লকডাউন দিয়েছে এটা আমাদের ভালোর জন্য হয়তো। কিন্তু কি করবো? কাজ বন্ধ থাকলে আমাদের অনাহারে থাকতে হবে। আমাদের তো আর একবেলা দু'মুঠো খাবার তুলে দিবে না কেউ। 



নছিমন চালক আনোয়ার বলেন, লকডাউন, করোনা ভাইরাস এসব কিছুই বুঝি না। ঘরে ভাত নেই,রাস্তায় নামলে পুলিশ পিডায়,কেউ আমাগো দুঃখ বুঝে না। আমার ঘরে বেশ ক'দিন হলো চাল নেই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা খাবো কি ভেবে পাইনা? আমার মতো এসব শ্রমিক দিন মজুরের দায়ভার কে নেবে?

বেলকুচি পৌর এলাকার ফল ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী প্রতিবেদককে জানায়,বেচা কেনা নেই, মন ভাল নেই। ফলগুলি পঁচে যাচ্ছে। লকডাউনে মানুষ বাজারে আসে না। মানুষের কর্ম বন্ধ, কেনার সামর্থ হারিয়েছে ফেলেছে। তারা এগুলি না কিনলে আমাদের ব্যবসা হবে কি করে। আমরা ভাল নেই দিন দিন আমরা বিপাকে পড়ে যাচ্ছি। কবে আমরা লকডাউন করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবো আল্লাহ ভাল জানে। 

বেলকুচি পৌর এলাকার মুকুন্দগাঁতী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ প্রতিবেদককে জানান,করোনা, লকডাউন পুলিশের তাড়া আর পারছি না। একদিকে যেমন মৃত্যুর ভয় অন্যদিকে ব্যবসা বাণিজ্য কিছুই নেই। কি করবো ভেবে পাই না। কবে এ থেকে পরিত্রাণ পাবো তা অজানা।

ভোরের পাতা/এএম

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]