শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা    কমেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা    কমেছে মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত     বাংলাদেশের নতুন কোচ অস্কার    সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে মিললো দুই যুবকের মরদেহ    ইভ্যালির রাসেল-শামীমা ৩ দিনের রিমান্ডে    বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় চুরমার অটোরিকশা, নিহত ২   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আওয়ামী লীগে ‘সুবর্ণ শুদ্ধি অভিযান’ জরুরি
উৎপল দাস
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১, ১২:২৬ এএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২১ ১২:২৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দল নিজ দলের বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে খোদ আওয়ামী লীগেরই ভেতরে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থা থেকে আওয়ামী লীগে ‘সুবর্ণ শুদ্ধি অভিযান’ জরুরি বলে মনে করেন দলটির হাইকমান্ড। ব্যাপকহারে মূল দলসহ ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনা বারবার গ্রহণ করা হলেও অদৃশ্য কারণে তা থমকে গেছে। তবে আওয়ামী লীগকে বিতর্কমুক্ত রাখতেই এ অভিযানের বিকল্প নেই বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। 

দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ভোরের পাতাকে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কয়েক ধরনের মানুষের অনুপ্রবেশ ঘটে। তাদের মধ্যে একটি অংশ ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা আদায় করতেই দলে যোগ দেয়। অনেকে কখনোই রাজনীতি করেনি, তাদের বিষয়টাকে অনুপ্রবেশ বলা যাবে না। আরেকটি শ্রেণি দলের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লুটতে চায়। তাদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সতর্ক রয়েছে। এছাড়া যেকোনো কমিটিতে এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অতীত এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েই পদায়ন করা হচ্ছে। আগামী সম্মেলনের আগে এবং পরে এই বিষয়টি নিয়ে আরো জোরদার পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। 

সুবর্ণশুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ভোরের পাতাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী যারা আছেন তারা কেউ আর সুযোগ নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে কারা কারা রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের পক্ষে গোপনে কাজ করছেন, তাদের তালিকা করা হবে। আগামী সম্মেলনের আগেই আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যারা বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল নয়, তাদের তালিকা করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের আওয়ামী লীগ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। বারবার তাদের নেতিবাচক কর্মকা-ের কারণেই আওয়ামী লীগ সমালোচনার মুখে পড়ছে। 



উদাহরণ হিসাবে, ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেওয়া বাটপার সাহেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, একজন সাহেদের কারণে আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলকে নিয়ে কেউ কথা বলবে, এটা কখনোই কাম্য হতে পারে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কে কি অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে, তাদেরও খুঁজে বের করা হবে। এবারের উপকমিটিতে কোনো সাহেদের মতো কেউ এখনো ঠাঁই পায়নি বলেই আমরা জানি। যদি কেউ থেকে থাকে, তাকেও বহিষ্কার করা হবে। এদিকে, আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদক পদমর্যাদার নেতা ভোরের পাতাকে বলেন, বাংলাদেশে এখন যেদিকে তাকাই শুধু আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগই দেখি। প্রতিদিনই কমপক্ষে এক হাজারের মতো লোককে বিদায় করতে হয় কথা বলে। সবাই এখন পদের জন্য আসে। কেউ এসে বলে না, আমি নেত্রীর কর্মী হয়ে রাজনীতি করতে এসেছি।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসাবে দলের আদর্শিক কর্মী কারা, কারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী সবাইকে চিনেন। একজন ওয়ার্ডের কর্মীকে তিনি নাম ধরে বলতে পারেন। আবার কোনো প্রেসিডিয়াম সদস্য যদি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে নেতা বানানোর জন্য অনুরোধ নিয়ে আসেন, তখন তাকে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে পুরোপুরি বলে দিতে পারেন। শেখ হাসিনার কাছে সবারই বায়োডাটা আছে। এই কারণেই তিনি ভুল করেন না। দলের এক সভায় দলের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির এক লোককে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তখন শেখ হাসিনার ধমকও সেই প্রেসিডিয়ামকে খেতে হয়েছিল। তিনি ক্যাসিনো কান্ডে জড়িতদের যেভাবে শায়েস্তা করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে এবার অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই এই অভিযান পরিচালনার কথা ভেবেছেন। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই এদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর এক ডাকে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মূল ভিত্তিগুলোর ওপর বরাবরই আঘাত করেছে পরাজিত শক্তিরা। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাত করে বাঙালির হৃদয়ে আঘাত করেছে। তাই আওয়ামী লীগ যদি এখনই এই শুদ্ধি অভিযান না চালায় তাহলে ভবিষ্যতে দলের মধ্যে গাপটি মেরে থাকা অনুপ্রবেশকারীরা গোপনে বা সুযোগ আসলে প্রকাশ্যে আঘাত করবে। তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী এবং মুজিব আদর্শের লোকজন ছাড়া কেউ যেন আওয়ামী লীগে ঠাঁই না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ করেছেন তারা।

ভোরের পাতা/পি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  আওয়ামী লীগ   সুবর্ণ শুদ্ধি অভিযান   জরুরি  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]