শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ৯ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: পিআইবির ডিজি পদে ফের নিয়োগ পেলেন জাফর ওয়াজেদ    সাম্প্রদায়িক উগ্রগোষ্ঠীকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে: এম এ লিংকন মোল্লা    ধর্ম ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না    ফর্মুলা গোপন রাখার শর্তে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন করবে বাংলাদেশ    সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বরিশালে বদলি    তালিকা পাঠান, অভিযুক্ত সকলকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জেলে যাব: বাবুনগরী    ব্যাংককে হেফাজত-বিএনপি গোপন বৈঠকে ষড়যন্ত্র, নেপথ্যে ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান   
নারী হোক শক্তি...
মোশারফ হোসাইন
প্রকাশ: রোববার, ৭ মার্চ, ২০২১, ৭:২৬ পিএম আপডেট: ০৭.০৩.২০২১ ৭:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

‘তুমি মেয়ে মানুষ এটা পারবে না’ কথাটি শুনে বড় হতে হয় অনেক মেয়েদের। পারা না পারার গ্লানি নিয়ে বড় হতে হয় সমাজে। ঠিক বেঠিক আর কৈফতের মারফতের পাল্লায়পরে জীবনকে থামিয়ে দেওয়ার নজিরের শেষ নেই, অন্তহীন জীবনের সম্ভাবনাকে খুঁজে নিয়ে জেগে থেকেছেন অসংখ্য নারী, ব্যর্থতার পথ হেটে ছুঁয়েছেন সাফল্যের হাত। নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে পাশে দাড়িয়েছেন মানুষের। এমন ৪জন নারীকে পরিচয় করিয়ে সকল নারীদের ‘৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা রইলো, নারী হোক শক্তি’।

সরকারী কর্মকর্তা ‘আক্তার উননেছা শিউলীর এগিয়ে চলা 
এইচএসসি পরীক্ষার আগেই বিয়ে হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে দেশের ২য় তম হন, ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। সরকারি কর্মকর্তাদের জাপান সরকারের স্কলারশিপ ‘দ্যা প্রজেক্ট ফর হিউমান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপের প্রতিযোগিতা ও পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে জাপানে পড়াশোনা করছেন অর্থনীতি বিষয়ে এবং গবেষণা করছেন নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে।

ঝরে পরা শিউলী ফুলের মতোই প্রায় ঝরে যাচ্ছিল নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় নিজের মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে অনেকটা যুদ্ধের মতোই আপনজনদের সঙ্গে মানসিক যুদ্ধ করতে হয়েছে। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করার কিন্তু বিয়ে হয়ে যায় এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই, তখন স্বপ্নটি পড়ে থাকে শুধুই অবহেলায়। শ্বশুড়বাড়ি থেকে পড়াশোনা করাতে নারাজ ছিল পরিবারের সদস্যরা, পড়াশোনার হাল না ছেড়ে বাবা মায়ের সহযোগিতায় সংসারের দশদিক সামলানোর পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাই, গল্পের ছলে এমনটিই বলছিলেন ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হওয়া প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী। 

আক্তার উননেছা শিউলী বলেন, পরিবার ও সমাজ নারীদের সুযোগ তৈরি করে দিলে তারাও পারবে, নারীরা পারে। বড়বড় জায়গাতে তো আর শারীরিক শক্তির প্রয়োজন নেই, শুধু প্রয়োজন মেধা, সততা, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতার। বিমানের পাইলট থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে, তবুুুও দেশে এখনও নারীরা অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এবং বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এখনো বলা হয় তুমি মেয়ে মানুষ তুমি এটা পারবেনা।  আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার থাকাকালীন সময়ে কোন স্কুলে পরিদর্শন করতে গেলে আগে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার দেওয়ার চেষ্টা করেছি, তাদের বুঝিয়েছি নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার ব্যাপারে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বলেছি বিয়ে নিয়ে তারাহুড়া করার প্রয়োজন নেই, নিজে যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে ভাল জীবন সঙ্গী এমনিতেই পাওয়া যায়।  তবে কর্মজীবনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। গ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের মনোভাব একখনোও সেই আদিকালের মতোই। তারা এখনো বুঝতে চান না দিন বদলে গিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে অসচেতনতার অন্যতম ও প্রধান একটি হল বাল্যবিবাহ। তবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমি নিরন্তর কাজ করে গিয়েছি। আমি তাদের বুঝিয়েছি শুধু ১৮ বছর না মেয়ে মাস্টার্স পাস করে ভালো একটা চাকুরী করলেই তখন বিয়ে দিবেন; সেসময় আপনাদের পাত্র খোঁজতে হবে না, পাত্রপক্ষরা আপনাদের মেয়েকে খোঁজে নিবে।  তবে অনেক মেয়েই আবেগের বসে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে; বিয়ের দিকে তাদের মন চলে যায়। কোন স্কুলে পরিদর্শনে গেলে শিক্ষার্থীদের এই বিষয় গুলোতে সচেতন করার চেষ্টা করেছি প্রতিনিয়তই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন সময়ে অসংখ্য বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সরকারি বিসিএস কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ জাপান সরকারের স্কলারশিপ ‘দ্যা প্রজেক্ট ফর হিউমান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপ বাই জাপানিজ গ্রান্ট এইড (জেডিএস) এ’ আবেদন করতে পারেন।  প্রতিযোগিতা ও পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হলেই কর্মকর্তাদের পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয় জাপানে। আক্তার উননেছা শিউলী সেই প্রক্রিয়াতে পড়াশোনা করতেই জাপানে রয়েছেন। জাপানে পড়াশোনা করছেন তিনি অর্থনীতি বিষয়ে এবং গবেষণা করছেন নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে। দেশে ফিরে সেই শিক্ষাগুলো কাজে লাগাতে চান তিনি। এই কর্মকর্তা বলেন জাপানের আদলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে আমার, বিশেষ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম নীতি, কর্মক্ষেত্রে নারী- পুরুষ সমতায়ন, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি, আইনশৃঙ্খলা ও মানুষের সেবা নিশ্চিত করণে আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে। আমি যখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলাম তখন অনেক নারীই অভিযোগ নিয়ে আসতো। এমনকি রাতবিরাতে ফোন আসতো নারী নির্যাতনের বিষয়ে, তাদের অসহায়ত্ব দেখে আমার উপলব্ধি হয়েছে; প্রত্যেক উপজেলায় অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য আলাদা একটি ‘উইমেন ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার’ থাকলে ভাল হয়। যাতে নির্যাতিত ও নিপীড়িত নারীরা খুব সহজ ও অল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্খিত সেবা পেতে পারে। আশাকরি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ভাববে। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

ব্র্যাককর্মী ‘সুফিয়া বেগম’ এর থেমে না থাকা
ব্র্যাক কর্মী সুফিয়া বেগম এর বিয়ে হয়েছিল ছোটবেলায়, বয়স তখন ১৫ থেকে ১৬ই হবে। প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের ভাষা খুঁজে না পেয়ে মুখ বুজেই বিয়ে করতে হয়েছে। সুফিয়া তার নিজের আত্মশক্তি আর মনোবলের প্রতি আস্থা রেখে, সমাজের কঠোর চোখকে এড়িয়ে এখন স্বাধীন জীবন যাপন করছেন, কাজ করে যাচ্ছেন নারীদের জন্যেই। মানুষের সমালোচনাকে পিছনে ফেলে মটরসাইকেলে হাত রেখেই দুরন্ত পথে প্রতিদিন ছুটে চলেছেন এই নারী। 

সুফিয়া বলেন, পৃথিবী এগিয়ে যাওয়ার তুলনায় বাংলাদেশেরও অনেক উন্নয়ন হয়েছে,  আমার ভাবতে অবাক লাগে দেশের ৭০ ভাগ মেয়েরা এখনো বাল্যবিবাহের শিকার, করোনা সংক্রমনের পর স্কুল কলেজ বন্ধ ছিল, গোপানে অনেক মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে, এটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না, এখন তো বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে অনেকে সমর্থন করে এবং এগিয়েও আসে। আমার যখন বিয়ে হয় তখন তো এমন ছিল না,  কোনো উপায় ছিলানা, আমার করারও কিছু ছিল না। এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার আগেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। শতপ্রতিকূলতা পেড়িয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে। ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষগতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন, মাঝে ক’দিন টিউশনী করেও সংসারের হাল ধরেছিলেন এই নারী। পড়াশোনা শেষ হলে ব্র্যাক এর মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির সংগঠক হিসেবে নিয়োগ পান, নীলফামারী জেলায় কাজ করেছেন জেলা ব্যবস্থাপক হিসেবেও। বতর্মানে কর্মরত আছেন রাজশাহী বিভাগের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির বিভাগীয় প্রধান হিসেবে,  রাজশাহীর ৮টি জেলায় নারীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সুফিয়া বেগম নিজেই বাল্যবিবাহের সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নারীরা এখনো আইন সম্পর্কে জানেনা, তারা যেন ন্যায্য অধিকার আর বিচার পায় সেই লক্ষ্যে কাজ করি এবং তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করি। নির্যাতিত নারীদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য তাদের কাউন্সিলিং করে থাকি। এই কর্মসূচিতে এসে নারীদের সহযোগিতা করতে পেরে আমি গর্বিত। ব্র্যাক আমাকে সহযোগিতা না করলে হয়ত আমি এতোদূর আসতে পারতাম না, সামনের দিনগুলোতে এই অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে আমি আরও এগিয়ে যেতে চাই। নারী নির্যাতন ও শোষণ মুক্ত এক পৃথিবী দেখতে চাই, সেজন্য কাজ করতে চাই।    

থমকে যাওয়া ‘ক্রিকেটার বীথি’র সংগ্রাম
ক্রিকেটে নিজের স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল অর্থ, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আত্মহত্যা করতে গিয়েছেন বীথি, নিজের স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া ও মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছেই আত্মহত্যার পথ থেকে বাচিঁয়ে নেয়। বীথি বলেন, পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে বাবা মায়ের সুখ ও আত্মসম্মানবোধের কথা চিন্তা করে আত্মহত্যা করা হয়নি, সেদিন আত্মহত্যা করলে আজ ক্রিকেটার বীথি হতে পারতাম না, হতাশায় যারা আত্মহত্যার মতো পথে যাওয়ার  চিন্তা করেন তাদের জীবনের শেষ থেকেই আবার শুরু করা উচিৎ, শেষ থেকে শুরুই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিবে। আলাপচারিতায় এমনটিই জানাচ্ছিলেন, দেশে নারীদের একমাত্র ক্রিকেট একাডেমী ‘ওমেন ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও ক্রিকেটার আরিফা জাহান বীথি’।

রংপুরের শৈশব কাটানো এই নারী নিজের শহরেই চালাচ্ছেন দেশের একমাত্র নারী ক্রিকেট একাডেমী। তার একক প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা এই ‘ওমেন ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমীতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ২৫০জন নারী। ক্রিকেটে যেন ছেলেদের সাথে অনুশীলনের ইস্যু পরিবার ও সমাজ থেকে না আসে এবং অর্থ সংকটে যেন কোন মেয়ে ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত নাহয় সেজন্য নিজেই নারীদের ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করতে বিনামূল্যে অনুশীলন করিয়ে যাচ্ছেন বীথি। সালেমা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে পরেন আরিফা জাহান বীথি, স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ক্রিকেটে ভালো পারফারম্যান্স করায় জেলা পর্যায়ে খেলার সুযোগ পান, এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি চেষ্টা সাহস আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছেশক্তি দিয়ে বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে যান ক্রিকেটে। ২০১০ সালে পেশাদার লিগ খেলা শুরু করেন। ঢাকা প্রিমিয়ারলিগ, ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট একাডেমিতে ফার্স্ট ডিভিশন খেলেছেন বীথি। কিন্তু ২০১৭ সালে হঠাৎ করেই ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশনের এক ম্যাচ চলাকালীন সময়ে নাক দিয়ে রক্ত ঝড়তে থাকে বীথির। ডাক্তার সব পরীক্ষা করে বলেন নাকে ইনফেকশন হয়েছে, খেলা চালিয়ে গেলে বড় ক্ষতি হতে পারে, ফলে ক্রিকেট ছেড়ে দিতে হয় তার।

আলাপচারিতায় বীথি জানান, ক্রিকেট আসার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান স্কুলের, স্কুলের শিক্ষক ও বাবা মায়েরা সমর্থন না দিলে হয়ত এতোদূর আসা হতো না, ইচ্ছে ছিল আইনজীবী হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর শেষমেশ ক্রিকেট দিয়েই মানুষের পাশে তিনি। ক্রিকেটের বাইরেও সমাজের নিবেদিত প্রাণ হয়ে অসহায় মানুষের জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। 

‘রিয়েল লাইফ হিরো আখিঁর’ বদলে যাওয়া জীবনধারা
আখির অসুস্থ বাবার পক্ষে সংসার চালানো সম্ভব ছিল না। তাই মায়ের সাথে মাছ কোম্পানিতে মাছ বাঁছাইয়ের কাজ নেন ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আঁখি। এরপর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়াল্ড ভিশনের কাছ থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন পোশাক তেরির কাজ। বাড়িতে বসে বিভিন্ন শৌখিন জিনিস তেরি করতে শুরু করেন। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে কাজ কমে যায়। সংক্রমণের শুরুর দিকে খুলনাসহ সব জায়গাতেই মাস্ক সংকট দেখা দেয়। ৫ টাকা দামের মাস্ক ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। রূপসা উপজেলার গ্রামের মানুষের এত দাম দিয়ে মাস্ক কিনে ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না। ওই সময় সেলাই মেশিন দিয়ে মাস্ক তৈরি শুরু করেন আঁখি; যা কারও কাছে নামমাত্র মূল্যে, অনেককে বিনামূল্যে বিতরণ শুরু করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের হাত ধরে এই তথ্য পৌঁছে যায় জাতিসংঘে। আঁখিকে দেওয়া হয় 'রিয়েল লাইফ হিরো'র স্বীকৃতি। জাতিসংঘের রিয়েল হিরো স্বীকৃতির পর বদলে যায় আখির জীবনধারা।  

আখির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন গার্মেন্টস দেওয়ার যেখানে দরিদ্র অসহায় নারীরা কাজ করে সাবলম্বী হবে, আমার মতো মেয়েদের হাতের কাজ সেলাইয়ের কাজ শিখিয়ে সাবলম্বী করতে চাই। 

আখির মানবিক কাজের গল্প আর স্বপ্ন জানার পর এগিয়ে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, তিনি আঁখিকে সংবর্ধনা দেন, সংবর্ধ্বনা অনুষ্ঠানে আখির পরিবারের জন্য স্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, এবং আঁখিকে আটটি গার্মেন্ট মেশিন ও পাঁচটি বাটারফ্লাই সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছেন। 

আখি জানান, এখন তার বাসার কাজ চলছে। এমপি স্যার জায়গার ব্যবস্থা করে দিলে গার্মেন্ট এর কাজ শুরু হবে  আর সেখানে কাজ করবে অসহায় ও পিছিয়ে পরা নারীরা।

ভোরের পাতা/এএম 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  নারী হোক শক্তি   আক্তার উননেছা শিউলী   সুফিয়া বেগম   ক্রিকেটার বীথি   আখি     







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]