মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: ঈদ কবে, জানা যাবে বুধবার    শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ না কাটতে হাইকোর্টের নির্দেশ    চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জবাবে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী    প্রথমবারের মতো চলল মেট্রোরেল    মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৬৩ শতাংশ    বাংলাদেশসহ ৪ দেশের ওপর কুয়েতের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা    করোনার ভারতীয় ধরন উদ্বেগজনক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা   
ভ্যাকসিন উৎসবে ষড়যন্ত্রকারীরা উড়ে গিয়েছে
#সরকারের ভ্যাকসিন কার্যক্রম সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে: অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। #উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলছে: ডা. শাগুফা আনোয়ার। #শেখ হাসিনার সাফল্যে গৌরবান্বিত আমরা: শেলী মির্জা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ভ্যাকসিন উৎসবে ষড়যন্ত্রকারীরা উড়ে গিয়েছে

ভ্যাকসিন উৎসবে ষড়যন্ত্রকারীরা উড়ে গিয়েছে

করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা নানা পথ পারি দিয়ে আসছি এই পর্যন্ত নানা আশঙ্কা ও শঙ্কার মধ্যে। কিন্তু সবার সম্বলিত প্রচেষ্টায় আমরা বছর খানেকের মধ্যেই করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিরাট সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। বিশ্বে এটা আসার সাথে সাথেই আমরা আমাদের দেশে দ্রুততম পর্যায়ে পেয়ে গিয়েছে। অবশ্যই এর পিছনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব হস্তক্ষেপ ছিল বিধায় আমাদের তেমন অপেক্ষা করতে হয়নি। দেশে যখন কোন দুর্যোগ হয় তখন আমার হৃদয় কাপে, যখন আমাদের দেশে কোন খুশির সংবাদ আসে তখন আমার মন খুশিতে উদ্বেলিত হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে আমাদের দেশকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাচ্ছে তা দেখে আমরা সত্যিই গৌরবান্বিত।



দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ২৬৩তম পর্বে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আলোচক হিসাবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেডের কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ডা. শাগুফা আনোয়ার, সংগীত শিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বেলজিয়াম প্রবাসী শেলী মির্জা। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা নানা পথ পারি দিয়ে আসছি এই পর্যন্ত নানা আশঙ্কা ও শঙ্কার মধ্যে। এবং অবশেষে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন গবেষকদের কাছ থেকে যে আশাবাদ পেয়েছি করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে। ফার্মাসিস্ট যারা আছেন তারা বলেন যে, কোন একটি নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিন পেতে হলে বছর ২৫ সময় লাগে বা তার থেকেও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু এখানে সবার সম্বলিত প্রচেষ্টায় আমরা বছর খানেকের মধ্যেই করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিরাট সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। এটাকে কোন অবস্থায় "কাঁঠালকে কিলিয়ে পাকানো" এই রকম বিবেচনা করা যাবে না। এই নতুন ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত পৃথিবীর অনেক দেশেই কিন্তু পৌঁছায়নি। বিশ্বের বড় বড় দেশ যখন এখনো করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যেসব দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে সেখানেও এখন পর্যন্ত সম্মুখ সারির যোদ্ধারা টিকা পাননি। হাতেগোনা কয়টি দেশের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশ অন্যতম এবং এই সাফল্য অবশ্যই আমাদের সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার। প্রথমদিক থেকেই তার নেতৃত্বে যেভাবে বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলা করেছে তা পৃথিবীর অনেক দেশেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সবাই এই টিকার অপেক্ষায় ছিলেন। সব ধরনের বাধা, ভয়ভীতি, শঙ্কা ও পাহাড়সমান গুজব পেছনে ফেলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী লড়াইয়ে ৫৪তম দেশ হিসেবে টিকার যাত্রায় অংশগ্রহণ করলো বাংলাদেশ। করোনা নির্মূলে শুরু হওয়া টিকা কার্যক্রম এর মধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুরুতে টিকা নিয়ে নানা গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা ছিল। কিন্তু মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জোয়ারে ভেস্তে গেছে সে প্রচেষ্টা। নিবন্ধনের চাপ বাড়ছে সুরক্ষা ওয়েবসাইটে। টিকা কেন্দ্রে ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। রাজধানী থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিচ্ছেন মানুষ। শুধু টিকা দিয়েই থেমে থাকেনি সরকার। এ সময়ের মধ্যে নতুন কেউ আক্রান্ত হলো কিনা আর টিকা কতটা কার্যকর হয়েছে তা-ও ছিল সরকারের নজরদারিতে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের পেছনে সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপের ভূমিকাও কম নয়৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশ টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে ‘‘চিন্তা করেছে আন্তর্জাতিকভাবে আর কাজ করেছে স্থানীয়ভাবে৷’’ এ কৌশলের অংশ হিসেবে সারা দেশে মাঠ পর্যায়ে অংশ নিয়েছে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত কর্মী। সরকারের করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রম স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে। এই যে সাফল্যতা এটা অবশ্যই আমাদের সরকার প্রধানের একান্ত সাফল্য। তিনি সকলের মাঝে করোনা টিকা নিয়ে যে সংশয় ছিল তা দূর করতে সক্ষম হয়েছে। 

ডা. শাগুফা আনোয়ার বলেন, গতবছরের মার্চের পর থেকে আমাদের দেশে যখন করোনার উত্তাপটা ছড়াতে লাগলো তারপর থেকে লকডাউন বলেন, দেশব্যাপী যে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হলো, কিন্তু ওয়ার্ক ফ্রম হোম বিষয়টা কি এটার অভিজ্ঞতাটা আমরা যারা স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত আছি তারা এটা উপভোগ করতে পারিনি। আমরা বাসায় টু হাঁসপাতাল একই প্রক্রিয়াই কাজ করে গিয়েছি কিন্তু এর মধ্যে আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল বহুবিধ। একটা ছিল রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা আর কর্মীদের মধ্যে সঠিক মনোবল ধরে রাখা, ভয়টাকে সামনাসামনি মোকাবেলা করা, এবং আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে এই নতুন রোগটাকে কিভাবে আরও দ্রুত ও সঠিকভাবে মোকাবেলা করা যায় এটা আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ‌র রহমতে আমাদের ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনা শুরু থেকে এপর্যন্ত দুই হাজার রোগী ভর্তি করেছি এবং আল্লাহ‌র রহমতে যারা করোনা রোগী আর যারা করোনা রোগী নয় এই দুই সেক্টরের রোগীদেরকে আলাদা আলাদাভাবে নিরাপত্তার সহিত তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে পেরেছি এবং এখন পর্যন্ত সেটা চালিয়ে যাচ্ছি। এই পরিক্রমায় ভ্যাকসিন এসেছে বিশ্বের এবং এসেছে আমাদের দেশে। বিশ্বে এটা আসার সাথে সাথেই আমরা আমাদের দেশে দ্রুততম পর্যায়ে পেয়ে গিয়েছে। অবশ্যই এর পিছনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব হস্তক্ষেপ ছিল বিধায় আমাদের তেমন অপেক্ষা করতে হয়নি। বিনা মূল্যে আজ সবাই এই টিকা পাচ্ছেন এবং ইতিমধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে বাণিজ্যিকভাবে টিকা বিক্রির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভ্যাকসিনেশনের জন্য অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স খ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমুনাইজেশন (গ্যাভি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত করেছেন ২০১৯ সালে। আমাদের মতো দেশে যেখানে কোন মেডিকেল ইন্সুরেন্স নেই, যেখানে কতোগুলো মানুষ দারিদ্রসীমার মধ্যে আছে সেখান কতোটা দূরদর্শিতা থাকলে এই রকম একটা মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নানামুখী গুজব ও শঙ্কা পেছনে ফেলে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে করোনাভাইরাসের গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

শেলী মির্জা বলেন, আমি অনেক দিন ধরেই বেলজিয়ামে আছি, এখানে আমাদের বাংলাদেশের ভ্যাকসিন কার্যক্রমের কথা শুনে সবাই অবাক হন। তারা আমাকে বলে আপনাদের দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, আমি বলি হ্যাঁ শুরু হয়েছে এবং সফলভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে। সুদূর বাংলাদেশ থেকে আমার এক বন্ধু মেসেজ করেছিল যে, তোমরা তো পাবেই, আমরা হয়তো এখানে না পেয়ে মারা যাবো। কিন্তু এই সকল সব কল্পনা দূর করে আমাদের বাংলাদেশে সফলভাবেই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় অত্যন্ত চমৎকার ব্যবস্থাপনায় টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য গর্বিত। আমাদের দেশের মতো অনেক উন্নত দেশের নাগরিকরা এমনকি সম্মুখযোদ্ধারাও টিকা পাচ্ছেন না। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দীর্ঘ এক বছর ধরে লড়াই করছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। ইউরোপ-আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশগুলো পর্যন্ত জীবন ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখার লড়াইয়ে দিশাহারা। অথচ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সরকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিনা মূল্যে পৌঁছে দিল করোনার টিকা। করোনার শুরু থেকেই টিকা নিয়ে যখন বিশ্বে আলোচনা তখন দ্রুত টিকা পেতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টিকার জন্য অর্থমন্ত্রীকে আলাদা অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। করোনা টিকা কার্যক্রম শুধু যে শুধু রাজধানীতেই টা নয় কিন্তু, এটা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শুরু হয়েছে। আমার যে ছোট বোন বরিশালে থাকে সে কিন্তু সর্ব প্রথম সেখান থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছে। দেশে যখন কোন দুর্যোগ হয় তখন আমার হৃদয় কাপে, যখন আমাদের দেশে কোন খুশির সংবাদ আসে তখন আমার মন খুশিতে উদ্বেলিত হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে আমাদের দেশকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাচ্ছে তা দেখে আমরা সত্যিই গৌরবান্বিত।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   ভ্যাকসিন   ষড়যন্ত্রকারী  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]