বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল ২০২১ ৯ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বরিশালে বদলি    তালিকা পাঠান, অভিযুক্ত সকলকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জেলে যাব: বাবুনগরী    ব্যাংককে হেফাজত-বিএনপি গোপন বৈঠকে ষড়যন্ত্র, নেপথ্যে ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান    হেফাজত নেতা ইহতেশামুল হক গ্রেফতার    জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ৪ পরামর্শ    ভাঙলো মুমিনুল-শান্তর ২৪২ রানের জুটি    যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডু নট ট্রাভেল’ তালিকায় বাংলাদেশ   
ভোরের পাতা ফলোআপ
অদৃশ্য চাপের পরও আটকে গেল লীনা তাপসী খানের পদোন্নতি!
উৎপল দাস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ২:৫৭ পিএম আপডেট: ২৫.০২.২০২১ ৪:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অদৃশ্য চাপের পরও পদোন্নতি আটকে গেল গবেষণা চুরির দায়ে অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মুহসীনা আক্তার খানম ওরফে লীনা তাপসী খানের। ইতিমধ্যেই ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও সংগীত শিল্পী ইফফাত আরা নার্গিসের এক লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি আটকে গেল লীনা তাপসী খানের।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোরের পাতায় ‘পিএইচডি গবেষণার ৫৪ শতাংশই চুরি করেছেন লীনা তাপসী খান!’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশের পাশাপাশি ইফফাত আরা নার্গিসের আবেদনের প্রেক্ষিতের পাশাপাশি অদৃশ্য চাপ থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানের দিকে তাকিয়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির সিন্ডিকেট বৈঠকে লীনা তাপসী খানের পদোন্নতি আটকে যাচ্ছে বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

ভোরের পাতার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণা চুরির অভিযোগ থাকার পরও লীনা তাপসী খানের পদোন্নতির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে ফোন করে চাপ দিচ্ছেন জাতীয় অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন সম্মানিত শিক্ষক। যদিও বৃহস্পতিবার দুপুরে এই অদৃশ্য চাপের কথা বিষয়ে কথা বলেন ভোরের পাতার এ প্রতিবেদকের সাথে। সৌজন্যতা প্রকাশের পর সরাসরিই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এ প্রতিবেদক। এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের কথোপকথনে উপাচার্য বলেন,  ‘আমি অদৃশ্য চাপও বুঝি না বাবা, আমি এখনো অফিসে আছি। টেলিফোনে এসব বিষয় বলতে চাই না। তবে কোনো অদৃশ্য চাপের কাছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ মাথানত করবে না। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পদোন্নতি হবে।’

একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন,  যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইডি গবেষণায় ৫৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ চুরির অভিযোগ রয়েছে, তার পদোন্নতির সুযোগ নেই বললেই চলে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে বলে বিশ্বাস করি। এক্ষেত্রে সিন্ডিকেট সদস্য হিসাবে আমি অবশ্যই এটাই চাই।  অভিযোগের বিষয়টি আমিও হাতে পেয়েছি। অবশ্যই অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে। অদৃশ্য চাপ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানিয়েছেন মুহাম্মদ সামাদ। 

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সংগীত বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক লীনা তাপসী খান (মুহসীনা আক্তার খানম) তার পিএইচডি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। নজরুল গবেষকদের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে তিনি হুবহু কপি নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু কোন প্রকার গ্রন্থ-ঋণ স্বীকার করেননি। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নজরুল গবেষক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। 

ভোরের পাতার হাতে নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লীনা তাপসী খানের ‘নজরুল-সঙ্গীত রাগের ব্যবহার’ শীর্ষক একটি পিএইচডি (ডক্টর অব ফিলোশফি) থিসিস গ্রন্থটি রয়েছে। সেখানে ২৭৮ পৃষ্ঠার মধ্যে ১৫০ পৃষ্ঠাই অন্য বই থেকে গবেষক লীনা তাপসী খান ব্যবহার করেছেন। যা রীতিমতো গবেষণা চুরির ক্ষেত্রে ভয়ংকর এক ইতিহাস বলেও মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগেরই অন্যান্য শিক্ষকরা। 

এসব অভিযোগে বিষয়ে লীনা তাপসী খানকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তার ব্যবহৃত গ্রামীণ ফোন অপারেটরের ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তাকে ১৬ -২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দু’টি ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি তার প্রতি উত্তর করেন নি। 
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লীনা তাপসী খান তার পদোন্নতির জন্য নানা তদবিরে ব্যস্ত। তিনি ভিসি স্যারের সাথে এ নিয়ে একান্তে বৈঠকও করেছেন কয়েকবার।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়   মুহসীনা আক্তার    লীনা তাপসী   পদোন্নতি  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]