সোমবার ১৪ জুন ২০২১ ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শিরোনাম: বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ    অবশেষে নেতানিয়াহু যুগের অবসান    ধর্ষণ চেষ্টাকারীর নাম প্রকাশ করলেন পরিমনী    শেখ হাসিনার মুক্তিতেই বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছিল    ২৩৮ কোটি টাকায় মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হচ্ছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি!    কিছু দেশ সারা পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেই যুগ শেষ: চীন    পরীমণিকে ধর্ষণ করলো কে?   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
একুশের চেতনায় নিপাত যাক ষড়যন্ত্র
ড. কাজী এরতেজা হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:৪৩ পিএম আপডেট: ২০.০২.২০২১ ১১:৪৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ঊনসত্তর বছর আগে একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় প্রাণ দিয়েছিলেন রফিউদ্দিন আহমদ, আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার, আবদুস সালাম, শফিকুর রহমানরা। মাত্র সাড়ে চার বছর আগে দেশ ভাগ হয়েছে। দেশভাগে ভাগ হয়েছে রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের বাংলা, ভগৎ সিংয়ের পাঞ্জাব। ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে আলাদা দেশ পাকিস্তান-তার এক প্রান্ত ভারতের পূর্বে, অন্য প্রান্ত হাজার মাইল পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমে। এক দেশের দুই প্রান্তের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্বের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিল ভাষা, সংস্কৃতি, আবেগ ও চেতনার দূরত্ব। পূর্ব পাকিস্তানের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের দাদাগিরি, বাংলা ভাষার উপর সরকারি উর্দু ভাষার আরোপিত আধিপত্য। 

বাংলা ভাষার সম্মান ও অধিকারের জন্য বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে ঝরা সেই রক্ত থেকেই ভাষা দিবস। আর দুই দশক পরে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ। সেই ভাষা দিবস আজ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশে ফেব্রুয়ারির অমোঘ শিক্ষা-বহু ভাষাভাষী সমাজে ধর্ম দিয়ে দেশ হয় না, জোর করে বানিয়ে দিলেও ধরে রাখা যায় না। এক দেশ বলে এক ধর্ম, এক ভাষা, এক দল, এক নেতা কখনোই চলে না, চলতে পারে না।

একুশের জন্ম ভূগোলের দিক থেকে আজকের বাংলাদেশে। কিন্তু একুশ বেড়ে উঠেছে বাংলা ভাষার কোলে। একুশ তাই ওই বাংলার মতো এ বাংলারও। আজ তো একুশ আন্তর্জাতিক। সার্বজনীন। গোটা পৃথিবীকে বাংলার উপহার। ধর্মের বন্ধনকে ভাষা বার বার ভেঙে দিয়েছে। বঙ্গভঙ্গের প্রথম প্রচেষ্টাকে রুখে দিয়েছিল ভাষার বন্ধন। পাকিস্তানকে ভেঙে দিয়ে ভাষার ভিত্তিতে মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলা ভাষার ঐক্যকে ধর্ম দিয়ে ভাঙা যাবে না। বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করে বেড়ে উঠেছে বাংলার উদার সংস্কৃতি। ধর্মান্ধতা নয়, সংকীর্ণতা নয়, জাতের নামে বজ্জাতি নয়, ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম’ এই আমরা-ওরা ভাগাভাগি নয়, চাই খোলা মন ও মুক্ত চিন্তা, একে অপরকে গ্রহণ করার, বিবিধের মাঝে মহামিলনের সমন্বয়, মৈত্রীবন্ধন।



আজকের বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর মহালগ্নে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে যখন এগিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, ঠিক তখনই যারা কখনোই এই স্বাধীন বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি; তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সর্বশেষ দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর প্রধান ও তার পরিবারকে টার্গেট করে মিথ্যা ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে আল জাজিরা নামক একটি বিদেশি টেলিভিশনে। এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে ইতোমধ্যেই দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমান এবং যুদ্ধাপরাধী গংদের নাম উঠে এসেছে। শেখ হাসিনার বাংলাদেশের মানুষ এখন এতটাই সচেতন যে, মিথ্যা ও ভুয়া তথ্যে পরিপূর্ণ এসব সংবাদ দিয়ে কিছুই হবে না। কারণ দেশের জনগণ জানে, শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। 

আমরা নতুন প্রজন্মের মানুষ হিসেবে ৫২-র একুশ দেখিনি, তবে অনুভব করি প্রতি পরতে পরতে, আত্মিকভাবে অনুভূতির জায়গার সুমহান স্থানেই রয়েছে মায়ের ভাষা বাংলা। তবে আমরা দেখেছি, ২০০৪ সালের একুশে আগস্টের মতো ন্যক্কারজনক ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেনেড হামলা দেখেছি। ৫২-র একুশ আমাদের বাঙালি জাতিসত্তার প্রথম স্মারক হিসেবে অভিহিত হলেও ২০০৪ সালের একুশ হচ্ছে ষড়যন্ত্রের একুশ। এই ধারা আজও বাংলাদেশকে ঘিরে রেখেছে। আমরা নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে বলতে পারি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে এদেশের সক্ষমতার কথা জানিয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। যে মার্কিনিরা এক সময় আমাদের তলাবিহীন ঝুড়ি বলত, তারাই এখন আমাদের উন্নয়ন দেখে হতবাক হচ্ছে। সবচে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে, শেখ হাসিনার কারণে বাংলাদেশকে নতুন বাংলাদেশ হিসেবে চিনতে পেরেছে। 

আজকের এই মহান একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে আমি বিনম্র চিত্তে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি ফরিদপুরের কারাগারে থেকেও ভাষা আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনে সকল শহীদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি মনে করি, যে জাতি ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে, সে জাতি কখনোই কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে হার মানবে না। একুশের প্রেরণায় সকল ষড়যন্ত্র নিপাত যাক এই প্রত্যাশা করছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা, দ্য পিপলস টাইম
সহ-সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগ
সদস্য, কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য উপকমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
পরিচালক, এফবিসিসিআই
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ইরান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  একুশের চেতনা   একুশ  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]