সোমবার ১৪ জুন ২০২১ ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শিরোনাম: বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ    অবশেষে নেতানিয়াহু যুগের অবসান    ধর্ষণ চেষ্টাকারীর নাম প্রকাশ করলেন পরিমনী    শেখ হাসিনার মুক্তিতেই বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছিল    ২৩৮ কোটি টাকায় মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হচ্ছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি!    কিছু দেশ সারা পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেই যুগ শেষ: চীন    পরীমণিকে ধর্ষণ করলো কে?   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
খাদ্যের ভেজাল রুখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে স্বাগত
ড. কাজী এরতেজা হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১:১৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ

খাদ্যের ভেজাল রুখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে স্বাগত

খাদ্যের ভেজাল রুখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে স্বাগত

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার প্রধানের এ নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত হবে বলে আশা করা যায় এবং এ নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত হলে খাদ্যে ভেজাল কমে আসবে। খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশের মানুষ নানান অসুখ-বিসুখে পড়ছেন। হোটেল-রেস্তোরাঁর খাদ্যেসহ নানান খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল রয়েছে। এ ব্যাপারে অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে এবং খাদ্যে ভেজাল মেশানোর কারণে অভিযুক্তদের জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে।

তারপরেও একশ্রেণির মানুষ খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে যাচ্ছে। বিশুদ্ধ খাবারের অভাবের কারণেই মানুষ নানা রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে গেলেই বোঝা যায়, নানান রোগে অসুস্থ হয়ে মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। ভেজাল খাদ্য খেয়ে মানবদেহে নানা রোগ বাসাবাঁধে। এ কারণেই প্রবীণ ব্যক্তিরা এখনো বলেন, তাদের সময়ে খাদ্যে ভেজাল ছিল না, ফলে তারা রোগ-ব্যধিতে কম আক্রান্ত হতেন।

সরকারপ্রধান খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালিত হবে, এটাই আমরা আশা করি। সরকারপ্রধান যখন খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর হাওয়ার নির্দেশ দেন, তখন কারোর বুঝতে অসুবিধা থাকে না যে, খাদ্যে ভেজাল কতটা বেড়েছে।

সরকার প্রধানের নির্দেশ মতো যদি সংশ্লিষ্টরা ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। তাহলে আশা করা যায় যে, খাদ্যে ভেজাল কমে আসবে। দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যেও ভেজালের নমুনা পাওয়ার ঘটনা রয়েছে। এমন কি শিশু খাদ্যেও ভেজাল মেশানো হয়। এটা যে বড় ধরনের অনৈতিক কাজ এবং এ জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত অপরাধীদের। বর্তমানে খাদ্যে ভেজালরোধে যে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, এর গতি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। যারা খাদ্যে ভেজাল মেশাচ্ছেন, তাদের সমূল ধরে উৎপাটন করতে হবে। অতিমুনাফার লোভে পড়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে বাজারজাত করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বশীলদের উদাসীনতাও চোখ পড়ার মতো। দায়িত্বশীলদের চোখের সামনে ভেজাল খাদ্য বেচাকেনা হচ্ছে, কিন্তু এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রায় দেখা যায় না।

বরং এমন ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে, সরকারের দায়িত্বশীল কোনো কোনো কর্মকর্তা খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। সরকারের সৎ-নির্ভীক কর্মকর্তার খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান চালানোয় প্রশংসার বদলে তাকে বদলির শাস্তি মাথায় পেতে নিতে হয়। এসব ঘটনা থেকেও প্রমাণিত হয়, সরকারের প্রশাসনের মধ্যেই কোনো কোনো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা নেপথ্যে খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে সাহায্য করে আসছেন। আমরা মনে করি, এসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাজারজাত করা কোনো খাদ্যে ভেজাল নেই, তা নিরূপণ করা যেন কঠিন হয়ে পড়েছেন। দেশের সাধারণ মানুষের বদ্ধমূল ধারণা প্রতিটি খাদ্যেই ভেজাল রয়েছে। এ থেকে জনসাধারণের কবে মুক্তি ঘটবে তা তারা জানেন না। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খাদ্যে ভেজালরোধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তবে আমাদের প্রশ্ন হলো, সরকারপ্রধানকে কেন শেষ পর্যন্ত ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিতে হলো? সরকারের অন্যরা যারা রয়েছেন, তারা এতদিন ধরে কি করলেন, তারা কি জানেন না, দেশের অনেক ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব ব্যবসায়ীর দেশের মানুষের প্রতি কোনো ধরনের দায়-দায়িত্ব নেই। বলা চলে অনেকটা সুপরিকল্পিতভাবে খাদ্যে ভেজাল মেশানো হচ্ছে।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এটা স্পষ্ট বলতে চাই, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসা করতে আসেনি। জনগণের সেবা করতে এসেছে এবং সেবক হিসেবে এসেছে।’ নিজেদের আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। কারও কাছে হাত পেতে আমরা চলতে চাই না। সে জন্য যেহেতু জাতির পিতা বলেছিলেন আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে। সেই মাটি, মানুষকে সম্বল করেই কিন্তু আমরা দেশের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর পর ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য গুদামে রেখে যায়। কিন্তু আবার ৮ বছর পর যখন সরকারে আসে, তখন ২৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। এটা হচ্ছে একটি দল বা ব্যক্তি বিশেষ, তারা যে ক্ষমতায় থাকে তাদের নীতির প্রশ্ন। আমাদের নীতিটা হচ্ছে সব সময় আমরা দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা নিজেরা উৎপাদন করব, সেই সঙ্গে পুষ্টি নিশ্চিত করার দিকেও আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি মানুষ কীভাবে সুষম খাদ্য গ্রহণ করবে তা প্রচার করে সচেতনতা আনতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্জলা সত্য বলেছেন। রাষ্ট্রের জনগণের সেবায় সরকার একান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে এক সময় দরিদ্র মানুষ এবং এক মুঠো ভাতের জন্য বহু মানুষ বুভুক্ষ অবস্থায় সময় কাটিয়েছে। আজ আর সেই দিন নেই। সেদিন অতীত। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ খাদ্য পাচ্ছে। করোনাকালীনেও সরকার স্বল্পমূল্যে মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেছে। এই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় যদি ঘোরা যায়, তাহলে দেখা যাবে ট্রাকে ট্রাকে করে টিসিবির মাধ্যমে অল্পদামে মানুষের মধ্যে খাদ্য বিলি করা হচ্ছে। অল্প দামে খাদ্য কেনার জন্য স্বল্প আয়ের মানুষ ছাড়াও যারা স্বচ্ছল তারাও লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য কিনছেন।

তাই আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত হবে। একই সঙ্গে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে হবে একটি  সতর্ক সংকেত। একই সঙ্গে জাতি ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাবারের নিশ্চয়তা পাবে। যা প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার। এই নির্দেশনায় দেশের অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে রুখা সম্ভব হবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি। যারা খাদ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে তারাও সতর্ক হবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যথাযথভাবে পালনের কোনো বিকল্প নেই। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ড. কাজী এরতেজা হাসান   খাদ্যে ভেজাল   প্রধানমন্ত্রী  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]