শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ৯ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: পিআইবির ডিজি পদে ফের নিয়োগ পেলেন জাফর ওয়াজেদ    সাম্প্রদায়িক উগ্রগোষ্ঠীকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে: এম এ লিংকন মোল্লা    ধর্ম ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না    ফর্মুলা গোপন রাখার শর্তে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন করবে বাংলাদেশ    সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বরিশালে বদলি    তালিকা পাঠান, অভিযুক্ত সকলকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জেলে যাব: বাবুনগরী    ব্যাংককে হেফাজত-বিএনপি গোপন বৈঠকে ষড়যন্ত্র, নেপথ্যে ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান   
প্রেমিককে খুন করে লাশ ৫ টুকরা করেন শাহানাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১:৩৩ এএম আপডেট: ১২.০২.২০২১ ২:২৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ

প্রেমিককে খুন করে লাশ ৫ টুকরা করেন শাহানাজ

প্রেমিককে খুন করে লাশ ৫ টুকরা করেন শাহানাজ

পরকীয়া প্রেমের জেরে প্রেমিকার ছু‌রিকাঘা‌তে নিহত হয়েছেন সজিব হাসান না‌মে এক যুবক। কেবল তাই নয়,  প্রেমিককে হত্যার পর তার মরদেহ পাঁচ টুকরো করেন প্রেমিকা শাহানাজ পারভিন। এ ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর ওয়ারীর স্বামীবাগে। পুলিশ ঘাতক প্রেমিকা শাহনাজকে আটক করেছে। নিহত সজিবের সঙ্গে তার চার পাঁচ বছর ধরে অবৈধ সম্পর্ক চল‌ছিল বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ওয়ারীর স্বামীবা‌গের কে এম দাস লেন এলাকার একটি চারতলা বাসা থেকে সজিব হাসানের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহ‌তের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

নিহত স‌জিব হাসান শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাষ্টার হি‌সে‌বে কর্মরত ছিলেন।  তার গ্রামের বা‌ড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপায়। বা‌ড়ি‌তে তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওয়ারী থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ওয়ারীর ১৭/১ কেএম দাস লেন  পানির পাম্প এলাকায় বৃহস্প‌তিবার দুপু‌রের দি‌কে টাকা পয়সা ও সোনার গহনা বিক্রি করার বিষয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পরকীয়া প্রে‌মিকা শাহানাজের ছুরির আঘাতে প্রে‌মিক সজিব ঘটনাস্থলে নিহত হন। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে শাহানাজ প্রাথ‌মিকভা‌বে হত্যাকা‌ণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও জানান,  খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে দেখে ৪২ বছর বয়সী শাহনাজ পাঁচ টুকরো লাশের পাশে ভাবলেশহীনভাবে বসে আছেন। পুরো ঘর রক্তাক্ত। লাশের টুকরোগুলো সজিবের।

জানা গেছে, বছর পাঁচেক আগে  স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাড়ির চারতলার একটি  কক্ষ  ভাড়া নিয়েছিলেন পরিবহনকর্মী সজিব হাসান ও শাহনাজ পারভীন।নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর বেরিয়ে এলো তারা অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। সে সম্পর্কের জের ধরেই ওই পরিবহনকর্মীর কিছু অপকর্ম জানতে পারেন শাহনাজ। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত শাহনাজ একাই কেএম দাস লেনের ১৭/১ নম্বর বাসার ভেতর সজিবকে হত্যার পর লাশ টুকরো করে তা নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা বসে ছিলেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহানাজ জানান,   তার স্বামী একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাদের সংসারে দুই মেয়ে। এক মেয়ে কলেজপড়ুয়া। আরেক মেয়েকে স্কুলে নেওয়ার সময় বছর পাঁচেক আগে শ্যামলী পরিবহন কাউন্টারের স্টাফ সজিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে টুকটাক কথা হতো। একপর্যায়ে তারা অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। তাকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্বামীবাগে বাসাও ভাড়া নেন। প্রায় প্রতিদিন দিনের বেলায় ওই বাসায় এসে সময় কাটাতেন। আর সন্ধ্যায় স্বামীর বাসায় ফিরতেন। বুটিকসের কাজ শেখার কথা বলে নিয়মিত বের হতেন তিনি। তার প্রকৃত স্বামী জসীম ও সজিবের বাসা ওয়ারীতে।

তিনি আরও জানান, সম্পর্কের কথা অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সে প্রায়ই টাকা আদায় করত। তার মেয়ের ওপরও কুনজর পড়েছিল। আরও কয়েক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। সে যে কোনো সময় তাদের সম্পর্ক কাউকে জানিয়ে দিতে পারে- এ ভয় থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন তিনি। আবার স্বামীর সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল না। দু'জন প্রায়ই ঝগড়ায় জড়াতেন।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার স্বামী ও দুই সন্তান রেখে সজিবের বাসায় গিয়ে ওঠেন শাহনাজ। তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। পুলিশ জিডির তদন্তও শুরু করে। প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তার অবস্থান নিশ্চিত করে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের পর শাহনাজ তার স্বামী জসীমকেও ফোন করে জানান, খুব বিপদে আছেন। তাকে উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ স্বামীবাগের ওই বাসায় যায়। এরপর দুই হাত ও দুই পা কেটে বিচ্ছিন্ন করা লাশ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশের কাছে শাহনাজ বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে সজিব হাসান তার টাকাপয়সা ও স্বর্ণাংলকার নিয়ে বিক্রি করতে চাইলে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরেই সজিব হাসান তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করতে চাইলে ওই ছুরি কেড়ে নিয়ে উল্টো সজিব হাসানের বুকের নিচে আঘাত করেন। হত্যাকারী শাহানাজ পারভিন প্রেমিক সজিবের তুলনায় শারীরিক গঠনে খুবই ভালো। হত্যা শেষে ছুরি দিয়ে সজিবের দু’হাত, দু’পা বিছিন্ন করে হত্যা করা হয়। এ কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও শিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ওয়ারী ডিভিশনের (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ  বলেন, ওই চারতলা থেকে সজিবের পাঁচ খণ্ড মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আটক নারীর সঙ্গে সজীবের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ওই নারী বুটিকের কাজের কথা বলে প্রায়ই সজীবের বাসায় যেতেন। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, টাকা-পয়সার বিষয় নিয়ে সজিবের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে ওই নারীকে আঘাত করেন সজিব। এতে ওই নারীর হাত কেটে যায়। পরে পারভীন ছুরি কেড়ে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সজীব ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে তার দুই পা, দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলেন। আমরা সংবাদ পেয়ে সজিবের মরদেহ উদ্ধার করি। পুরো ঘটনা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

ভোরের পাতা -এনই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  পরকীয়া   প্রেমিক   প্রেমিকা     







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]