সোমবার ১৪ জুন ২০২১ ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শিরোনাম: বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ    অবশেষে নেতানিয়াহু যুগের অবসান    ধর্ষণ চেষ্টাকারীর নাম প্রকাশ করলেন পরিমনী    শেখ হাসিনার মুক্তিতেই বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছিল    ২৩৮ কোটি টাকায় মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হচ্ছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি!    কিছু দেশ সারা পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেই যুগ শেষ: চীন    পরীমণিকে ধর্ষণ করলো কে?   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আল-জাজিরার প্রতিনিধিকে ভাসানচরে যাওয়ার আহ্বান
ড. কাজী এরতেজা হাসান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৭:২৫ এএম আপডেট: ০২.০২.২০২১ ৭:৩৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আল-জাজিরার প্রতিনিধিকে ভাসানচরে যাওয়ার আহ্বান

আল-জাজিরার প্রতিনিধিকে ভাসানচরে যাওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় নিয়ে কিছু চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। সরকারের যে কোনো ভালো উদ্যোগ ওইসব মিডিয়ার ঘোলা চশমার কাঁচে কালো মনে হয়। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর দৌড়ে এগিয়ে আছে কাতার ভিত্তিক সংবাদসংস্থা আল জাজিরা।  তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুঁকির মধ্যেই নাকি জোর করে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণ্যহত্যা থেকে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবতা দেখিয়ে আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। কক্সবাজার জেলার টেকনাফে ও উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে বর্তমানে অবস্থান করছে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা।

বিশাল এ জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতিতে তৈরি করেছে বাড়তি চাপ। এতে সরকারকে উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা দেশে আসার পর স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরী কমে গেছে। বিশেষত কৃষি কাজ ও অদক্ষ শ্রমিকরা এতে সমস্যা পড়েছে। আক্রান্ত হয়েছে। বিপুল পরিমান রোহিঙ্গা রোজগারের স্বার্থে কম মজুরীতে কাজ নেয়ায়, স্থানীয়দের কম মজুরীতে কাজে নামতে হয়েছে। 

রোহিঙ্গাদের জন্য পাহাড়ের ঢালুতে আশ্রয়শিবির তৈরি করায় ভূমিধসের শঙ্কা ও নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে। ঘুপচি ঘরগুলো বসবাসের জন্য অসহনীয়। রোহিঙ্গা শিবিরগুলো হত্যা, ধর্ষণ, মানব পাচার, অস্ত্র পাচার ও ইয়াবা পাচারের ভয়ংকর আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা এদেশের মানুষদেরও হত্যা করছে।

কক্সবাজারের বুকে চেপে বসা অতিরিক্ত ১১ লাখ মানুষের ভারে নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে পর্যটন নগরীর। অতিরিক্ত জনবসতির অসহনীয় চাপে পর্যটন নগরী পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হওয়ার হুমকিতে। পাহাড় ও গাছ কেটে বাড়িঘর বানানোর কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। 

এদিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে ব্যধ্য করার নানা উদ্যোগ কার্যত সফল হয়নি। ফলে বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের দিনের পর দিন পরে থাকতে হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ঘিঞ্জি পরিবেশ। 

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাসের কথা চিন্তা করে সরকার।  মেঘনা অববাহিকায় দুই দশক আগে জেগে ওঠা দ্বীপ ভাসানচরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় রোহিঙ্গাদের মানসম্পন্ন আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়।রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ে। উপকূল থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত ওই চরটিকে বসবাসের অনুপযোগী বলে কিছু বিদেশী সাহায্য সংস্থা  উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচারণা চালায়। 

এনিয়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বানোয়াট ও ভ্রান্ত সংবাদ পরিবেশন করা হয়। ভুইফোর সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি দ্যা গার্ডিয়ান ও আল-জাজিরার মতো কিছু স্বীকৃত গণমাধ্যমও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়ার বিরোধিতা করে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রতিবেশী ভারতের 
কয়েকটি গণমাধ্যমও তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলায়। ওই আবাসন নিয়ে অশিক্ষিত রোহিঙ্গাদের মাঝেও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। 

যদিও ব্রিটিশ পরামর্শক সংস্থার নির্মাণসংক্রান্ত পরামর্শ ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভাসানচরে বসতি নির্মাণ করা হয়েছে। পরিকল্পিত এই আবাসনে উন্নত মানের রাস্তাঘাট, স্কুল, মসজিদ, সাইক্লোন শেল্টার, অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা, নিরবিচ্ছন্ন নিজস্ব বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, বাজার ও বিপণনের ব্যবস্থা, ফোরজি নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি স্থাপনের ফলে পাল্টে গেছে চরটির সামগ্রিক চিত্র।

ওই আবাসনে পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, পরিবেশসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা, খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জীবিকা নির্বাহের সুযোগ রাখা হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনের জন্য প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভবন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক ভবন, নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য বাংলো, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য অত্যাধুনিক সুযোগসুবিধা-সংবলিত বাংলো নির্মাণ করা হয়েছে ভাসানচরে।

ভাসানচরকে  সরকার থানা ঘোষণা করে এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইউনিটে পরিণত করেছে। ভাসানচরে কেবল রোহিঙ্গারাই নয়, রোহিঙ্গাদের দেখভাল করার জন্য পুলিশ, ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নৌবাহিনীর সদস্য ও এনজিও কর্মীরা ভাসানচরে থাকবেন।



এছাড়া সেখানে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত জাতিসংঘ প্রতিনিধি, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) প্রতিনিধি, রেডক্রস ও আন্তর্জাতিক এনজিওর প্রতিনিধি, এতিমখানা, ডে কেয়ার সেন্টার ও সুপারশপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অসহায় রোহিঙ্গারা যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারে এবং তারা যাতে দক্ষ কর্মী হয়ে মিয়ানমার ফিরে যেতে পারে সে জন্য ভাসানচরে প্রশিক্ষণের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে সরকার।

কক্সবাজারের অসহনীয় শরণার্থীশিবির ছেড়ে রোহিঙ্গারা যখন স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাচ্ছে, তখন কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আল-জাজিরার মতো যেসব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করছে সেগুলো চিহ্নিত করা দরকার। পরে ওইসব গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ভাসানচরে নিয়ে সরেজমিনে সব সুযোগ সুবিধা দেখিয়ে আনতে হবে। এরপর স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন প্রকল্প ভাসানচর নিয়ে বিরূপ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া দরকার।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা, দ্য পিপলস টাইম
সহ-সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগ
পরিচালক, এফবিসিসিআই
সদস্য, কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য উপকমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ইরান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]