সোমবার ১৪ জুন ২০২১ ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শিরোনাম: বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ    অবশেষে নেতানিয়াহু যুগের অবসান    ধর্ষণ চেষ্টাকারীর নাম প্রকাশ করলেন পরিমনী    শেখ হাসিনার মুক্তিতেই বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছিল    ২৩৮ কোটি টাকায় মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হচ্ছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি!    কিছু দেশ সারা পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেই যুগ শেষ: চীন    পরীমণিকে ধর্ষণ করলো কে?   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
একুশের কাব্যগাথা : বাঙালির প্রতিবাদের প্রথম স্মারক
ড. কাজী এরতেজা হাসান
প্রকাশ: সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ০১.০২.২০২১ ১২:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

একুশের কাব্যগাথা : বাঙালির প্রতিবাদের প্রথম স্মারক

একুশের কাব্যগাথা : বাঙালির প্রতিবাদের প্রথম স্মারক

মা, মাটি, মাতৃভূমি স্বর্গের চেয়েও গরিয়সী। স্বর্গের চেয়েও গরিয়সী সে মায়ের ভাষা জীবনের এক অমূল্য সম্পদ। সেই বিবৃতি ফুটে ওঠেছে মধ্যযুগের কবি আব্দুল হাকিমের কাব্যগাথায়ও। তিনি বলেছেন, যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী/সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি’। মাতৃভাষা বিরোধীদের জন্ম নিয়ে সংশয়াবৃত্ত ছিলেন কবি। যদিও সেই হাজার বছরের চর্যাপদ, মনসামঙ্গল, গীতগোবিন্দ, মৈমনসিংহ গীতিকা, পুঁথি সাহিত্য, গজল, বাউল গান, আলাওল, চন্ডীদাস, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ইসলামী রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ এবং সমকালীন বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদের প্রবহমান এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের ধারায় আমরা অবগাহন করেছি বংশানুক্রমে। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমরা ষোলআনা বাংলাভাষী সাজার চেষ্টা করি। এ কথা সত্য যে, ভাষা আন্দোলন তথা একুশের চেতনায় অনেকেই চলনে-বলনে বাংলাভাষী হতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। সারা দেশের শীতের তীব্রতা বাড়ছে। এরই মধ্যে বনে বনে ফাল্গুনের রং আর রক্তিম উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। বসন্ত যেমন প্রকৃতির নবজাগরণের ‘ঋতু’ ফেব্রুয়ারি তেমনি নতুন দীক্ষা নেওয়ার মাস। আমার কাছে কোকিলের কুহুতান, পলাশ-শিমুলের রক্তলাল পুষ্পডালি যেমন পুরানো মনে হয় না, ফেব্রুয়ারির আবেদনও তেমনি কখনো ফুরিয়ে যায় না। তাই তো ভাষার মাসটি এলেই জেগে ওঠে প্রাণ। ফেব্রুয়ারি কেবল রোমান দেবতা ‘ফেব্রুস’ এর নামানুসারে রাখা ইংরেজি বছরের একটি মাত্র মাস নয়, গোটা দুনিয়ার তাবৎ মানুষের মধ্যে ভাষাপ্রেমের বীজমন্ত্র গ্রত্থিত হওয়ার সুবর্ণকালও বটে। আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক সন্তান হিসেবে মনে করি, একুশ হচ্ছে আমাদের বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের প্রথম স্মারক। 



মাতৃভাষা আন্দোলন নিয়ে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা আর আলতাফ মাহমুদের সুরের কালজয়ী সেই গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-আমি কি ভুলিতে পারি’ কোটি কোটি বাঙালির হৃদয়ে বেদনা জাগায়। অমর এই গান বাঙালি হৃদয়ের বিরাট অংশ জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে। গানের ভাষায়ই কোটি কোটি বাঙালির বুকের মধ্যে হাহাকার করে ওঠে। মনে পড়ে সেদিনের বর্বর সেই পাকিস্তানি শোষকদের অত্যাচারের কথা। মানুষের মানসপটে ভেসে ওঠে ভাইয়ের রক্ত, ছেলেহারা মায়ের অশ্রুসিক্ত চোখ। যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়ে ভাষা আন্দোলন আর একুশের চেতনা জাগ্রত করে রেখেছে অমর একুশের এই গান। মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে মাতৃভাষাকে রক্ষা করেছিলেন। ইতিহাসে যা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। তাদের জন্যই ২১ ফেব্রুয়ারি গোটা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষার দাবিতে সেদিন ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নেমে আসে ছাত্র-জনতা। দৃপ্ত স্লোগানে তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র রফিক উদ্দিন আহমেদ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ হন তিনি, একুশের প্রথম শহীদ। স্বৈরাচার নুরুল আমিনের ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নেমে দৃপ্ত স্লোগানে বরকতও ছিলেন মিছিলের অগ্রভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র বরকত শহীদ হন। মিছিলে মিছিলে তখন আরও উত্তাল হয়ে ওঠে সারাদেশ। উত্তপ্ত ঢাকার নবাবপুর রোডে ৮ বছরের শিশু তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অহিউল্লাহও শরিক হয়েছিলেন মায়ের ভাষার দাবিতে, পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন তিনি। পুলিশের গুলিতে শহীদ হলেন হাইকোর্টের হিসাবরক্ষণ শাখার কেরানি শফিউর রহমান। ছাত্র-জনতার শ্লোগানে ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে রাজপথ কেঁপে ওঠে। এক সময় পাক শাসকগোষ্ঠীর হুকুমে তাবেদার পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। হাঁটু আর কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন আব্দুল জব্বার। মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে বাঙালি যখন একজোট তখন পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিটিং মিছিল নিষিদ্ধ করে দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক’জন তরুণ ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঘোষণা দিয়ে নেমে আসে রাজপথে। পাকিস্তান গণপরিষদ ঘেরাওয়ে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা থেকে শুরু হলেও বেশিদূর এগোতে পারেনি। মিছিলের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। শহীদ হন রফিক, শফিক, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা আরও অনেকে। তখনই রচিত হলো মাতৃভাষার অমর কাব্যগাথা। ‘৪৮ সালে শুরু হয়ে রক্তাক্ত বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারিতে উত্তাল হলো ছাত্র-জনতার মিছিল। সবার আগে মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা আমাদের সকলের জানা প্রয়োজন। ১৯৪৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান সংবিধান সভার বৈঠকে রাষ্ট্রভাষা নিয়েও আলোচনা হচ্ছিল। মুসলিম লীগ নেতারা উর্দুকেই রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষপাতী। বঙ্গবন্ধুসহ অন্যরা দেখলেন, উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার অত্যন্ত ঘৃণীত ষড়যন্ত্র চলছে। বঙ্গবন্ধু সভা করে প্রতিবাদ শুরু করলেন। সভায় ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চকে ‘বাংলা ভাষা দাবি’ দিবস ঘোষণা করা হল। বঙ্গবন্ধু ফরিদপুর, যশোর হয়ে দৌলুতপুর, খুলনা ও বরিশালে ছাত্রসভা করে ১১ মার্চের তিন দিন পূর্বে ঢাকায় ফিরে এলেন। ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবির জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শত শত ছাত্রকর্মী ইডেন বিল্ডিং, জেনারেল পোস্ট অফিস ও অন্যান্য জায়গায় বাংলা ভাষার জন্য মিছিল শুরু করল। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার জন্য সিটি এসপি জিপ নিয়ে বারবার তাড়া করেছে এবং সন্ধ্যার সময় জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেই সময় ভাষার জন্য ছাত্র শেখ মুজিবকে জেল খাটতে হয়েছে, একটি বারও কোন মানুষকে বলতে শুনি না। এটা সত্যি দুঃখজনক। রাষ্ট্রভাষা দিবস এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলা ভাষা কিভাবে রাষ্ট্রভাষা হলো এবং সেখানে তরুণ মুজিবের অগ্রণী ভূমিকা সম্পর্কে না জানা আমাদের প্রকৃত জ্ঞানের অভাব নির্দেশ করে। আমরা গবেষণা বিমুখ জাতি। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য আমরা গবেষণা করি না। অনেকেই না জেনে মন্তব্য করি। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসা প্রয়োজন। জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য বন্দিদের জন্য জেলের পাশের বালিকা বিদ্যালয়ের ছোট ছোট মেয়েরা সারাদিন শ্লোগান দিত, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই,’ ‘বন্দি ভাইদের মুক্তি চাই’, ‘পুলিশি জুলুম চলবে না’ ইত্যাদি ইত্যাদি। ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ১৬ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্রসভায় সভাপতির আসন থেকে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘যা সংগ্রাম পরিষদ গ্রহণ করেছে, আমাদেরও তা গ্রহণ করা উচিত।’ ১৯ মার্চ যখন জিন্নাহ ঢাকার ঘোড় দৌড় মাঠে ঘোষণা করলেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, তখন তরুণ শেখ মুজিবসহ অনেক ছাত্র চিৎকার করে জানিয়ে দিয়েছিল, ‘মানি না’। এরপর আমৃত্যু জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা আর বলেননি। স্যালুট জানাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে, যার জন্মই হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দেশের মানুষের মুখের ভাষা ফিরিয়ে দেবার জন্য। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকালে পল্টন ময়দানে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জানাল উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। সেই সময় বঙ্গবন্ধু কারাবন্দি হিসেবে হাসপাতালে ছিলেন (ইতোমধ্যে ২৬ মাস কারাবরণ করে চলেছেন)। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রাত একটার পরে তাঁর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন খালেক নেওয়াজ, কাজী গোলাম মাহবুবসহ আরও অনেকে। সেই রাতেই বঙ্গবন্ধু সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠনের হুকুম দিয়েছিলেন এবং পরের রাতে তাদের আবার আসতে বললেন। সেখানেই ঠিক হয়েছিল ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করা হবে। আজ আমরা একটি বারও বলি না ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস কে (কাদের বৈঠকে) নির্ধারণ করেছিলেন? বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। রাষ্ট্রভাষা দিবস এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলা ভাষা কিভাবে রাষ্ট্রভাষা হলো এবং সেখানে তরুণ মুজিবের অগ্রণী ভূমিকা সম্পর্কে না জানা আমাদের প্রকৃত জ্ঞানের অভাব নির্দেশ করে। 

আমরা গবেষণা বিমুখ জাতি। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য আমরা গবেষণা করি না। অনেকেই না জেনে মন্তব্য করি। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসা প্রয়োজন। আজ মুজিব শতবর্ষ এবং বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই করোনা মহামারিতে বাংলাদেশের সব মানুষের পাশে ছিলেন এবং আছেন। তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। একুশের এই প্রথম প্রহরে দাঁড়িয়ে দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশ একুশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশকে এগিয়ে যাবেই। আমরা মুজিব শতবর্ষে আবারও অঙ্গিকার করতে চাই, একুশের প্রতিবাদী চেতনায় সব অপশক্তিকে রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। 

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা, দ্য পিপলস টাইম
সহ-সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগ
পরিচালক, এফবিসিসিআই
সদস্য, কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য উপকমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ইরান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]