বৃহস্পতিবার ৪ মার্চ ২০২১ ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: লেখক মুশতাকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী     কারামুক্ত কার্টুনিস্ট কিশোর    ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মজনু আটক    তাজমহলে বোমা আতঙ্ক, পর্যটকদের বের করে আনা হলো    এইচ টি ইমামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত    বৈঠকে ড. মোমেন ও জয়শঙ্কর    এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে ওবায়দুল কাদেরের শোক   
করোনা মোকাবেলায় সারা বিশ্বে প্রশংসিত শেখ হাসিনা
#আমাদের সৌভাগ্য যে শেখ হাসিনার মতো একজন দক্ষ নেত্রী পেয়েছি: ড. শাহীনূর রহমান। #করোনায় শক্ত হাতে দেশের হাল ধরে রেখেছেন শেখ হাসিনা: অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। #বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা: আহমেদ ফিরোজ।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:০৮ পিএম আপডেট: ১৭.০১.২০২১ ১০:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনা মোকাবেলায় সারা বিশ্বে প্রশংসিত শেখ হাসিনা

করোনা মোকাবেলায় সারা বিশ্বে প্রশংসিত শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছেন। স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। সেই স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে গত এক যুগে শেখ হাসিনার শাসনামল বাংলাদেশের এ বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উত্থানে মূল ভূমিকা পালন করছে। এই সময়কালে দেশের অর্থনীতি তরতর করে এগিয়ে গেছে, তিনগুণেরও বেশি বড় হয়েছে জিডিপি।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ২২২তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। রবিবার (১৭ জানুয়ারি) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহীনূর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের মহাসচিব, অস্ট্রিয়া প্রবাসী আহমেদ ফিরোজ। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

অধ্যাপক ড. শাহীনূর রহমান বলেন, আমি ভোরের পাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যে আজ পর্যন্ত টানা ২২২ পর্ব পর্যন্ত ভোরের পাতা সংলাপ চলমান রেখেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই রকম একটি চমৎকার অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে যার কারণে আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ছোট থেকে শুরু করে যেসব বড় বড় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গুলো হচ্ছে তা আমাদের দেশের মানুষ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বাইরের মানুষও এই কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও জানতে পারছে। অবশ্যই জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশের নেতৃত্ব থাকলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ। আমরা যে সময়ের মধ্য দিয়ে এখন যাচ্ছি তার জন্য আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না। এই যে মহামারী করোনা আজ সারা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি মহামারী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতার পাশাপাশি জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে তিনি নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশসমূহ আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিমুহূর্তের করণীয় ঠিক করতে গত অনেকগুলো মাস ধরে দিনরাত বাড়তি কাজ করে চলেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সার্বক্ষণিক সবকিছুর খোঁজ-খবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর যাবতীয় নির্দেশনা দুটো বিষয়কেন্দ্রিক: মানুষের জীবন এবং জীবিকা। প্রথম থেকেই তার লক্ষ্য ছিল এই দুঃসময়ে স্বাভাবিক জীবন যাতে ব্যাহত না হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী সবকিছু সমন্বয় করছেন। সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন জনের সঙ্গে বৈঠক করছেন, সবসময় আপডেট জেনে নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। স্বাধীনতার পরে দীর্ঘসময় ধরে তিনি বাংলার প্রধানমন্ত্রী। ষড়যন্ত্রকারীরা ওত পেতে ছিল সহস্রবার। তার লালিত স্বপ্নপূরণে বাধা এসেছিল বারবার। নিজের জীবন বাজি রেখে কীভাবে একজন মানুষ শত প্রতিকূলতাকে তুচ্ছজ্ঞান করে এগিয়ে যেতে পারে, সারাবিশ্বে তিনি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটাই দেশের মানুষের কল্যাণের কথা ভেবে কাটিয়েছেন। এখনো কাজ করে যাচ্ছেন।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিল পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর পরে। সেইখান থেকে বাংলাদেশকে আবার পুনরায় আগের ট্রাকে নিয়ে আসা কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বঙ্গবন্ধু যে কাজটি করেছিল ১৯৭১ সালে সেখানে কিছু অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন তিনি। প্রথমত, ভারত আমাদের স্বাধীনতার স্বপক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তান কিন্তু সেসময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ছিল। তারা কিন্তু সেসময় মুসলিম বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশ হিসেবে জানতো সবাই। এইরকম একটি শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশের কাদামাটিতে পরাজিত হবে এটা কিন্তু আরব দেশরা কেউ প্রত্যাশা করেনি বা চায়নি। বাংলাদেশে যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ঘটনা হয়েছিল এটা কিন্তু কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিলনা, এটার পিছনে বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ছিল। সেই হত্যাকাণ্ডের পরে বাংলাদেশ যেভাবে পথ হারিয়েছিল সেখান থেকে বাংলাদেশকে তুলে দাঁড়ানো কিন্তু অসাধ্য একটি কাজ ছিল। কিন্তু এই অসাধ্য কাজটি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা করে দেখিয়েছেন। আজকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ডাটা মিডিয়া ব্লুমবার্গ কর্তৃক বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী ২০তম কোভিড নিরাপদ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদি খেয়াল করে দেখেন, যে সমস্ত প্যারামিটার গুলো এখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের রোগ শনাক্ত ১০.১০ শতাংশ। আজকে সেটি ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এখন অনেকেই বলতে পারে যে, অনেকেই তো পরীক্ষায় করেনা! ব্যাপারটি কিন্তু তা না। যদি ১ লক্ষ লোক পরীক্ষা করতো তাহলে ১০০০০ লোক পজিটিভ আসতো। সংখ্যা কম বেশি হতে পারে কিন্তু শতাংশতো কম বেশি হতে পারেনা। সেই বিবেচনায় আমরা আজকে এই রেঙ্কিংএ ২০তম অবস্থানে আছি। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে তারা তখন বলেছিল আমাদের কিছু দুর্বলতা আছে। তারা আমাদের ৫টি পয়েন্ট দিয়েছিল। অথচ আজকে আমাদের ভ্যাকসিন সক্ষমতা হয়েছে। এই সক্ষমতা যদি সে সময় বিবেচনা করা হতো তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আজকে আমাদের অবস্থান এই রেঙ্কিংএ ১০তম থাকতো। বাংলাদেশ যখন পথ হারাবার পথে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কিভাবে আমাদের দেশের হাল ধরে রেখেছেন। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ যখন অর্থনৈতিক ধ্বংসের মুখে তখন আমাদের দেশের প্রবৃদ্ধি কিভাবে তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছে। 

আহমেদ ফিরোজ বলেন, আজকের বিষয়ের জন্য বেশি কিছু বলা দরকার নাই। আমাদের নেত্রীর কর্মকাণ্ড সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন তার হাতে দেশ পথ হারাবার মতো নয়। এমন একটি সময় তিনি দেশের দায়িত্বভার হাতে নিয়েছিলেন তখন দেশ ছিল বিধ্বস্ত অবস্থায়। ঠিক আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে যখন দেশে ফিরে আসলেন তখন দেশের অবস্থা ছিল ভঙ্গুর। বাংলাদেশের পোড়া মাটিতে দাড়িয়ে উনাকে ক্ষমতা নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে কোন টাকা ছিল। রাজাকার আলবদররা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা সব পুড়িয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল। কি নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ না চালিয়েছে তারা। ঠিক এমন একটা সময় আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশে ফিরে এসে এই বাঙলার জন্য এই বাঙলার মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করলো ঠিক তার সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তাকে নির্মমভাবে তার পুরো পরিবারের সদস্যকে হত্যা করা হলো। দীর্ঘ জীবন ধরে যে মানুষটি বাঙালি বাঙালি করে নিজের সারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সেই মানুষটিকে আমরা বেশিদিন ক্ষমতায় রাখতে পারলাম না। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র করে তাকে পুরো পরিবার সহ হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে তার পরিবারের রয়ে যাওয়া দুই কন্যাকে আল্লাহ সেদিন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আসলে আল্লাহ্‌র লীলা বোঝা বড় দায়। আমার কেন জানি বার বার মনে আল্লাহ্‌ চেয়েছিলেন বলেই সেদিন তার দুই কন্যা বেচেছিলেন যাতে তার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন সত্যি করতে পারেন। এক সময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতো, সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শী নেতৃত্বে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ, গৌরবময় হয়েছেন বাঙালি যা অর্জনে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন শেখ হাসিনা। সকল প্রতিকূল অবস্থায় কিভাবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হয়, কিভাবে মোকাবিলা করতে হয় এবং বিশ্ব মহামারির দিনগুলোতেও হার না মানার সাহস-শক্তি নিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়-আমাদের দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা নেতৃত্বের আসনে থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির বর্ণিল দিগন্তে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]