সোমবার ৮ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: সংগ্রামী পাঁচ নারী পেলেন ‘জয়িতা’ পুরস্কার    খালেদার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর সুপারিশ    গিনির সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০    গুগল ডুডলে বিশ্ব নারী দিবস    জেনে নিন বিশ্ব নারী দিবসের ইতিহাস    হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ফরাসি ধনকুবের এমপির মৃত্যু    'নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল'   
দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা প্রকাশসহ শাস্তির দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১, ৫:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা প্রকাশসহ শাস্তির দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন

দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা প্রকাশসহ শাস্তির দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন

শনিবার (১৬ জানুয়ারী) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দুর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর উপদেষ্টা ভাস্কর শিল্পী রাশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বাপ্পীসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। 

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন "বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে সবসময় প্রতিবাদ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় দেশের সকল দুর্নীতিবাজ ও বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা প্রকাশসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। গত ১১ জানুয়ারী পাচার করা অর্থে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছেন এমন বাংলাদেশী নাগরিকদের তথ্য চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা বাড়ি ক্রয়ের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের এক সুয়োমোটো রুলে (নং ২২/২০২০) দুদককে অন্যতম রেসপন্ডেন্ট করা হয়েছে এবং অর্থ পাচারকারীদের নাম, ঠিকানা, পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বশেষ অবস্থা জানানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদেশে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছে, এমন বাংলাদেশী নাগরিকদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো পর্যন্ত দুদকে প্রেরণ করেনি। আমরা অবিলম্বে উক্ত তালিকা প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। এর আগে গত বছরের ২২ অক্টোবর বিভিন্ন দেশে পাচারকৃত অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশীদের তালিকা চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছিল দুদক। সেই চিঠিতে ইনভেস্টমেন্ট কোটায় যেসব বাংলাদেশী নাগরিক পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে তাদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে মিস-ইনভয়েসিং, হুন্ডি, বাল্ক ক্যাশ ট্রান্সফার ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে থাকে। এতে মূলধন হারিয়ে প্রতিনিয়ত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য যে পরিমাণ দেশীয় বিনিয়োগ প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে হলে অর্থ পাচার রোধ করা একান্ত দরকার।  অর্থ পাচারের এ ধারা রোধ করা সম্ভব না হলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ভবিষ্যতে থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান। প্রাথমিকভাবে অর্থ পাচারে জড়িত যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি বলেও জানান তিনি। এছাড়া এ তালিকায় রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরাও আছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে  সেই অনুষ্ঠানে তিনি কারো নাম প্রকাশ করেননি।"

ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, "পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে গত ২২ নভেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ একটি আদেশ দেন। ওই আদেশে হাইকোর্ট অর্থ পাচারকারী, দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোন তালিকা প্রেরণ বা প্রকাশের ব্যবস্থা করেননি যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বন্ধে দুদক   দেশের মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ১০১টি খাতে দুর্নীতি চিহ্নিত করেছে। তবে দুর্নীতির উৎস হিসেবে চিহ্নিত এসব খাতের মধ্যে মাত্র ২৫টিতে অভিযান চালানো হচ্ছে যা পুরোপুরি কার্যকর নয়। দুদককে আরোও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। গত বছরের সবচেয়ে আলোচিত দুর্নীতি যেমন বালিশ, পর্দা ও মাস্ক কেলেঙ্কারী ইত্যাদি ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধে  রাষ্ট্র কোন কার্যকর ভূমিকা না নেয়ায় আবার কানাডার বেগমপাড়ায় দুর্নীতিবাজদের বাড়ি নির্মাণ ও অর্থ পাচারের মতো ঘটনাগুলো আমাদেরকে দেখতে হচ্ছে।"
 
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, "গত বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে সুইজারল্যান্ডে পাচার করা হয়েছে। সেই অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ ও পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি। দুর্নীতিবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু। জনগণের টাকা লুট করে দুর্নীতিবাজরা সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। কিছু দুর্নীতিবাজদের হাতে কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য জিম্মি থাকতে পারে না। এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে এদেরকে চিহ্নিত করে বয়কট করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ও লাখো শহীদের বাংলায় কোন দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই হবে না। সরকারকে অবিলম্বে সকল দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নিজ উদ্যোগে দেশ ও জাতির শত্রু সকল দুর্নীতিবাজ ও বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করার মাধ্যমে  জনগণের নিকট এদের মুখোশ উন্মোচন করবে। প্রত্যেকটি দুর্নীতিবাজদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে জনগণের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে ধারাবাহিক ভাবে অবস্থান কর্মসূচী পালন করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। দুর্নীতি দমনে দুদকের নিস্ক্রিয়তা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচারকারীরা কখনোই দেশপ্রেমিক হতে পারে না। এরা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়। পাঁচ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দুর্নীতি দমনে ব্যর্থ হওয়ার অপরাধে খুব শীঘ্রই দুদক কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী পালন করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।"

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর পাঁচ দফা দাবিসমূহ:
১। অবিলম্বে সকল দুর্নীতিবাজ ও বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে।

২। সকল মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে। 

৩। দুর্নীতিবাজ ও বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৪। বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে।

৫। দুর্নীতি দমন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]