সোমবার ৮ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে পারিনি: দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান    অচলায়তন ভেদ করে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী    বিএনপির বিকল্প আন্দোলন হচ্ছে গোপন বৈঠক আর ষড়যন্ত্র: কাদের    সংগ্রামী পাঁচ নারী পেলেন ‘জয়িতা’ পুরস্কার    খালেদার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর সুপারিশ    গিনির সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০    গুগল ডুডলে বিশ্ব নারী দিবস   
৭ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ মাদক সম্রাট কালু শাহিন!
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ৭:৪৪ পিএম আপডেট: ১৬.০১.২০২১ ১:১০ এএম | অনলাইন সংস্করণ

৭ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ মাদক সম্রাট কালু শাহিন!

৭ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ মাদক সম্রাট কালু শাহিন!

যুবলীগের পদ ও মাদকের টাকায় মাত্র কয়েক বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গনেশপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন আলম। এলাকাবাসীর মুখেও উঠে এলো তার অপকর্মের নানা অভিযোগ। সাত বছর আগেও নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল। দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন অন্যের দোকানে, বসবাসের জন্য ছিল একটি মাত্র টিনের ঘর। তার এই জীবন বদলের খেলায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যুবলীগের নাম। যুবলীগের কোনো সদস্য না হয়েও সবাইকে ম্যানেজ করে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন পাবনার আতাইকুলা উপজেলার গনেশপুর গ্রামের শাহীন আলম। পাশাপাশি হয়েছেন মাদকের গডফাদার।

সম্প্রতি এমন সব অভিযোগ উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রধানমন্ত্রীর কাযার্লয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি, সিআইডি ও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দিয়েছে এলাকাবাসী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গনেশপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন আলম। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসীবাহিনী গঠন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেছেন। এছাড়া আতাইকুলা থানার সবার কাছে তিনি মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের সমস্যা হলে শালিশ/দরবার করার নামে অনেক মানুষকে নিঃস্ব করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালেও শাহিনের থাকার মাত্র একটি টিনের ঘর এবং ৭ শতাংশ জমি ছিল। কিন্তু মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে শাহিন ও তার স্ত্রী ৮-৯ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য অর্ধ কোটি টাকা। এছাড়া গনেশপুর বাজারের কাছে বাড়ির জায়গাসহ তিন তলা ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত বাড়ি করেছেন। জায়গা ও বাড়ির আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া আতাইকুলা পূবালী ব্যাংক, আতাইকুলা ইউনিয়ন ব্যাংক ও বনোগ্রাম কৃষি ব্যাংকে প্রায় দুই কোটি টাকা জমা আছে। অপরদিকে গনেশপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ও আমিনের স্ত্রী বিধবা ভানু ও তার ছেলেদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা জমির সমস্যা সমাধানের নামে চাঁদাবাজি করে নিয়েছেন।

জানা যায়, বর্তমানে শাহীনের পাঁচ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। সাত বছর আগেও তিনি ফার্মেসির দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এরপর শাহীন দুধ বিক্রির পেশায় যুক্ত হয়। তারপর শুরু হয় তার মাদক ব্যবসা। আর এই মাদক ব্যবসা থেকেই তার সন্ত্রাসীবাহিনী গঠন এবং রাতারাতি বদলে যেতে থাকে জীবন। আর এর পেছনে কাজ করেছে যুবলীগ নাম। শাহীন যুবলীগের সদস্য না হয়েও বছরের পর বছর দলটির নাম ব্যবহার করে ফায়দা নিয়েছেন। কারণ স্থানীয় যুবলীগের কর্মীরা তার পকেটে। ফলে যুবলীগের নাম ব্যবহার করলেও কেউ তাকে কিছুই বলেনি।

অপরদিকে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সালের আগেও এই শাহিন শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে একদিকে মাদক ব্যবসা, অন্যদিকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবজি করছেন। এই শাহিনের নামে থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি কালুর বাসায় যেয়ে দিন-দুপুরে সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে তার ছেলে ও স্ত্রীকে মারধর করেন। এজন্য থানায় তার নামে মামলাও রয়েছে। এদিকে এই শাহীন তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ জায়েজ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হওয়ার পাঁয়তারা করছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) পাবনা জেলা জজ কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে একটি মাদক মামলায় শাহীন আলমকে ১৫ মাসের জেল দেয় আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। কারাগারের যাওয়ার আগে ১ জানুয়ারি তিনি এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদককে জানান, ‘এলাকায় শত্রু আছে, তারা অভিযোগ দিতে পারে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটা মিথ্যা।’ আপনি কি রাজনীতি করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহীন বলেন, ‘আমি যুবলীগ করি।’ কোন পদে আছেন? জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি আগে পদে ছিলাম এখন কোনো পদে নেই। শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’

শাহীনের ব্যাপারে ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি কালু বলেন, ‘গত বছর বাড়িতে সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। আমি জানিও না কেন আমার ওপর হামলা হলো। আমি এখনও বিচার পাইনি। তাই আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে দিলাম।’

এ বিষয়ে দুদকের কমিশনার (অনুসন্ধান ও তদন্ত) ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ অনেক। কমিশনের যাচাই-বাছাই কমিটি সেটা দেখভাল করেন। এরপর অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ তবে দুর্নীতি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]