রোববার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ: শেখ হাসিনা    রমজানেও ক্লাস চলবে স্কুল-কলেজে : শিক্ষামন্ত্রী     শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ প্রকাশ    প্রধানমন্ত্রী আল-জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে যা বললেন     সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই যোগ্যতা অর্জন: প্রধানমন্ত্রী     এক যুগ আগের আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়: প্রধানমন্ত্রী    উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন জাতির জন্য মর্যাদাকর: প্রধানমন্ত্রী   
জামাইরা ‘বাহাদুরি’ প্রমাণে মেলা থেকে বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি যান
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ৪:২৪ এএম আপডেট: ১৫.০১.২০২১ ৪:২৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ

জামাইরা ‘বাহাদুরি’ প্রমাণে মেলা থেকে বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি যান 
জামাইরা নিজের ‘বাহাদুরি’ প্রমাণ করতে মেলা থেকে বড় বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়িতে যান । পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে গাজীপুরের আড়াইশো বছরের ঐতিহ্য এ মাছ মেলা হয়ে গেল বৃহস্পতিবার দিনভর। 

কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল বিলে বসা মেলায় ছিল ভিন্নরকম এক আমেজ। মূলত মাছের মেলা হলেও কেউ কেউ এটাকে জামাই মেলাও বলে থাকেন। কারণ আঞ্চলিক রীতিতে এ গায়ে (গ্রামে) যাদের শ্বশুর বাড়ি, তারাই এখানকার প্রধান ক্রেতা। মেলার ঠিক  আগে বাপের বাড়ি মেয়েরা আসে নাইওর। আর শ্বশুরবাড়িতে জামাইয়ের বাহাদুরি জানান দিতেই কিনে নেন পছন্দের সব বড় মাছ। হোক সে জামাই নতুন কিংবা পুরনো।  

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জাঙ্গালীয়া, মোক্তারপুর ও জামালপুর ইউনিয়নের ত্রি-মোহনার বিনিরাইল গ্রামের বিরাট এলাকা জুড়ে মাছের পসরা সাজিয়েছে মাছ বিক্রেতারা। সহস্রাধিক স্টলে দেশের বিভিন্ন জায়গার বিক্রেতারা এখানে মাছ বিক্রির জন্য ছুটে আসেন। তারা নানা অঙ্গভঙ্গি করে সুর ধরে ডেকে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। 

কেউ কেউ বড় আকৃতির মাছ উপরে তুলে ধরে ক্রেতাদের ডাকছেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও চলে প্রতিযোগিতা। কে কতো বেশি ওজনের বা বড় মাছ মেলায় আনতে পারেন। অন্যদিকে, স্থানীয় জামাই-শ্বশুরদের মধ্যেও হয় সেই বড় মাছ কেনার নীরব প্রতিযোগিতা। এই মেলায় মাছের সঙ্গে হয় বস্ত্র, হস্ত ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের আমদানি। 

মেলায় আসা ক্রেতা তাজুল ইসলাম বলেন, মেলায় প্রচুর দেশি রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড়, বাঘাইড়, চিতল,কালবাউশ মাছের সমাগম হয়েছে। এছাড়া কার্প জাতীয় নানা মাছের আমদানি হয়েছে। এক কেজি থেকে শুরু করে বিশ কেজি পর্যন্ত এসব মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে পনের হাজার টাকা পর্যন্ত। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। সামর্থ্য অনুযায়ী এসব মাছ কিনছেন ক্রেতারা। 

মেলার মাছ বিক্রেতারা জানান, কেনার চেয়ে দেখতে আসা মানুষের ভিড় বেশি। তবে বিক্রিও একেবারে খারাপ না। স্থানীয় মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন হওয়াতে প্রতি বছর এ মেলায় যোগ দেন তারা। 

মেলা আয়োজক কমিটি সদস্য মনির হোসেন জানান, শুরুতে মেলাটি অনুষ্ঠিত হতো খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবে আয়োজন করা হতো। প্রায় আড়াইশো বছর যাবৎ মেলাটি আয়োজন হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেলাটি একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। তাই বেড়েছে মেলার পরিধিও। এখানে শুধু মাছ নয়, এ মেলাকে কেন্দ্র করে বস্ত্র, হস্ত, চারু-কারু, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা, তৈজষপত্র, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের স্টল বসে। মেলাকে ঘিরে বিনিরাইলের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। করোনার কারণে এবার মেলায় বেচাকেনা কম। 

স্থানীয় জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান ফারুক মাস্টার জানান, বৃটিশ শাসনামল থেকে শুরু হওয়া বিনিরাইলের মাছের মেলা এখন ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। এ মেলা গাজীপুর জেলার সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে পরিচিত। এ বছর করোনার কারণে বিকিকিনি কম। সব মিলিয়ে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা বেচাবিক্রি হইছে বলেও জানান তিনি। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]