শনিবার ● ১৬ জানুয়ারি ২০২১ ● ২ মাঘ ১৪২৭ ● ১ জমাদিউস সানি ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
পদ্মা সেতুর আসল রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ১:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পদ্মা সেতুর আসল রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া

পদ্মা সেতুর আসল রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া

পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের আমি যে কষ্ট করেছিলাম এটাকে আমি আল্লাহর তরফ থেকে একটা পরীক্ষা মনে করি এবং ভালো লেগেছিল এই জন্য যে দেশ একটি কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছিল। এখন আমি আর কিছু মনে করিনা এই বিষয়ে কিন্তু আল্লাহ আমাকে নিজের পুরস্কৃত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে যেটা আমার জন্য বিরাট একটা পাওয়া। 

গত রবিবার (০৩ জানুয়ারি) জার্মান দূতাবাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনারারি কনস্যুলেট, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়ার সঞ্চালনায় জুম মিটিংয়ে এসব মতামত ব্যক্ত করেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া তার পারম্ভিক বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ ইজ্জত হারা মা-বোন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের এবংজাতীয় ৪ নেতা সহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যেসকল মানুষ আত্মহুতি দিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি স্রদ্ধাজাপন করে তিনি অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এসময় তিনি উক্ত ওয়েবিনারে সংযুক্ত সবাইকে আমন্ত্রিত প্রধান অতিথির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।  

রাষ্ট্রদূত মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া তার বক্তব্যে আরও বলেন,  পদ্মা সেতুর আসল রুপকার প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতুর একজন স্বপ্ন দ্রষ্টা ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি এই সেতু বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেন এবং এর ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেই জুন মাসে মাওয়া ঘাটে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে। কিন্তু নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারায় পদ্মা সেতুর কাজ একবারেই থেমে যায়। এরপরে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুরদমে এই পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয় যার বাস্তব রুপ এখন আমরা দেখতে পারছি।  ওই সময়ে আমাকে পদ্মা সেতুর কাজ বাস্তবায়নের জন্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয় হয়। তখন মাননীয় মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও আমি ডেভোলপমেন্ট পার্টনারদের সাথে অব্যাহতভাবে কথা বলে এই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু পরবর্তী ঘটনা আপনারা জানেন যে, একটা সারথনেসি মহল এর মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে। এরপরেও সরকার তখন বিশ্ব ব্যাংকে অনেকের পরামর্শে আবার এই পদ্মা সেতুর প্রজেক্টে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায় এবং পরে একটা পর্যায়ে আমাকে জেলে যেতে হয়। ওইসময় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জানতেন না যে আমাকে জেলে নেওয়া হয়েছে, তিনি শুধু জানতেন আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এটা উনাকে অনেক ব্যথিত করে এবং পরবর্তীতে উনার হস্তক্ষেপে আমি জামিন লাভ করি। তিনি আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিয়েছেন। দুদক দেড় বছর বা তারও অধিক সময় নেই এই ব্যাপারটি সুষ্ঠু বিচারাধীন পক্রিয়াই আনতে। আমি দেড় বছর কষ্ট করেছিলাম। পরবর্তীতে আমাদের বিরুদ্ধে মামলার সুনির্দিষ্ট প্রমান না পেয়ে আমাদেরকে সুস্থ বিচারাধীন পক্রিয়ায় জমিন দেওয়া হয় যারা এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।  ড. মশিউর রহমান, সৈয়দ আবুল হোসেন, আমি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য; প্রত্যেকের মুখে কালিপা লেপন করার চেষ্টা করেছিল। আমরা সকলে এই রায়ে মুক্ত হয়েছিলাম কিন্তু আমাদের দেশের মিডিয়া এই রায়টিকে খুব ভালোভাবে নেয়নি। আরও কয়েক বছর যাওয়ার পরে ২০১৭ সালে কানাডীয় আদালত থেকে এই মামলাটিকে খারিজ করে দেয়। কানাডার আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো রকম দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্বব্যাংকসহ দেশি-বিদেশি চক্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা অসীম সাহসী ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিজয়ের মাসে বিজয়ের স্বাদ। পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশ পারে। প্রমাণ হয়েছে আমরা পারি। পদ্মা সেতু ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের জন্য। কারণ এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত ছিল। এত বড় আর খরস্রোতা একটা নদীর ওপর এত বড় একটা সেতু নির্মাণ করে শেখ হাসিনা বিশ্বের সামনে একটা ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। আমি যে কষ্ট করেছিলাম এটাকে আমি আল্লাহর তরফ থেকে একটা পরীক্ষা মনে করেছিলাম এবং ভালো লেগেছিল এই জন্য যে দেশ একটি কলঙ্ক থেকে মুক্তিপেয়েছিল। এরপরে আমি আর কিছু মনে করিনি এই বিষয়ে কিন্তু আল্লাহ আমাকে নিজের পুরস্কৃত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে যেটা আমার জন্য বিরাট একটা পাওয়া। 







আরও সংবাদ
https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]