শনিবার ৬ মার্চ ২০২১ ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: অনন্য অসাধারণ শেখ হাসিনা আমাদের গর্ব    নরসিংদীতে ‘থার্টি ফার্স্ট’ উপলক্ষে চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে কোপালো সন্ত্রাসীরা    না.গঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র    টেকনাফের রাখাইনে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন,ঘাতক স্বামী গ্রেফতার     শালিখায় গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদযাপন    আমার গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান পরিচয় আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান:তাপস    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের আংশিক কার্যক্রম বন্ধ   
গণতন্ত্র মুক্তির দিন: শেখ হাসিনাতেই আস্থাশীল পুরো বাংলাদেশ
ড. কাজী এরতেজা হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ৩০.১২.২০২০ ১২:০৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ

গণতন্ত্র মুক্তির দিন: শেখ হাসিনাতেই আস্থাশীল পুরো বাংলাদেশ

গণতন্ত্র মুক্তির দিন: শেখ হাসিনাতেই আস্থাশীল পুরো বাংলাদেশ

লাখো শহীদের রক্ত আর মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে শুধু একটাই প্রত্যাশা ছিল, লাল-সবুজের একটি পতাকা উপহার দেয়ার। সেই ক্ষণটা ছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন যখন পাক হানাদার বাহিনী এদেশের নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতি পলে পলের ইতিহাসে লেখা রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের ৪৯ তম বছর পারও হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ১৫ আগস্ট কালো রাতে আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে বেঁচে যাওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা এবং আমাদের অভিভাবক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান হিসাবে করোনাকালেও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের চেয়ে ভালো রেখেছেন। এমনকি বাংলাদেশের একটি মানুষও যেন করোনা মহামারির সময় খাবারের অভাবে না থাকেন সে ব্যবস্থা করেছেন। দেশের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি অর্থনীতি চাঙা করতে প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত।

অনেক কথাই বলতে পারি, আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে। তার রাজনৈতিক জীবনের পথটাও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন ঢাকা বিমানবন্দরে নামেন তখন ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ বৈরী পরিবেশ ছিল। সেদিনই তিনি হয়তো প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, জাতির জনকের অসমাপ্ত কাজগুলো তিনি করেই দেখাবেন। তিনি যে শুধু স্বপ্ন দেখান তা নয়, সেই স্বপ্নগুলোর সফল বাস্তবায়ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাকে ঘিরে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো সেই ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

২১ বার হত্যাচেষ্টার পরও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ কৃপায় বাংলাদেশের উন্নয়নের কারিগর হিসাবে কাজ করতে বেঁচে গেছেন। আমরাও গর্বিত হচ্ছি প্রতিনিয়তই তাকে দেখে। দেশের উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য কর্মপ্রাণ এই মানুষটি যেভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তা আর নতুন করে বলার কিছু নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসাবে এদেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আজ ঐতিহাসিক ৩০ ডিসেম্বর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বুধবার ৩০ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ দিবস পালন করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্মরণে দিনটি পালন করবে ক্ষমতাসীন দলটি। আমি নিজেও এই দলের একজন কর্মী হিসাবে মনে করি, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রকৃতপক্ষেই গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। এদেশের মানুষ বিশ্বাস শেখ হাসিনার ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস রাখে  বলেই সেদিন ব্যালট বিপ্লবে আবারো ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ।

ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময় কারারুদ্ধ শেখ হাসিনা কোনোভাবেই আপোষ করেননি। এমনকি তাকে দেশে ফিরতেও দিচ্ছিল না, ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিনের সরকার। কিন্তু তিনি এদেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধুর মতোই। সকল ষড়যন্ত্রকারীদের মুখের ওপর বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেই যে দেশে ফিরে দেশকে নেতৃত্ব দিতে শুরু করলেন, আজ অবধি তার হাতেই বাংলাদেশ সুরক্ষিত রয়েছে। এই সময়েও তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে সেই একাত্তরের পরাজিত শক্তির বংশধররা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বিশ্বঘাতক মীরজাফর খন্দকার মোশতাক এবং খুনি জিয়াউর রহমান ভেবেছিল, আর কোনোদিন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নামের কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না। আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। যখন খুনি জিয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনে তার এক সহকর্মীকে বলেছিলেন, ‘সারারাত ঘুমাতে পারি নাই। শেখ হাসিনা কিভাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি হলো? দেশটা এবার ইন্ডিয়া হয়ে যাবে।’ খুনি জিয়াউর রহমান যেমন শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের ঐক্যের প্রতীক হিসাবে সহ্য করতে পারেনি। তারই ধারাবাহিকতায় খুনি জিয়ার পুত্র তারেক রহমান এখন মৌলবাদীদের মাঠে নামিয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে ভাংচুর করানোর মাধ্যমে। যার জন্মই হয়েছে ষড়যন্ত্রকারীর বীর্য থেকে তার কাছে বাংলাদেশ ভালো কিছু কখনোই আশা করেনি, করবেও না। একটা কথা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যখন খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর লাশ দেখতে গিয়েছিলেন, তখন তার প্রতি নূন্যতম সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন খালেদা জিয়া। তারেক রহমান যতই মৌলবাদীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করুক না কেন, এদেশে যতদিন একজন বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সেই চেতনার মানুষ বেঁচে থাকবে তারা কখনো সফল হবে না। তারা একদিন হারিয়ে যাবে, নিঃশেষ হয়ে যাবে। ইতিহাস কখনোই তাদের মনে রাখবে না। ইতিহাসের কুলাঙ্গার হিসাবে বেঁচে থাকার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই বলেই আজ ষড়যন্ত্রকারীরা মানুষের মন থেকেই উঠে গেছে।

পক্ষান্তরে, আমাদের গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে বিরোধী দল হিসাবে এখনো তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিচ্ছেন। আজকের এই গণতন্ত্র মুক্তির দিনে শেষ কথা হিসাবে বলতে পারি, শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক এবং তার হাতেই গণতন্ত্র সুসংহত। মুজিব শতবর্ষে গণতন্ত্র মুক্তির দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। 

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা, দ্য পিপলস টাইম।
পরিচালক, এফবিসিসিআই।
সদস্য, কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য উপ-কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ইরান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]