শুক্রবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২০ ● ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ● ১০ রবিউস সানি ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
রায়ের আগে কিল-ঘুষি, পরে কামড়!
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৭:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রায়ের আগে কিল-ঘুষি, পরে কামড়!

রায়ের আগে কিল-ঘুষি, পরে কামড়!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় রায়ে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির দায় থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, আজ দুপুর আড়াইটার দিকে মজনুকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে মজনু অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং পরে কাঠগড়ায় পুলিশকে মারধর করেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কাঠগড়ায় তোলার পর পরই মজনু সেখানে দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) নৃপেনের ওপর হামলা চালায়। মজনু এসআইয়ের গলা চেপে ধরে কিল-ঘুষি মারেন। তখন অন্য পুলিশ সদস্যরা এসে এসআই নৃপেনকে সরিয়ে নেন। এ ছাড়া মজনু সেখানে দায়িত্বরত অন্য পুলিশ সদস্যদের গালাগাল করেন। তখন আদালত কক্ষের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়।

মজনু পুলিশ, রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও আইনজীবীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এরপর আদালতের বিচারক নিরাপত্তার জন্য রুদ্ধদ্বার কক্ষে রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। তখন আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আদালত কক্ষ থেকে বাইরে বের করে রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

আসামি মজনু আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা শেষে এসআই নৃপেনের হাতে কামড় দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

রায় শেষে মজনুকে কড়া নিরাপত্তায় পুরাতন জেলা জজ ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে গারদখানায় নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় মজনু আবার এসআই নৃপেনের হাতে কামড় দেন। তখন পুলিশ সদস্যরা মজনুর মুখ চেপে ধরেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। কামড়ের ফলে এসআই নৃপেনের হাতে সামান্য জখম হয়। তাঁর হাতে কামড়ের চিহ্ন আছে।

ইব্রাহিম বলেন, “মজনু বলেছেন, ‘আমি ধর্ষণ করিনি। মিলন, দুলাল, ইয়াছিন ও আলামিন-এই চারজন ধর্ষণ করেছে। তাদেরকে ধরেন। আমারে ছাইড়া দেন। আমি মইরা যামু, আমারে ছাইড়া দেন।’ এরপর মজনুকে গারদখানায় ঢোকায় পুলিশ।

তবে এসআই নৃপেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, মজনু তাঁকে কামড় দেননি। তিনি কামড় দিয়ে হাতকড়া ভাঙতে চেয়েছিলেন।

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

গত ১৬ মার্চ মজনুকে একমাত্র আসামি করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আবু সিদ্দিক।

সে অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ৪ জানুয়ারি ওই ছাত্রী বান্ধবীর দাওয়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে তাঁর বান্ধবীর বাসা শেওড়ার উদ্দেশে রওনা হন। সেদিন সন্ধ্যা ৭টায় ছাত্রী শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে না নেমে কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নেমে যান। সে সময় ছাত্রী বুঝতে পারেন, তিনি ভুল করে নেমে পড়েছেন। ভুল বুঝতে পেরে তিনি ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে থাকেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণা শেষে তাকে কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মজনু ভবঘুরে প্রকৃতির লোক। ঢাকা শহরে তাঁর কোনো স্থায়ী বাসা নেই। ঘটনার দিন মজনু বিকেল ৫টায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যান। ওষুধ নিয়ে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে একটু পূর্বদিকে যাওয়ার রাস্তার ফুটপাতের পাশে ইটের তৈরি বেঞ্চে বসে থাকেন। সন্ধ্যা ৭টায় ছাত্রী ওই ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছিলেন। মজনু পেছন দিক থেকে হঠাৎ তাঁকে পাশের ঝোপের ভেতরে ফেলে দেন। তখন ছাত্রী চিৎকার করতে থাকলে মজনু গলা চেপে ধরেন এবং মুখে, বুকে ও পেটে কিল ঘুষি মারেন।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, আসামি মজনু ছাত্রীর গলা চেপে ধরায় তিনি নিস্তেজ হয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তখন মজনু তাঁকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পরে মজনু ছাত্রীর ব্যাগ থেকে একটি প্যান্ট বের করে তাঁকে পরিয়ে দেন। ছাত্রী জ্ঞান ফেরার পরে দেখেন তাঁর পরনে যে প্যান্ট ছিল সেটা আর নেই। ছাত্রী তখন চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে মজনু টাকা, মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনতাইয়ের জন্য গলা চেপে ধরেন এবং কিল-ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে মজনু ছাত্রীর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। এরপর ছাত্রী দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে একটি রিকশায় ওঠেন এবং তাঁর বান্ধবীর বাসায় যান। বান্ধবীকে বিষয়টি জানালে ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, এরপর ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত, ছাত্রীর পরা প্যান্ট, ছাত্রী ও আসামির নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চিফ ডিএনএ অ্যানালিস্টের কাছে পাঠানো হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, মজনু ও ছাত্রীর ডিএনএ উপস্থিত আছে। যাতে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে আসামি মজনু ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন।

ভোরের পাতা/এএ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






আরও সংবাদ
https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com