বৃহস্পতিবার ● ৩ ডিসেম্বর ২০২০ ● ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ● ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বেই বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে
#করোনা মোকাবেলায় সবচে বড় রক্ষা কবজ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি: অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম খান। #গণমাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধিটাকে আরও বেশি প্রমোট করতে হবে: ডা: আবদুল্লাহ জাকারিয়া। #কার্যকরী ভ্যাকসিন আসার আগ পর্যন্ত মাস্কটাই সবচে বড় ভ্যাকসিন: ডাঃ মোঃ সালেহ মাহমুদ তুষার।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বেই বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে

শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বেই বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে

করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এখনই অনেক দেশ আবার জনসাধারণের অবাধ চলাচলে কড়াকড়ি করেছে। কোনো কোনো দেশ নতুন করে লকডাউন আরোপের কথাও ভাবছে। বাংলাদেশেও এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসছে শীতে যার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ফলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার আবারও সমন্বিত রোড ম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলছে নানা প্রস্তুতি। এরই মধ্যে করণীয় নির্ধারণে সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে জনসাধারণকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ মানতে সরকারকে কঠোর হতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ১৩৮ তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। রবিবার (২৫ অক্টোবর) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি, যুক্তরাজ্য, লন্ডন,  ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের চিকিৎসক ডা: আবদুল্লাহ জাকারিয়া, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা গবেষক ডাঃ মোঃ সালেহ মাহমুদ তুষার। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম খান বলেন, প্রথমেই আমি আমার বক্তব্যের শুরুতে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা জানাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, গভীর শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করছি ১৫ই আগস্টের সেই কালো রাতে তার পরিবারের যেসব সদস্যরা শাহাদাৎ বরণ করেছিলেন। গভীর শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ ইজ্জত হারা মা বোনদের এবং সম্প্রতি যারা করোনা চিকিৎসা দিতে গিয়ে যেসব চিকিৎসক মারা গিয়েছেন তাদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমি প্রথমেই আইএমএফ এর রিপোর্টের দিকে আলোকপাত করে বলতে চাচ্ছি আমাদের জন্য এটা আসলেই স্বস্তির বিষয় যে আমরা ভারত-পাকিস্তান থেকে অনেক ভালো অবস্থানে আছি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এই সংকটময় অবস্থানের মধ্যে দিয়েও সব দিক থেকে একটা ভালো অবস্থানে আছে। এই শীতের মৌসুমে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানতে শুরু করবে এবং এটা নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন যে, এই মৌসুমে করোনা প্রকোপ বাড়বে এবং এটা মোকাবেলা করার জন্য সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। এর জন্য তিনি দরকার পরলে মোবাইল কোর্ট করে এই বিষয়টা মনিটর করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এবং আজকে আরেকটি সিদ্ধান্ত জানতে পারলাম, নো মাস্ক, নো সার্ভিস। করোনা প্রতিরোধের জন্য আমাদের কাছে তিনটি পদ্ধতি হাতে আছে। একটি হলো স্বাস্থ্যবিধি, দুই নং হলো চিকিৎসা ও তিন নং হলো ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিনে আমরা আশা করছি কারণ এখন প্রায় ১৭৬ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে ১০টি ভ্যাকসিন এগিয়ে আছে ও ৪টি নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদ দেখতে পেয়েছি ইতিমধ্যে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ৪টি ভ্যাকসিন সীমিত আকারে ট্রাইলের পাশাপাশি ব্যবহারও করা শুরু হয়েছে। এই বছরের শেষের দিকে আরও কিছু ভ্যাকসিনের ব্যবহার শুরু হতে পারে কিন্তু সেক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের যে ৬টি ধাপ আছে সেগুলো পেরিয়ে আগামী বছরে হয়তো সাধারণ মানুষের জন্য তা উন্মুক্ত হতে পারে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে আমাদের সবচে বড় রক্ষা কবজ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। এই করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে সেখানে যদি এই স্বাস্থ্যবিধিটা আরও একটু শক্ত অবস্থানে নিয়ে যদি তা পরিপূর্ণ রূপে বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায়ও ভালো অবস্থানে থাকতে পারবো।

ডা: আবদুল্লাহ জাকারিয়া বলেন, আলোচনার প্রারম্ভে আমি এটা বলেতে চায় যে, কোন কিছু কাকতালীয়ভাবে হয়না। বাংলাদেশকে বলা হয় প্যারাডক্স। অর্থনীতি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি বলেন সবক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে বাংলাদেশে। এতো কিছু কিন্তু কাকতালীয়ভাবে হয়না। কেউনা কেউ এটা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমাদের জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে এই সবগুলো সূচক কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি, স্বাস্থ্যবিধি, মানবসূচক এই সব দিক থেকেই আমরা পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে অনেক এগিয়ে আছি। পাশ্চাত্য দেশ গুলো প্রথমে এটাকে বিশ্বাস করতে চায়না তারপর যখন তারা এটাকে তাদের এজেন্সি দিয়ে ক্রসচেক করায় তখন তারা এটাকে বলে প্যারাডক্স। আমি বলবো এটা প্যারাডক্স না, এটা সুযোগ্য নেতৃত্ব। করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে না আসলেও জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও খুলে দেয়া হয়েছে অফিস আদালত। চাপ বেড়েছে বাজার ও রাস্তাঘাটেও। ঢাকায় আবারো শুরু হয়েছে জ্যাম। কিন্তু যে কারণে দেশে সব কিছু বন্ধ রাখা হয়েছিলো সে করোনাভাইরাস কি কমেছে? যুক্তরাজ্যের অনেক দেশে সংক্রমণ কমার পর তা আবার বেড়ে গিয়েছিলো। যাকে বলা হচ্ছে সংক্রমণের দ্বিতীয় আঘাত বা সেকেন্ড ওয়েভ। মূলত ভাইরাস সংক্রমণের হার কমে আবার বেড়ে গেলে তাকে সেকেন্ড ওয়েভ বলা হয়। এই সেকেন্ড ওয়েভ আমাদের যুক্তরাজ্যে অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। আমাদের এখানে লকডাউন শুরু হয়েছিল ২৩এ মার্চ সেখানে এখন সেই সংখ্যা প্রায় তিনগুন বেশি। আমাদের এখানে সরকার লকডাউন দিচ্ছেন না এইজন্য যে এখানে কতগুলো কারণ রয়েছে। তারমধ্যে করোনা মোকাবেলা করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার সেগুলো অলরেডি সরকার নিয়েছে। আরেকটি কারণ হচ্ছে ওষুধের ট্রায়াল বা এর ব্যাবহার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের করোনার মোকাবেলায় সব থেকে কার্যকর বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। এই স্বাস্থ্যবিধি মোকাবেলায় মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে বুঝানো যায়, এক্ষেত্রে দেশের মিডিয়া যদি নিউজ এর পাশাপাশি প্রমোশনাল ভাবে বুঝানো যায় তাহলে এর রোধ করা আসলেই সহজ হয়ে যাবে দেশের মানুষের জন্য।

ডাঃ মোঃ সালেহ মাহমুদ তুষার বলেন, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আমরা একটু আতঙ্কিত আছি আবার সচেতনতার দিক দিয়ে আমরা একটু হাল ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু এইযে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে এর জন্য আমরা সবাই একটু সচেতন হচ্ছি আবার। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় বলতে আমি এটা সবাইকে বুঝাতে চাচ্ছি যে, প্রথমে এক ঝাঁক লোক করোনা আক্রান্ত হয়েছে আবার দ্বিতীয় দিকে পরবর্তী এক ঝাঁক লোক আক্রান্ত হতে পারে। এটাও হতে পারে যে লোক প্রথমে আক্রান্ত্র হয়েছে তিনি পরেও আবার আক্রান্ত হতে পারে। যেহেতু এটা প্রমাণিত না যে এই করোনা ভাইরাস দ্বিতীয়বার এই করোনা ভাইরাস আবার আক্রমণ করে কি করে না, তাই আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা এইরকম বেশ কয়েকটি কেইস পেয়েছি যে, প্রথমে যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা দ্বিতীয়বারেও আক্রান্ত হয়েছে কারণ তাদের শরীরে পর্যাপ্ত এন্টিবডি ছিলো না। তাই আমাদেরকে সবাইকে বাড়তি সচেতনতা নিতে হবে। যে কোনো মহামারীর দুই তিনটি ওয়েভ থাকতে পারে। জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে স্কুল কলেজ খুলে দেবার পর বেড়ে যায় করোনা সংক্রমণের হার। মূলত এটিই হলো সংক্রমণের দ্বিতীয় আঘাত। আমার শরীরে এন্টিবডি আছে কিন্তু আরেকজনের দ্বারা আমি হাতে বা শরীরে অন্য স্থানে করোনা ইনফেক্টেড হয়ে আমার না হয়েও হয়তো আমার পরিবারের অন্য কাউকে এটা ছড়িয়ে দিচ্ছি মনের অজান্তে। এই বিষয়টাকে একটু খেয়াল রাখতে হবে। যেহেতু এটা একটা ভাইরাসজনিত রোগ, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বায়ুবাহিত হয়েই অন্যকে ছড়ায়। আসলে কেউ এ রোগ থেকে শতভাগ ইমিউন না। অন্যান্য রোগ থাকুক আর না থাকুক, যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে, তবে যারা বয়স্ক, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম অথবা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত তাদের এই রোগের জটিলতা অনেক বেশি হয়। সুতরাং এসব ভালনারেবল জনগোষ্ঠীকে সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দিয়ে ভালো রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, না হলে কোভিড হতে আমাদের যেমন মুক্তি মিলবে না, তেমনি হাসপাতালগুলোতে মৃত্যুর মিছিল চলতেই থাকবে। আমাকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। কার্যকরী একটা ভ্যাকসিন আসার আগ পর্যন্ত মাস্কটাই সবচে বড় ভ্যাকসিন। বাইরে বের হয় আর বাসায় থাকি, যখন যে অবস্থাতেই আমরা থাকিনা কেন আমাদের এই মাস্কটা অবশ্যই পরতে হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]