শুক্রবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২০ ● ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ● ১০ রবিউস সানি ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মোবাইল চুরি এবং অপরাধ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ সুপারিশ
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ৮:২০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মোবাইল চুরি এবং অপরাধ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ সুপারিশ

মোবাইল চুরি এবং অপরাধ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ সুপারিশ

সারাদেশে চোরাচালানের মাধ্যমে মোবাইল আমদানি করা এবং দেশে ভুয়া আইএমই নম্বর ব্যবহার করে মোবাইলের মাধ্যমে যেসব অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে তা বন্ধ করতে এবং সারাদেশে মোবাইল চুরি প্রায় শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঁচটি সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সেলফোন রিপেয়ার টেকনিশয়ান এসোশিয়েসন। গত ২৩ অক্টোবর সংগঠনের আহ্বায়ক মো. হাজবুল আলম জুলিয়েট স্বাক্ষরিত ৫ দফা সুপারিশের চিঠিটি ঢাকা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জমা দেয়া হয়েছে। 

চিঠিতে বিষয় হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল মেরামত টেকনিশিয়ান পেশাজীবীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, ৫ দফা দাবি এবং বাংলাদেশ থেকে ফোন চুরি ও মুঠোফোনের দ্বারা সংগঠিত অপরাধ বন্ধে  প্রস্তাবনা প্রসংগে।

তারপর চিঠিতে লিখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বিনম্র শ্রদ্ধা ও সালাম নিবেন। প্রথমে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে। যার কারণে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন বাংলাদেশ। একই সাথে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার, মানবতার কল্যাণে নিবেদিত জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনার প্রতি। আপনার সহযোগিতায় এ দেশ পেয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তি আর এ প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে আমরা লাখো বেকার যুবক পেয়েছি আত্নকর্মসংস্থানের সুযোগ। আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আমরা মোবাইল মেরামত টেকনিশিয়ান পেশাজীবীরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে, বাংলাদেশে এ পেশার জন্য নির্দিষ্ট কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও আমরা আপনার প্রযুক্তিগত সহয়তায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার দ্বারা অনলাইনে কারিগরি  শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছি এবং বাংলাদেশের কোটি মানুষকে মোবাইল মেরামত সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এ পেশার মাধ্যমে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে নিজ পরিবার ও সমাজে হয়েছি প্রতিষ্ঠিত। আমাদের এ পেশাজীবীদের কাজ শেখা ও আত্নকর্মসংস্থান সম্ভব হয়েছে আপনার একান্ত সহযোগিতায়। ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার “মাদার অব হিউম্যানিটি“ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ।
 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার নিকট বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা মোবাইল মেরামত টেকনিশিয়ান পেশাজীবীরা বাংলাদেশের সর্বত্র জনগন কে নিরলস ভাবে কারিগরি সহযোগিতা করে আসছি। আপনার সহযোগিতায় আজ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে গেছে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আজ খুব দ্রুত যোগাযোগ করতে পারছে। একজন কৃষক বাজারমুল্য ও কৃষি সমাধান পাচ্ছে খুব সহজেই। আর আমরা খুব সল্প মূল্যে আমাদের পেশার দ্বারা সকল কে সহযোগিতা করে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আমাদের এ পেশা এখনও একটি স্বীকৃত পেশা হিসেবে সমাজে গ্রহনযোগ্য হয়নি এবং বর্তমানে কিছু আইনি জটিলতা আমাদের এ পেশার কার্যক্রম কে বাধাগ্রস্থ করে। আমরা প্রতিটি জায়গায় অবজ্ঞা ও অবহেলা এবং হয়রানির শিকার হয়েছি। আমাদের এ পেশাজীবীদের মাঝে অনেক শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকার পরও আমরা কোন প্রকার স্বীকৃতি বা মূল্যায়ন পাইনা । আপনার একটু সহযোগিতা এনে দিতে পারে এ পেশার উজ্জ্বল ভবিষ্যত। আপনার সহযোগিতা ও স্বীকৃতি পেলে আমরা প্রশিক্ষণ দ্বারা বেকার ছেলে/মেয়ে দের প্রশিক্ষিত করে বেকারত্ব মুক্ত সমাজ গড়তে সহযোগিতা করতে পারি। অন্যান্য সকল পেশায় স্বীকৃতি আছে, আছে অধিকার। কিন্তু আমাদের পেশায় তা নেই। অনেকেই আমাদের বলে মেকার। এক বুক আশা নিয়ে সম্মানের সাথে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য আপনার কাছে আকুল আবেদন করছি। একমাত্র আপনার হস্তক্ষেপ এর মাধ্যমে আমদের এ সকল সমস্যা দ্রুত সমাধান হতে পারে। তাই আপনার সহযোগিতা কামনায় আমরা  আমাদের ৫টি প্রস্তাবনা/দাবি নিবেদন করছি।

প্রস্তাবনা হিসাবে স্বারকপত্রে নিন্মোক্ত ৫টি সুপারিশ উল্লেখ করা হয়েছে।  

১। মোবাইল মেরামত টেকনিশিয়ান পেশাকে একটি স্বীকৃত পেশা হিসাবে ঘোষণা করার আকুল আবেদন। তাহলে আমরা এ পেশাজীবীরা অন্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বেকার সমস্যা সমধানে কাজ করার উৎসাহ পাবো।
 
২। বাংলাদেশের চলমান আইন সংশোধন ও নতুন কঠোর আইন প্রনয়ন দ্বারা এ পেশার সকল অপরাধকে বন্ধ/নিরুৎসাহিত করার আবেদন। একটি কার্যকরি IMEI Register Database তৈরী (IMEI change না করা গেলে মুঠোফোন দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে বাধাগ্রস্থ করবে)। মোবাইল মেরামতে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার বক্স এর অনুমোদন দান। এই সব বক্স বা ডিভাইস বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মোবাইল মেরামতের পাঠ্য সুচিতে স্বীকৃত। সেইসাথে এ বক্সগুলো সকল উন্নত রাষ্টে স্বীকৃত।
 
৩। আমাদের এ পেশার কোন অভিভাবক নেই। আমাদের একটি সাংগঠনিক কাঠামো গঠনে সরকারি অনুমোদন দিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত করতে  আপনার হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি। এ সংগঠনটি হবে অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সেবামুলক। যা সরকার ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীকে অপরাধ দমনে থাকবে অঙ্গিকার বদ্ধ। সাংগঠনিক আইন দ্বারা সকল টেকনিশিয়ান পরিচালিত হবে। আমাদের সংগঠনের সদস্যগণ চোরাই পণ্য ব্যবহার ক্রয়/বিক্রয়/স্থাপনে বিরত থাকার অঙ্গিকার পত্রের মাধ্যমে সনদ গ্রহন করবে। সাংগঠনিক সনদ বা সদস্য আইডি ছাড়া কেউ এ পেশার কাজ করতে পারবে না। সাংগঠানিক আইন দ্বারা সকল টেকনিশিয়ান পরিচালিত হবে। সংগঠন গ্রাহক মতামত কপি সরবরাহ করবে, গ্রাহক কপিতে গ্রাহক গণ মতামত ও সেবার মান উল্লেখ্ করবেন। সংগঠন গ্রাহক মান যাচাই পূর্বক সদস্যকে সনদ লেভেল মানপত্র প্রদান করবেন। যা গ্রাহকদের সুন্দর মান নিশ্চিত করবে। সংগঠনটি মাসিক, ত্রিমাসিক ও বার্ষিক পরিদর্শন দ্বারা এর সদস্যদের কারিগরি মান যাচাই, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ প্রদান, রাষ্ট্রিয় আইন মেনে চলা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ সকল বিষয়ের উপর সনদ প্রদান করবে।
 
৪। সরকারী সহযোগিতায় মোবাইল মেরামত পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষার দ্বারা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (RPL LEVEL ) সার্টিফিকেট প্রদানে সহযোগিতা প্রদান। যা দিয়ে দেশ ও বিদেশ এ পেশার দ্বারা বিভিন্ন কেয়ার সেন্টার এ চাকুরির করার সুযোগ পাবে।
 
৫। ক্ষুদ্র ঋণ সহযোগিতা স্বল্প সুদ বা ০% সুদে ঋণ সুবিধা দেয়া। একজন প্রশিক্ষিত সদস্যকে নতুন প্রতিষ্ঠান স্বাপনে সহয়তা করবে।
 
উপরোক্ত বিষয় বিবচনা পূর্বক, আমাদের পেশার অপব্যবহার রোধে এ পেশার সুনির্দিষ্ট কার্য প্রণালী উল্লেখ্য করে একটি যথাযথ আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। এ সংক্রান্ত কোন কঠোর আইন না থাকায় অনেক অপরাধী অপরাধ করে যাচ্ছে। 

এ চিঠির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মোবাইল ফোন রিপেয়ারিং করা টেকনিশিয়ান বলেন, গুটি কয়েক মানুষের জন্য আমাদের মতো ৫ লাখ লোক এখন না খেয়ে মরার অবস্থা। তারা তাদের অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই এমন ভালো একটি কাজে বাধা দিচ্ছে। সারাদেশের প্রায় সব মোবাইল টেকনিশিয়ানরা এই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন চায়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর তড়িৎ সিদ্ধান্ত আশা করেন তিনি। 

এদিকে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন,  আমি মাত্র বিষয়টি জানতে পেরেছি। অবশ্যই মোবাইল চুরি এবং মোবাইলে সংগঠিত অপরাধগুলো বন্ধ হলে এই সুপারিশগুলোর মাধ্যমে অবশ্যই সরকার খুব ইতিবাচকভাবে ভেবে দেখবে।

মোবাইল চুরি এবং অপরাধ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ সুপারিশ

মোবাইল চুরি এবং অপরাধ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ সুপারিশ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






আরও সংবাদ
https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com