বৃহস্পতিবার ● ৩ ডিসেম্বর ২০২০ ● ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ● ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
শেখ হাসিনার বাংলাদেশে শুধু সম্ভাবনার হাতছানি
#শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় দেশ উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছে গেছে : ফারুক হোসেন #মানুষের নৈতিক বিকাশের উন্নয়নে শেখ হাসিনা ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছেন : অধ্যাপক ড. নূর মুহাম্মদ #দেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনা জীবনের সব আরাম-আয়েশ বিসর্জন করেছেন : এম এ রব মিন্টু
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০, ১০:১৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনার বাংলাদেশে শুধু সম্ভাবনার হাতছানি

শেখ হাসিনার বাংলাদেশে শুধু সম্ভাবনার হাতছানি

অবশ্যই বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। তা না হলে ১৯৭১-এ রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হতো না। বাংলার কৃষক ও শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে, ফসলে তথাকথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ এখন উদ্বৃত্ত খাদ্য ও বৈদেশিক রেমিট্যান্সে ভরে উঠেছে। মাথাপিছু জাতীয় আয় বাড়ছে। চাষাবাদের জমি দিন দিন কমলেও ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির মতো বাড়তি ফসল উৎপাদন করছে এ দেশের কৃষক। সামাজিক উন্নয়নে ভারতকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। 

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ১৩৩ তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক, সাবেক সচিব,  জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্বাহী চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. নূর মুহাম্মদ, ইতালি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রব মিন্টু। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

ফারুক হোসেন বলেন,  আমাদের ইকোনমিক গ্রোথ এখন একেবারের স্পষ্ট। আমাদের ২০২১, ২০৪০, ২০৫০ সালের যে মাইলস্টোন আছে তা এখন আমাদের বিবেচনায় আছে। কিভাবে একটি প্রচেষ্টার কারণে একটি দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে নেওয়া যায় তা দেখিয়ে দিচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা যদি দেখি ২০০০ সালে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ইমপ্লয়মেন্ট ছিল ১০%, ২০১০ সালে ছিল ১৮% এবং ২০১৮ তে তা ২০%। এক্ষেত্রে বুজা যাচ্ছে আমাদের কৃষি সেক্টরকে আমারা ইকোনমিক সেক্টরে ট্রান্সফার করছি। যখনি আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়ালের দিকে যাচ্ছি তখন আমাদের যে ১৬৭ মিলিয়ন জনসংখ্যা রয়েছে তার মধ্যে ৬০ভাগ কর্মক্ষম। যার মধ্যে বয়সের সীমা হলো ১৫ থকে ৬৪বছর। পৃথিবীর যতগুলো দেশ আছে যারা এই জনসংখ্যা নিয়ে কাজ করে তার মধ্যে চমৎকার অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের জনসংখ্যার ১/৩ ভাগ অর্থাৎ ৪ কোটি তরুণ চাকুরীতে প্রবেশ করবে। জনসংখ্যার সুবিধার জানালায় আমরা আছি এবং এটিকে যদি আমরা কাজে লাগিয়ে আমরা ইন্ডাস্ট্রি সেক্টরে, আত্মকর্মসংস্থানে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আরও একটি চমৎকার ফলাফল আসবে। এর যে ফলাফল আসবে তাতে নানাভাবে আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাব আসবে। একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হবে আরেকদিকে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়বে। বিশ্বে করোনা মহামারী চলাকালীন যখন উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থায় ধস নেমে এসেছে, ঠিক তখনই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে আমাদের দেশ তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আমাদের অর্থনীতির শতকরা ৮৫ ভাগ অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং বৈশ্বিক মন্দা বা মহামন্দার আশঙ্কা কিংবা করোনা ভাইরাস মহামারি অর্থনীতিতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো উপার্জন। শিক্ষাখাতে টেকনিক্যাল স্কিল এখন উন্মুক্ত হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা খাতেও উন্নয়ন আসছে। আমরা যতবেশি সাধারণ শিক্ষা দিব ততবেশি বেকারত্বের অভিসাপ আমরা মাথায় নিয়ে ঘুরবো। আমরা যতবেশি কারিগরি ও টেকনিক্যাল শিক্ষা দিব ততবেশি আমরা এই বেকারত্ব থেকে তারাতারি মুক্ত হতে পারবো।

অধ্যাপক ড. নূর মুহাম্মদ বলেন,  আজকের দৈনিক ভোরের পাতা সংলাপে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এইযে আমার পূর্ববর্তী বক্তা উনি বললেন, ৪ কোটি তরুণরা কর্মক্ষেত্রে যোগ দিবে তারা দেশকে আসলেই দেশকে সামনের দিকে দিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু বলেছিলেন, সোনার বাংলা চায়, সোনার মানুষ চায়। বঙ্গবন্ধুর সেই কথায় যদি আমরা আলোকপাত করি তাহলে দেখতে পায় উনি কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি যে মানবিক উন্নয়নের গুণাবলী বা নৈতিক উন্নয়নের গুণাবলীর উপর বেশি গুরত্ত দিয়েছেন। আমি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের একটি আর্টিকেল পড়েছি সেখানে উনি লিখেছেন যে, বঙ্গবন্ধু কিন্তু টাকা-পয়শায় ভরপুর একটি উন্নত দেশ হবে এটা কিন্তু প্রত্যাশা করেননি তিনি, পাশাপাশি আমাদের যে মানবিক বিকাশ, সামাজিক নৈতিকতার বিকাশ, ধর্মের বিকাশ এটা চেয়েছিলেন তিনি। ক্ষুদ্র আয়তনের একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের নিকট প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র দূরীকরণে তার ভূমিকা, জনবহুল দেশে নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুতা আনয়ন, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেওয়া এই বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত, প্রায় সর্বক্ষেত্রে অবকাঠামোবিহীন সেদিনের সেই সদ্যজাত জাতির ৪৩ বছরের অর্জনের পরিসংখ্যানও নিতান্ত অপ্রতুল নয়। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮টি লক্ষ্যের মধ্যে শিক্ষা, শিশুমৃত্যুহার কমানো এবং দারিদ্র হ্রাসকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের করা মন্তব্য এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। তাঁর মতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। বিশেষত শিক্ষা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনা মানুষের নৈতিক বিকাশের উন্নয়নে ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ করেছেন।  

এম এ রব মিন্টু বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আজকের বাংলাদেশ আর আগেরকার বাংলাদেশের মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। আমি ৯০ দশকে ইতালি এসেছি। ইতালি আসার পর আমাকে বাঙ্গালি হিসেবে কেউ চিনতো না, আমাকে ভারতীয় হিসেবে ধরা হতো তখন। বাংলাদেশ যে মানচিত্রে আছে এটা চিনতে তাদের কষ্ট হতো। তারা বাংলাদেশ মানেই বুজতো বাংলাদেশ মানেই একটা মন্দার দেশ, বাংলাদেশ মানেই একটি ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত্রের দেশ, বাংলাদেশ মানেই একটা ভিক্ষার দেশ। এইরকম একটা মনোভাব তাদের মধ্যে কাজ করতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের কারণে এখনকার পরিস্থিতি পুরই পাল্টে গেছে। সম্পদের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সীমিত সম্পদের দেশে অসীম চাহিদা মেটাতে একদিকে যেমন সম্পদের যথাযথ ব্যবহার প্রয়োজন, অন্যদিকে তার সর্বোত্তম ব্যবহারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সর্বক্ষেত্রে উচ্চ উৎপাদনশীলতা অর্জন করা প্রয়োজন। আর এসব সমস্যার কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী সমাধান হলো সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির যুৎসই সমাধান বের করা।  সারা দেশেই আড়ালে-আবডালে ঘটে চলেছে এক অভাবনীয় বিপ্লব। দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ উদ্ভাবন, উৎপাদন ও বাজারজাতে বদলে গেছে দৃশ্যপট। এই কদিন আগেও যেসব যন্ত্রপাতি শতভাগ আমদানিনির্ভর ছিল, আজ তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। বাংলাদেশে প্রস্তুত মেশিনারিজ এখন চীন-ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঠাঁই করে নিচ্ছে বিশ্ববাজারে। ব্যক্তিপর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিজ প্রচেষ্টায় অভাবনীয় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা উৎপাদনে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সফলতাও বাড়ছে। ওষুধশিল্প সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বপ্নের স্বর্ণদুয়ার খুলে দিয়েছে। ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ১৮-২০ ঘণ্টা এই দেশের জন্য কাজ করছেন এই বয়সে। জীবনের সব আরাম আয়েশ বিসর্জন করে দেশটাকে এই জায়গায় আনতে কাজ করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






আরও সংবাদ
https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]