বুধবার ● ২১ অক্টোবর ২০২০ ● ৫ কার্তিক ১৪২৭ ● ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আমদানি করা খাদ্যপণ্যের মান যাচাই দায়িত্বে পিয়ন!
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ৮:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আমদানি করা খাদ্যপণ্যের মান যাচাই দায়িত্বে পিয়ন!

আমদানি করা খাদ্যপণ্যের মান যাচাই দায়িত্বে পিয়ন!

বিদেশ থেকে আসা জাহাজের স্যানিটেশন স্টেটাস ও আমদানীকৃত খাদ্যপণ্যের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তরের অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক তথা পিয়ন। আর তাদের দেয়া মৌখিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাহাজের স্যানিটেশান সার্টিফিকেট (সনদ) ইস্যু করছেন বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। 

অপরদিকে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের অভ্যন্তরের এক ফার্মেসীতে বসে বসেই সময় পারছেন বন্দর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক। ওষুধ ব্যবস্থাপনা এবং ওষুধের মান সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক নূন্যতম জ্ঞান না থাকা ওই স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শককে কাগজে কলমে ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব দিয়ে সেখানেই বসিয়ে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। 

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক যুগধরে এমনভাবেই চলছে আমদানী-রপ্তানীতে নিয়োজিত বিদেশী জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্যানিটেশান স্টেটাস যাচাই কার্যক্রম। একইভাবে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত শিশু খাদ্যসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের মান যাচাই ছাড়াই। 

বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যলয় সূত্রে জানাগেছে, প্রতিদিনই ১০ থেকে ১২টি জাহাজ পরিদর্শনের পর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হয় বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে। আর এই কাজটি বাস্তবায়নের জন্য চিকিৎসক ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ সুর্নিদিষ্ট জনবল রয়েছে বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অধীনে। 

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অংশকে আড়াল করেই কাজগুলো সুকৌশলে তদারক করছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তরের সংঘবদ্ধ একটি সি-িকেট। কারণ প্রতিটি জাহাজ পরিদর্শনকালে নগদ ১একশ থেকে দেড়শত ডলার আর বিদেশী মদ, গুঁড়োদুধ, বিদেশী সিগারেটসহ নানান পন্যসামগ্রী উপঢৌকন হিসেবে আদায় করা হয় নাবিক ও ক্রুদের কাছ থেকে। পরে এসব ভাগাভাগি হয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এই দপ্তরেই। যার একটি অংশ চক্রের সদস্যদের বদল হয়ে পৌছে যায় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে। যার ফলে বছরের পর বছর এমনভাবেই চলে আসছে জাহাজে স্যানিটেশান স্টেটাস ও আমদানীকৃত খাদ্যপণ্যের মান যাচাই কার্যক্রম। 

জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্যানিটেশান স্টেটাস যাচাইয়ে বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাপ্তাহিক কার্যতালিকাও রয়েছে এই সংঘবদ্ধ সি-িকেটের দৌরাত্মের চিত্র।

গত কয়েক বছরের কার্যতালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্যানিটেশান স্টেটাস যাচাই দায়িত্বপালন করেছেন বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ শাহজাহান, মো. হাবিবুর রহমান, মো. কামাল সিদ্দিক লিটু, ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী মঈরুল কাদের, অফিস সহায়ক মো. আব্দুল খালেক ও মো. দিদার আলম।

বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক শামসুন্নাহার জানান, বদলী হয়ে ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক পদে যোগদেন তিনি। ২০২০ সালে  ফেব্রুয়ারিতে ফের বদলী হয়ে এ কার্যালয় ছেড়ে অন্যত্রে চলে যান। তবে এই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত কোনো জাহাজ স্যানিটেশাল স্টেটাস পরিদর্শন বা আমদানীকৃত পণ্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ পাননি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের অভ্যন্তরে একটি ফার্মেসিতে দীর্ঘ দুই বছর ফার্মাস্যিস্টটের দায়িত্ব পালন করে বিদায় নিয়েছি।-যোগকরেন শামসুন্নাহার। 

একই কথা বলেন, বর্তমান স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক পারভিন সুলতানা। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আসা জাহাজের স্যানিটেশান স্টেটাস পরিদর্শন ও নাবিক, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের খাদ্যের গুণগতমান যাচাই করার জন্য প্রসিকিউশন অফিসার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক। কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হলে খাদ্যপন্য জব্দ, মামলা দেয়া বা জরিমানা করার এখতিয়ার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকেরই রয়েছে। অন্যকারো এই ক্ষমতা প্রদান করার সুযোগ নেই। অথচ স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শককে আড়াল করেই বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জাহাজের স্যানিটেশান স্টেটাস সনদ ইস্যু হচ্ছে।  

তবে এই বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন চট্টগ্রাম বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মোতাহের হোসেন। ডা. মো. মোতাহের হোসেনের ভাষ্য, প্রতিটি জাহাজে দুইটি দিকে পরিদর্শন করতে হয়। এরমধ্যে জাহাজে থাকা নাবিক থেকে শুরু করে কর্মচারিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা অন্যকোনো চিকিৎসক। পরীক্ষা করে দেখেন তাদের কেউ এলার্জি বা অন্যকোনো রোগে আক্রান্ত কিন। অপরদিকে জাহাজের অভন্তরের পরিস্কার-পরিছন্নতা, পানি, টয়লেট ও খাদ্যসামগ্রীর মান এবং তারিখ যাচাইয়ের কাজটিও করতে হয়। আর এই কাজটিতে সহযোগিতা করেন অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কগণ। 

কিন্তু স্যানিটিশন ও নিরাপদ খাদ্য আইনের উপর দীর্ঘ তিন বছর রাস্ট্রীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রসিকিউশন কর্মকর্তা ছাড়া এমন কার্যক্রম চলতে পারেকিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. মোতাহের হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের কোনো কাজ নেই। অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক ও গাড়ী চালকরাই সেই সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। আর আমি জাহাজের স্যানিটিশন ও নাবিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদ ইস্যু করছি।  

একই ধরণের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক ড. সহদেব চন্দ্র সাহা বলেন, এমনটাতো হতে পারে না। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সেখানে কি কারণে এমনটা হচ্ছে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com