বৃহস্পতিবার ● ২৯ অক্টোবর ২০২০ ● ১৩ কার্তিক ১৪২৭ ● ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
খালেদা-তারেক বিবাদ আবারো চরমে!
উৎপল দাস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৫:২৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

খালেদা-তারেক বিবাদ আবারো চরমে!

খালেদা-তারেক বিবাদ আবারো চরমে!

বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের গুপ্তচর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমানের মধ্যে বিবাদের ঘটনা অনেক পুরোনো। খালেদা জিয়া দলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ণ করার পক্ষে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ক এবং দুর্নীতিবাজ তারেক রহমান শুধু টাকার নেশায় বুদ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)কে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। লন্ডনে বসবাস করা তারেক রহমান এবারের উপ-নির্বাচনকে ঘিরেও কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এ নিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে কোনো ধরণের কথা বলেননি তারেক রহমান, বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিএনপি’র একজন কেন্দ্রীয় নেতা যিনি খালেদা জিয়ার খুবই ঘনিষ্ঠ বলে স্বীকৃত। 

এদিকে, দলটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই খালেদাপন্থী হিসাবে পরিচিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি গ্রুপ এবং অপরদিকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে তারেকপন্থী গ্রুপ সচল রয়েছে। এমনকি সহযোগী সংগঠনগুলোতেও গ্রুপিং বিবাদমান। এমনকি মির্জা ফখরুলের বাসায় মনোনয়ন বঞ্চিতরা পঁচা ডিম ছুঁড়ে প্রতিবাদ করেছে। 

সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ভাবমূর্তি নিয়ে বেসরকারি একটি টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে দলের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়। বিশেষ করে দলের দুই ভাইস-চেয়ারম্যানের বক্তব্য ঘিরে চলছে সমালোচনার ঝড়। এমনকি উপনির্বাচনে টাকার ভাগাভাগির পরও মনোনয়ন না পাওয়ায় একটি গ্রুপ উত্তরাতে মির্জা ফখরুলের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে, সেখানেও অন্য পক্ষের ইন্ধন ছিল।  

বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা ও নির্বাহী আদেশে কারামুক্ত হওয়ার পর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভাবমূর্তি নিয়ে দল কি ভাবছে তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয় একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। প্রতিবেদনটিতে দলের দুই জ্যেষ্ঠ নেতার পাশাপাশি রাজনীতি বিশ্লেষকের মতামতও তুলে ধরা হয়।

টেলিভিশনে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম বলেছিলেন, (খালেদা জিয়া) আপসহীন ঠিক আছে, কিসের আপসহীন? আপস না করলে উনি আসলেন কিভাবে? আপস না করে বেরিয়ে আসলেন কি করে? সরকারের কথা শুনেই তো বের হয়ে আসলেন। আপসহীন হলে তো বলতো আমি বের হব না।

তিনি আরো বলেছিলেন, শুনি যে খুব নাকি অসুস্থ। খুব যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে কিভাবে করবে। তারপরে রাজনীতি করার জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। লেখাপড়া জানা দরকার, সেটা নাই। অভিজ্ঞতা দরকার, সেটা নাই। হ্যা জিয়া যখন মারা গেছেন তখন বউ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এইতো। দি অনলি কোয়ালিটি এন্ড দি অনলি ক্রিডেনশিয়াল ইজ দ্যাট শি ইজ দ্যা উইডো অব জিয়াউর রহমান। এ কারণেই তো তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর সেই জিয়াউর রহমানের বিচারটা হলো না কেন।

ওই সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়ার রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছেন, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যত আল্লাহ বলতে পারবেন, আমি কিভাবে বলবো। উনি রাজনীতি করেছেনই বা কবে, আর রাজনৈতিক ভবিষ্যত কি? উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত রাজনীতি, লেখাপড়া না জানা একজন মহিলা, আমি তো কোন রাজনীতি দেখলাম না তার। আমি যতদিন দেখলাম। আমার কোন কথা সে রাখলো না। একটা রাজনৈতিক লোকের প্রথম কথা হলো, কথা রাখতে হবে।

দলের ভেতর থেকে দাবি উঠেছে, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। 

এদিকে, বিএনপির বুদ্ধিজীবী হিসাবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহও কয়েকবার তারেক রহমানের পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি তাকে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান অথবা কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে রাজনীতিতে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। 

বিএনপির সরংক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া সরাসরি তারেক রহমানের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মওদুদ আহমদও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা সময় কথা বলেছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সাহস পায়নি তারেক রহমানের গ্রুপ। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির এক প্রভাবশালী সদস্য ভোরের পাতাকে বলেন, বিএনপিতে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের গ্রুপিং অনেক পুরোনো ঘটনা। তাই এটা নিয়ে তেমন কিছু বলার নাই। তবে শাহ মোয়াজ্জেম যেভাবে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে কথা বলেছেন, সেটাও সমর্থনযোগ্য নয়। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো দলের মধ্যেই শেষ করা উচিত।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






আরও সংবাদ
https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com