শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২০ ● ১৫ কার্তিক ১৪২৭ ● ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সবার অবস্থান নিতে হবে, বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে
#অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা নিষ্পত্তিতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল করা দরকার: গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। #নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ফ্রি টোল সেবার ব্যাপক প্রসার দরকার: অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা। #ধর্ষকদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৪৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সবার অবস্থান নিতে হবে, বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে

ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সবার অবস্থান নিতে হবে, বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে

ধর্ষকদের অন্য কোনো পরিচয় থাকতে পারে না। তাদের এই নিকৃষ্টতম কাজের জন্য কোনো ধরণের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে সবাইকে অবস্থান নিতে হবে। আদালতের মাধ্যমে বিচারের রায় হওয়ার পর তা দ্রুত কার্যকরও করতে হবে। তাহলে এই সমাজে নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন কমে আসবে বলে মনে করেন আলোচকরা। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর)  দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা বলেন তারা। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা  সরকার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন,  আজকের বিষয়টি অনেক ঝটিল ও অনেক কঠিন। আপনারা জানেন ১৯৬০ সালের দণ্ডবিধি ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি আজকে ১০ বছর ধরে আছে এবং বিভিন্নভাবে দেশে নারীরা সবসময় নারীরা নির্যাতিত হয়ে আসছে। শুধু নারীরাই নয় সে ছয় মাস বয়সের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারীরা এই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পৃথিবীর শুরু থেকেই অতীতে এটা ঘটেছে এবং বর্তমানেও এটা বিরাজিত। সেসব প্রেক্ষাপট লক্ষ করলে দেখা যাবে বিভিন্নভাবেই নারীরা নির্যাতিত হয়ে আসছে। আমি এটার জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী করব না কারণ আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্ন। দেশের প্রথম প্রণীত বিশেষ বিধানে নাম ছিল ক্রুয়েলিটি টু উইমেন্স অডিয়েন্স এটা ১৯৮৩ সালে প্রচলিত ছিল। পর্যায়ক্রমে ১৯৮৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের বিধানগুলো হয়ে আসছে। তারপর ২০০০ সালে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন হলো এবং সর্বশেষ সংশোধনী ২০০৩ ছিল সালে। এখন আমার পরামর্শ যেটা বলতে চায় সেটা হলো, বিভিন্ন জেলায় অর্থাৎ দেশের ৬৪টি জেলার সব জায়গায় নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল, মানব পাচার ও শিশু পাচার এই তিনটার বিচার একটি আদালতেই করা হয়। পর্যায়ক্রমে এই মামলা গুলো ট্রাইব্যুনালে গিয়ে শেষ হতে পারেনা। এতো মামলা থাকে যে বিচারকের পক্ষে একটার পর একটা মামলার শেষ অব্দি যাওয়া পর্যন্ত তার পক্ষে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সেই জায়গাগুলাতে এই যে নারী শিশু ধর্ষণের বিচারিক আদলতে যদি অবসরপ্রাপ্ত যেসব বিচারকবৃন্দ আছে তাদেরকে যদি এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া শুধু এই নারী ও শিশু ধর্ষণের মামলা গুলোয় প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের বসিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায় তাহলে অনেক এই ক্ষেত্রে অনেক আগানো যাবে। ধর্ষক কারো সন্তান, কারো ভাই, কারো পরিবারের সন্তান হতে পারে এটা আমাদের ভাবতে অনেক কষ্ট হয় তারপরেও এটাই সত্য কথা যে, একজন ধর্ষকের জন্ম কোন না কোন পরিবার থেকেই হয় এবং প্রথম থেকেই পরিবার এখানে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। একটা সন্তান কিন্তু ছোট বেলা থেকে ধর্ষক হয়ে উঠেনা। সেই জায়গাগুলো থেকে আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে আরও একটু ভাবা দরকার। যে আদলতে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলা থাকে সেখানে যদি এই মামলাগুলোর উপর বেশি গুরুত্বারোপ করা হয় এবং এই মামলাগুলো যদি দ্রুত গতিতে সুসম্পন্ন করা যায় এবং সেই সব মামলা গুলোকে যদি বিচারের আওয়াতায় আনা যায় এবং এতে আমরা সার্বিক দিক থেকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছাতে পারবো।

অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা বলেন,  আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাই ভোরের পাতা সংবাদ মাধ্যমকে এই জন্য যে, এমন একটি সময়পযোগী একটি বিষয় নির্ধারণ করে আমাকে কথা বলার জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি প্রথমেই বলতে চায়, যা কিছু নিষিদ্ধ, যা কিছু অনুচিত এই সমস্ত বিষয়গুলি যত নেতিবাচক বিষয়গুলো আছে একটি শেকলের সাথে জড়িত। মাদক যদি বলি তাহলে ঘুষ দুর্নীতিও এর সাথে জড়িত হয়ে আছে। কারণ এইগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে আছে আমাদের সমাজে। যে পরিবার ঘুষ, দুর্নীতির সাথে যুক্ত নয়, মাদকের সাথে যুক্ত নয়, সে পরিবারের সন্তান সাধারণত এইরকম হওয়ার কথা নয় যারা ধর্ষণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। যখন আমার চারপাশে ঘুষ, দুর্নীতি বেড়ে যাচ্ছে, মাদকের প্রাচুর্যতা বেড়ে যাচ্ছে, তখন কিন্তু একটি অনৈতিকতার চোরা পথ দিয়ে পচা পানি প্রবেশ করে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে যে টোল ফ্রি সেবা রয়েছে সেটার আরও ব্যাপক প্রসার দরকার আছে। অনেকে অনেক নির্যাতনের ঘটনা জানার পরেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবার প্রয়োজনবোধ বলে মনে করে না। কারণ সামাজিকভাবে প্রচলিত আমরা একটা প্রবাদ শব্দ জানি যে, "পুলিশে ছুলে আঠারো ঘা"। এই একটা ভীতি থেকে অনেক সময় সাধারণ জনগণ মনে করে, আমি বিষয়টা জানাবো, আমাকেই নাকি আবার হেরেস্মেন্টের শিকার হতে হয় কিনা। এই রকম একটা অনিশ্চয়তায় তারা ভুগতে থাকে। এই অনিশ্চয়তা দূর করার দায়িত্বও কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের। ইতিমধ্যে তারা অনেক এগিয়ে এসেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই কিন্তু এই বিষয়টিকে আরও একটু নিশ্চিত করতে পারলে জনগণের সেই ভয়টি দূর হবে এবং সেক্ষেত্রে সামাজিক যে দৃঢ়তা, সামাজিক যে ঐক্যবদ্ধতা সেটিও গড়ে উঠবে। 

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, একটি কথা বলতেই হয় ধর্ষক কোনো না কোনো পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে। ধর্ষক হওয়ার পথে তার পরিবারেরও দায় রয়েছে। এটা শুধু জঘন্য অন্যায় নয়, এটি সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপ। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে, যেখানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২০৬৪ মার্কিন ডলার। শিশু শিক্ষার হার যেখানে প্রায় শতভাগ। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আমাদের সমাজে মানুষরূপী কিছু জানোয়ার সমাজকে ক্ষত করার জন্য যে ভূমিকা রাখছে। তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। গত ৩ মাসে ৩৭৪ টি ঘটনা ঘটেছে। মানুষরূপী এ জানোয়ারদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। আমি আরো মনে করি, জনপ্রতিনিধিরা আরো সক্রিয় হয়ে তাদের বয়কট করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কারণেই এক সময় এসিড নিক্ষেপের ঘটনা এখন নেই বললেই চলে। আমাদের সবার উচিত ধর্ষকদের প্রতি গণপ্রতিরোধ ঘরে তুলতে হবে। ধর্ষকদের পাশে সিলেটে কোনো আইনজীবী দাঁড়ায়নি। এটা আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক। এই ধরণের ঘটনা, আমাদের জন্য মাইলফলক। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখতে হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com