শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২০ ● ১৫ কার্তিক ১৪২৭ ● ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ক্রাইম পেট্রল দেখে খুন, সতর্ক হোন!
শিপন হালদার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০, ৮:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ক্রাইম পেট্রল দেখে খুন, সতর্ক হোন!

ক্রাইম পেট্রল দেখে খুন, সতর্ক হোন!

অপরাধ নতুন মাত্রা পাচ্ছে। পাচ্ছে নতুন কৌশল। অপরাধী হতে কোথাও গিয়ে প্রশিক্ষণ নেয়ার দরকার নেই। ঘরে বসে টিভির সামনে/মোবাইলের দিকে চোখ রাখলেই হলো! শিখে নিতে পারবেন কিভাবে খুন করতে হয়! খুন করার পর কিভাবে আলামত নষ্ট করতে হয়! কিভাবে মোবাইল সিম নষ্ট করে পালিয়ে যেতে হয়! কিভাবে ফাঁকি দিতে হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে! বিদেশি কোনো কোনো চ্যানেল আবার প্রেম-পরকিয়া করতেও শেখায়! তরুণ প্রজন্মকে আসক্ত করে ফেলছে রঙিন দুনিয়া! আর ঘরের বউদের করছে আত্মকেন্দ্রিক! সন্দেহবাতিক! কলবয়দের জমানাও শুরু হয়ে গেছে! সবকিছুর দায় বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর! কোন সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই তাদের। 

দর্শকপ্রিয়তার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মেতেছে তারা! ভালগারিজমকে বিনোদন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে! এর ফল কী-ভেবে দেখছি না আমরা। এক নীতিহীন সমাজ তৈরি করছি। যেখানে দৃষ্টির মধ্যে মিশিয়ে দিচ্ছি যৌনতার মাদকতা! বৃহস্পতিবারের ঘটনা। চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে মা-ছেলে হত্যা করেছে মো. ফারুক নামে এক সবজি ব্যবসায়ী। ওই নারীকে হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় শিশুটিকেও মেরে ফেলেছে পাষণ্ড। 

এরপর নিজের রক্তমাখা জামা-কাপড় নালায় ফেলে দেয়। মুঠোফোন বন্ধ করে পালিয়ে যায় এলাকা ছেড়ে। খাগড়াছড়ি, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে। এক জায়গায় বেশি দিন কাজ করেনি। মাজারে মাজারেও ঘুরেছে নিজেকে সন্দেহমুক্ত রাখতে। ধরা না পড়তে নানা ফন্দি-ফিকির করেছিলো ফারুক। ধরা পড়ার পর র‍্যাবকে হত্যাকাণ্ড ও এর পেছনের সবকথাও অকপটে স্বীকার করেছে সে। জানিয়েছে, সবকিছু তার মাথায় এসেছে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রল দেখে। অনেকে বলবেন মানসিকভাবে অসুস্থ ফারুক। অনেকে বলবেন অশিক্ষিত! এখানে আমাদের দায় কী? হ্যাঁ, আমাদেরও দায় আছে। আমরা দেদারছে শিশুদের, অশিক্ষিতদের, অসুস্থদের অপরাধবিষয়ক নানা অনুষ্ঠান দেখাচ্ছি। জনপ্রিয়তা অর্জন করতে ভালগারিজম প্রমোট করছি। মনের মধ্যে অপরাধবোধকে উসকে দিচ্ছি। ঘরে ঘরে সন্দেহের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছি। একটা নীতিহীন, লজ্জাহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলছি। ভাববার সময় এসেছে। আসুন না, একটু ভাবি! নতুন প্রজন্মকে, আমাদের সন্তানকে আমরা মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। জ্ঞান অর্জনে তথ্য-প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার শেখাই। সমাজ বদলাতে দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনে আগ্রহী হই। কল্যাণ সুন্দর সমাজ গঠনে প্রয়োজনে নীতিমালার বাস্তবায়ন করি। 

লেখক: শিপন হালদার, নির্বাহী সম্পাদক, নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর ডট কম।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com