বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২০ ● ১২ কার্তিক ১৪২৭ ● ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
শেখ হাসিনা কখনোই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেন না
#শেখ হাসিনা আছেন বলেই, বাংলাদেশ নিরাপদ আছে: এম এ মান্নান। #শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত হয়েছে: নূরজাহান বেগম মুক্তা। #শেখ হাসিনা জনগণের ভাষা বুঝেন: চৌধুরী হাফিজুর রহমান।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনা কখনোই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেন না

শেখ হাসিনা কখনোই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেন না

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য সন্তান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যেমন লাল সবুজের একটি পতাকা দিয়েছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা কখনোই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেন না। তিনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেই বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তা, পাবলিক একসেস ব্যারিস্টার এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী হাফিজুর রহমান। ভোরের পাতা সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

এম এ মান্নান বলেন, পৃথিবীতে সব সময়ই নেতৃত্ব এসেছে। আমাদের দেশেও মহান নেতৃত্ব পেয়েছি। তাদের মধ্যে দুজন মহান। একজন হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হাজার বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথ দেখিয়েছেন। নিজ ভূমিতে পরবাসী ছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে। ১৯৭৫ সালের আগে থেকেই এই ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করা হয়েছিল এখনো এই ষড়যন্ত্র হয়ে আসছে। যে উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু, সংগ্রাম শুরু, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল তখন থেকেই এর কাউন্টাররুপে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে আসছে বর্তমান সময় পর্যন্ত। এই ২২টি বছর তারা আওয়ামী লীগকে দমন করতে ধাওয়া করে আসছে। ৫০ থেকে ৬০ এর দশকে অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে নানা ভাবে প্রতারণা করেছিল। তখন অনেক সম্মানিত ব্যক্তিই বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে আওয়ামী লীগকে ছেড়ে এই প্রতারণার খেলা করেছিল। যারা বাংলার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলনা তারা শুরু থেকেই এই ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত ছিল।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তারা এখনও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে দেয়ার চেষ্টা করেছিল, তারা সেটা করতে পারেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সাবধান থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শেই তার রক্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই যাবে। এই করোনার মধ্যেও বাংলাদেশ অন্যান্য অনেক উন্নত দেশের তুলনায় সফল হয়েছে। শুধুমাত্র আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে। তিনি আছেন বলেই, বাংলাদেশ এখনো নিরাপদ আছে। 

নূরজাহান বেগম মুক্তা বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সারক্ষণই দেশের উন্নয়নের কথাই ভাবেন। তিনি একাজে থাকতেই ভালোবাসেন। এই স্বল্প পরিসরে নেত্রীকে নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়। আমি প্রথমেই আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি বিশেষণ দিতে চাই, তিনি হচ্ছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বিদেশে থাকায় বেঁচে যান আল্লাহর অশেষ রহমতে। এরপর বহুবার তার ওপর হামলা হয়েছে। ২১ বার তাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে, এই মানুষটিকে দিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক কাজ করিয়েছেন। আমাদের দেশের জনগণের ভাগ্য অনেক ভালো যে আমরা একজন শেখ হাসিনার মতো নেত্রী পেয়েছি। আমি আরো বলতে চাই, শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুসংহত হয়েছে। তিনি একাধারে একজন ভালো লেখিকা। বেগম রোকেয়ার মতো তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত। শেখ হাসিনার আন্তরিকতার জন্য বাংলাদেশের নারী জাগরণ ঘটেছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নির্মূলে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। একই সাথে রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে তিনি যেমন সফল, তেমনি তিনি মা হিসাবেও সফল। তার দুই সন্তানকে সারা পৃথিবীর মানুষই চিনেন। সজীব ওয়াজেদ জয় একজন আইটি উপদেষ্টা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একজন বিশ্বসেরা অটিজম বিশেষজ্ঞ। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আরো একটি বড় গুণ সেটি হলো তিনি কখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেন না। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বর্তমান সময়েও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এমনকি নিজ দলের ভিতর থেকেই তিনি শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন। পৃথিবী এবং বাংলাদেশে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই। করোনাকালে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ যেখানে ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফল। এখন বাংলাদেশের প্রবাসী আয় সর্বোচ্চ ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। পুঁজিবাজার এখন বাংলাদেশ সবার সেরা। এই করোনার মধ্যেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। আমার কথা হচ্ছে, জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন দক্ষ নেত্রী, প্রশাসক। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেই তিনি এমন গুণ অর্জন করেছেন। 

ব্যারিস্টার চৌধুরী হাফিজুর রহমান বলেন, আজকের প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র সাড়ে ৩ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপরই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নেমে আসে। দেখুন, মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিৎঞ্জার একসময় বাংলাদেশকে বলেছিল, বাংলাদেশ হচ্ছে একটা তলাবিহীন ঝুঁড়ি। কিন্তু আজকে বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট পাঠাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশ উদীয়মান শক্তি। একসময় বাংলাদেশ পাওয়ার হাউজ হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ঠাঁই দেয়ার পর ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম তাকে ‘মানবতার জননী’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। তার দেয়া ভিশন ২০২১ এর মধ্যেই বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ ২০৩০ এর মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। একটা উন্নয়নশীল দেশ কিভাবে বিশ্বের বুকে এগিয়ে যেতে পারে, তা শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পদ্মা সেতুর মতো মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে নিজস্ব অর্থায়নে। জঙ্গিবাদ যেখানে পুরো বিশ্বেরই সমস্যা। সেখানে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদের স্থান হচ্ছে না। এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করেছিলেন। আমাদের আইনটাকে এখন অনেক দেশ অনুসরণ করছে। আমি আরো বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এটা ছিল বিশ্বের সবচে বড় কালো আইন। আওয়ামী সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে এই আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হয়েছে। আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কারণে ডিজিটাল বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। আজ আমরা এই অনুষ্ঠানেও ডিজিটাল প্লাটফর্মে বসে কথা বলছি। আমাদের গ্রামের একজন মানুষের কাছেও স্মার্ট ফোন আছে। তারা প্রবাসী আত্নীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন। আমি জননেত্রীকে শুধু জননেত্রী বলেই আখ্যা দিতে চাই। কারণ তিনি জনগণের ভাষা বুঝেন। এখন দেশে শিক্ষা, যোগাযোগ, নারীর ক্ষমতায়নে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। তিনি কতটা মানবিক হলে একজন বিশেষ তরুণীর সাথে কথা বলেন, দুই মাথাওয়ালা একটি শিশুকে চিকিৎসার জন্য জার্মানি পাঠিয়েছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন এখন, তিনি এখন বিশ্ব নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com