শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২০ ● ১৫ কার্তিক ১৪২৭ ● ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মেয়াদ বাড়াতে ওয়াসার এমডি তাসকিম খানের ছুটির দিনে অভিনব বৈঠক!
উৎপল দাস
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৫:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মেয়াদ বাড়াতে ওয়াসার এমডি তাসকিম খানের ছুটির দিনে অভিনব বৈঠক!

মেয়াদ বাড়াতে ওয়াসার এমডি তাসকিম খানের ছুটির দিনে অভিনব বৈঠক!

তাকসিম এ খান। টানা ১১ বছর ধরে ঢাকা ওয়াসার এমডি। মেয়াদ শেষে মেয়াদ বাড়ে। বাড়ে অনিয়মের ফিরিস্তিও। প্রথমবার অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগের পর মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তাও উবে গেছে। শেষবার আইন ভেঙে ওয়াসা বোর্ডের কাছে উল্টো প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ আসে মন্ত্রণালয় থেকেই। নিয়োগ ও প্রকল্প নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ গড়িয়েছে দুদক পর্যন্ত। বিভিন্ন কমর্কান্ড নিয়ে বিতর্ক থাকলেও একটানা ক্ষমতায় থেকে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ওয়াসা বোর্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ষষ্ঠ দফায় মেয়াদ বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাকসিম এ খান। এ কারণে অভিনবভাবে ছুটির দিনেই বৈঠক ডেকে বসেছেন বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ হিসাবে খ্যাত ওয়াসার এমডি তাসকিম এ খান। নিজের মেয়াদ আরেক দফা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াসার এমডি অনলাইনে একটি বিশেষ সভা আহ্বান করেন। ইস্যুকৃত চিঠিতে সুস্পষ্টভাবে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে তাসকিম এ খানের মেয়াদ আরো ৩ বছর বাড়ানোর কথা এজেন্ডা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
কয়েকমাস আগে নিজে ফোন করে ওয়াসার ৬ বোর্ড সদস্যকে ডেকে এনে তাকে পুনরায় ৩ বছরের জন্য নিয়োগের জন্য চাপ দেন এই তাসকিম। 

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ড. তাকসিম এ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

২০০৯ সালে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় সংবাদপত্রে। এমডি পদের জন্য চাওয়া হয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা সাধারণ প্রশাসনে সিনিয়র পর্যায়ের অভিজ্ঞতা।

কিন্তু পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিষয়ক কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও আবেদন করেন প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। আছে কেবল দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে কাজের খতিয়ান, যাদের সাথে পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন সংশ্লিষ্টতাই নেই।

যোগ্যতা না থাকলেও ৩ বছরের জন্য তাকেই নিয়োগের সুপারিশ করে বোর্ড। অনুমোদনও দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরে ২০১২ সালে ৩ বছরের সুপারিশের বিপরীতে মেয়াদ বাড়ে ১ বছর। তৃতীয় দফা নিয়োগে ঘটে তেলেসমাতি। তৎকালীন স্থানীয়সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশের বাইরে থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। কিন্তু ১ বছর আগের সুপারিশ আমলে নিয়ে আরো ২ বছরের জন্য নিয়োগ পায় তাকসিম এ খান।

ওয়াসা বোর্ডের বৈঠকে এ বিষয়ে সমালোচনা হয়। আইনের সাথে সামঞ্জস্য নয় বলেও মত দেয় বোর্ড কর্তারা। কিন্তু অতীত বিবেচনা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বিব্রত বোধ করেন তারা।

পঞ্চম মেয়াদে ঘটে আরো নজিরবিহীন ঘটনা। আইন অনুযায়ী ওয়াসা বোর্ড নিয়োগের প্রস্তাব দেবে, অনুমোদন করবে সরকার। কিন্তু ২০১৭ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ-ই উল্টো তাকসিম এ খানকে আরো ৩ বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ঘটেও তাই। এভাবে গত ১১ বছর ধরে নানা অনিয়মের পাহাড়ে বসেও দোর্দণ্ড প্রতাপে স্বীয় পদে বহাল তাকসিম এ খান। জানা গেছে ৬ষ্ঠ মেয়াদে নিয়োগ পেতেও এরইমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






আরও সংবাদ
https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com