শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২০ ● ১৫ কার্তিক ১৪২৭ ● ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আল্লামা শফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে!
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৩৮ এএম আপডেট: ১৯.০৯.২০২০ ২:৪৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আল্লামা শফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে!

আল্লামা শফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে!

হেফাজতে আমীর মুফতি আহমদ শফি হুজুরের মৃত্যু স্বাভাবিক না এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড? জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। এইচ এম দেলওয়ার হোসেন নামের একজন তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কওমিদের সার্পোট করি না তাদের ইসলামী কিছু ভুল ধরানার পক্ষে থাকে বলে। কিন্তু বিগত কিছুদিন ধরে দেখে আসছি যে সমগ্র দেশে কওমিরা পরিচালিত হয় হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে। আর এই মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচালনা করে আসছেন শফি হুজুর। তিনি কওমিদের শিক্ষা বিস্তারের জন্য নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ আর পরিশ্রম দিয়ে আসছেন। 

অথচ তারই হাতে গড়া মাদ্রাসার ছাত্ররা আজ পথভ্রষ্ট হয়ে তাকে তার মাদ্রাসায় অসুস্থ অবস্থায় আটকে রেখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন তার মুখের মুখের অক্সিজেন খুলে পেলেন যার কারণে তিনি অপমানে স্ট্রোক করেন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখান থেকে ঢাকা পরে মৃত্যুবরণ করতে হয়।  এই আহমদ শফি হুজুরর মৃত্যুর একমাত্র দায় হলো জুনায়েদ বাবুনগরী।  

কে এই বাবুনগরী তার সাথে শফি হুজুরের এত মতবিরোধ কেন? এই সেই বাবু নগরী যিনি শতকোটি টাকা আর মন্ত্রীত্বের লোভে ২০১৩ সালে ৫ মে শাপলা চত্বরে কওমিদের লাঞ্চিত করার মুল নায়ক। 

এই বাবু নগরী সেদিন শফি হুজুরকে আওয়ামী লীগ সরকার সম্পর্কে ভুল ধারণা দিয়ে বিএনপি জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিল। তার এই গোপন কওমি নিয়ে ষড়যন্ত্র যখন শফি হুজুর জানতে পারে তখন তিনি কওমিদের সরকার বিরোধী মনোভাব থেকে দূরে সরে আনেন। সরকারের সাথে বন্ধুত্ব করে কওমিদের সার্টিফিকেটকে সরকারি মানে নিয়ে আসেন। হাটহাজারী মাদ্রাসায় ব্যাপক হারে সরকারি অর্থ নিয়ে উন্নয়ন করেন। 

কিন্তু একবার ব্যর্থ হয়ে থেমে নেই বাবুনগরী তিনি জামায়তের সাথে গোপন আতাঁত করে আবারো কাওমিদের দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাই। যার জন্য তার দরকার হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক পদে আসীন হওয়া। কারণ হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক মানে গোটা দেশের কওমিদের নিয়ন্ত্রণ করা ও অভিভাবকত্ব করা।  তার নীলনকশা বাস্তবায়ন করার জন্য বাবুনগরী তার পালিত শিবির ক্যাডার দিয়ে মাদ্রাসায় অযৌক্তিক আনন্দোলন শফি হুজুর ও তার ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করতে লাগে।  জুনায়েদ বাবুনগরী নির্দেশে শিক্ষার্থীরা শফি হুজুরকে অসুস্থ অবস্থায় তিনি মাদ্রাসা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর ও তাকে মাদ্রাসা থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে বিভিন্ন কটূক্তি শুনার পর তিনি মাদ্রাসা ভিতরে স্ট্রোক করলে তাকে মেডিকেল নিয়ে যেতে পর্যন্ত বাধা প্রদান করেন বাবুনগরী এজেন্ট শিবিরের লোকজন। 

জামায়ত শিবিরের এজেন্ট হয়ে কাজ না করার কারণে ক্ষমতালোভী বাবুনগরীকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে দেশের একজন মুরুব্বি আলেমকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার নিন্দা জানাচ্ছি আর অবিলম্বে বাবুনগরীকে গ্রেফতার করে আল্লামা আহমদ শফি হুজুরের হত্যাকান্ডের রাহস্য বের করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

অপর একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন, বাবার লাশের সামনে ছেলেকে মারধর করা এটি কোন ইসলাম। তাও আবার যারা উম্মতের রাহাবার দাবি করে তারা যদি এই কাজ করে।  কি শিখানো হয় আমাদের দেশের কওমী মাদ্রাসায়। ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় আল্লামা আহমেদ শফি সাহেব রহঃ এর লাশ নিয়ে আসলে লাশের গাড়ির সাথে আসা হযরত রহঃ এর বড় ছেলে মাওলানা আনাস মাদানিকে প্রকাশ্যে হাজার হাজার মানুষ দেশের সকল মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতি এভাবে মারধর করা হয়ে। এরদ্বারা আমাদের আকাবিরদের গড়া ঐতিহ্যবাহী কওমী মাদ্রাসার বর্তমান সন্তানরা উম্মতকে কি ম্যাসেজ দিচ্ছে।  আল্লাহ আমাদেরকে এই মুসিবত থেকে হেফাজত করুন।

এদিকে, দেশের প্রবীণ আলেম ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার ইন্তেকাল করেছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। পরে হাসপাতালের তৃতীয় তলার আইসিইউর ৮ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয় হেফাজতের আমিরকে।

এর আগে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে গতকাল রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান হেফাজতের আমির। রাতে মাদ্রাসার মজলিসে শূরার বৈঠকে আল্লামা শফী তার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তাকে সদরুল মুহতামিম বা উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়।

এছাড়া, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর দুপুর ২টায় হাটহাজারী মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় ইমামতি করবেন তার ছেলে আনাস মাদানি। পরে মাদ্রাসার ভেতরে বায়তুল আতিক জামে মসজিদের সামনের কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘শুরা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে হাটহাজারী মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে আহমদ শফীকে দাফন করা হবে। 

এ লক্ষ্যে মাদ্রাসার শুরা কমিটি ও প্রশাসন বিস্তারিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এদিকে জানাজা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে চট্টগ্রামের চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সহ চার উপজেলায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনে করা হয়েছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com