শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২০ ● ১৭ আশ্বিন ১৪২৭ ● ১৩ সফর ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
শেখ হাসিনার কারণেই পথ হারাবে না বাংলাদেশ
#শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পরিপূর্ণতা পাবে: শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। #শেখ হাসিনা যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা: নির্মল রঞ্জন গুহ। #শেখ হাসিনা আমাদের আশার বাতিঘর: ড. শাহীনূর রহমান। #শেখ হাসিনার হাতেই বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব সফল হচ্ছে: হুমায়ূন কবির।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:২৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনার কারণেই পথ হারাবে না বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার কারণেই পথ হারাবে না বাংলাদেশ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য সন্তান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যেমন লাল সবুজের একটি পতাকা দিয়েছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহীনূর রহমান এবং ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ূন কবির। ভোরের পাতা সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ভোরের পাতার পক্ষ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্ম মাস উপলক্ষ্যে যে আয়োজন করা হয়েছে সে কারণে ভোরের পাতা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য কাজ করে গেছে জিয়াউর রহমান-এরশাদ। এরপর খালেদা জিয়া জামায়াতকে সাথে নিয়ে একই কাজ করে গেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে তারা সফল হতে পারেনি। বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সুচারুরূপে শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারপরও শুধুমাত্র সৎ ও সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার নেতৃত্বকে ব্যাহত করার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তারা কখনোই সফল হবে না। আমরা যারা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই নই, বাংলাদেশের সচেতন সকল নাগরিক শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বিশ্বাস করে, আস্থা রাখে। এই করোনা ভাইরাসের সময়ও আমাদের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে, প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি পরিপূর্ণতা পাবে শেখ হাসিনার হাত ধরেই। কারণ তিনিই শতবছরের ডেল্টা প্ল্যান গ্রহণ করেছেন। তার মতো ধার্মিক, ন্যায় পরায়ণ মানুষ হিসাবে মানবতার মা হিসাবে তিনি বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। 

নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করেছিল। তখন আওয়ামী লীগের সামনে বড় দুঃসময় ছিল। কিন্তু ১৯৮১ সালে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর দীর্ঘ সংগ্রাম করে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন ১৯৯৬ সালে। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি শাসক নই, জনগণের সেবক হিসাবে কাজ করতে এসেছি। এখন তিনি চারবারের সফল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করে। ৭৫ পরবর্তী সময়ে যত সরকারই এসেছে সব আমলেই দেখেছি কিভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। কিন্তু আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে পাঁচ বছরে অনেক দ্রব্যের দাম কমেছে। ১০০ টাকা লিটারের তেল এখন ৭০ টাকায় পাওয়া যায়। শিক্ষা, বিদ্যুত খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। করোনাকালে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদিনই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। শেখ হাসিনা মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন। শেখ হাসিনা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমি তাকে বলি যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান। তিনিই আমাদের আস্থার প্রতীক। 

ড. শাহীনূর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু আমার কাছে একজন মহামানব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসার পর থেকে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। বিদেশের বিভিন্ন প্রভাবশালী ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধানদের ফোরামে তিনি বারবার স্বীকৃতি পেয়েছেন। পাকিস্তানি ভাবধারায় ধর্মান্ধরা বাংলাদেশকে বারবার পিছিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৮তম শক্তিশালী দেশ। ২০৫০ সালে এ অবস্থান দাঁড়াবে ২৩ এ। গার্ডিয়ান পত্রিকা তাকে মানবতার জননী বলে আখ্যায়িত করেছে। নোবেল বিজয়ীরা শেখ হাসিনা মানবতাবাদী নেতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা আমাদের আস্থার স্থল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাকাশ বিজয় হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি অর্জন, নারীর ক্ষমতায়ন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, একটি বাড়ি একটি খামার, ১ কোটি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালে সবচে এগিয়ে আসেন। তিনি আমাদের আশার বাতিঘর। বিরূপ পরিস্থিতিতে তিনি অভয় দেন। তার সাথে তুলনা কারো হয় না। শেখ হাসিনার তুলনা শুধু তার সাথেই করা যায়। বাংলাদেশের কোনো গবেষকই অস্বীকার করতে পারবেন না, ১৯৭৫ সালের পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান যেভাবে বাংলাদেশকে পাকিস্তানকে বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ১৭ কোটি মানুষের দেশ সমস্যা ও সংকটের সাথে তেমনভাবে পরিচিত নয়। এই করোনাকালে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে শেখ হাসিনা আমাদের সকল সমস্যার সমাধান করেছেন। তাকে নিয়ে দশ বছর ধরে কথা বললেও শেষ করা হবে না। তাকে অনেকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো হয়তো ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় রয়েছে। এজন্য আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে। 

হুমায়ূন কবির বলেন, মুজিব আমার চেতনায়। আমি বক্তব্যের শুরুতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তার পরিবারের সব শাহাদাতবরণকারী, জাতীয় ৪ নেতার প্রতি। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত বিপ্লবকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল সামরিক জান্তারা। কিন্তু একজন ব্যক্তি মুজিবের মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু আদর্শিক মুজিবের মৃত্যু হতে পারে। বঙ্গবন্ধু আমাদের কাছে একটি প্রতিষ্ঠান। আমি শুধু বলতে চাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু রাজনৈতিক দল নয়, হালুয়া ভাগ বাটোয়ারার জায়গা নয়; এটি একটি আদর্শিক প্রতিষ্ঠান। আদর্শ আছে বলেই আওয়ামী লীগ এখনো টিকে আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন, সেদিন প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল। তাকে দেখেই এখনো আওয়ামী লীগ করছি। আমরা আওয়ামী লীগ করি বলেই ২১ আগস্টের মতো গ্রেনেড হামলা করতে পারি না, ১০ ট্রাক অস্ত্র আনতে পারি না, সিটিং এমপি কিবরিয়া সাহেব, আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো কাউকে হত্যা করতে পারি না। ফাহিমা-পূর্ণিমার মতো কাউকে ধর্ষণের শিকার হতে হয় না। আমরা চাই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেত্রীর হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলার পথকে আরো বেগবান করতে। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া দুই আমানত তার কন্যাদ্বয়ের মাধ্যমে তার অসমাপ্ত বিপ্লব সফল হচ্ছে। তাতেই বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাচ্ছে। বিদেশে বসে এখনো কেউ কেউ পাকিস্তান এবং তারেক রহমানের সহযোগিতায় নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ব্যবস্থা করার জন্য তথ্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি। আমরা পূণ্য করেছিলাম বলেই, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের দুই নেত্রীকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






আরও সংবাদ
https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com