রোববার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ● ৫ আশ্বিন ১৪২৭ ● ১ সফর ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
জ্বালানি কূটনীতিতে শেখ হাসিনা নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন: ড. সেলিম মাহমুদ
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২০, ১১:১০ পিএম আপডেট: ১০.০৮.২০২০ ৩:৪১ এএম | অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানি কূটনীতিতে শেখ হাসিনা নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন: ড. সেলিম মাহমুদ

জ্বালানি কূটনীতিতে শেখ হাসিনা নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন: ড. সেলিম মাহমুদ

একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে মনে করেন আলোচকরা। দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এমন দাবি করেন আলোচকরা। 

রোববার আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু এবং তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ফাইয়াজুল হক রাজু। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।

ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, আজকে জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস। ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ৫ টা বৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্রকে জাতীয়করণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের এই দিনে মাত্র ১৭.৮৬  কোটি টাকায় জাতির পিতা এই গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে কিনেছিলেন,  আমাদের সাবসিডাইসড গ্যাস প্রাইস  অনুযায়ী এই পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্রের মূল্য সাড়ে বার লক্ষ কোটি টাকার উপরেl আর আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য অনুযায়ী এর দাম তারও তিন থেকে চার গুন বেশিl এটি এর আর্থিক মূল্যl এর অর্থনৈতিক মূল্য তার চেয়ে লক্ষ গুন বেশিl গত ৪ দশকে আমাদের দেশে যত শিল্পায়ন হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন যা কিছু হয়েছে তার মূল কারণই ছিল বঙ্গবন্ধুর দেয়া এই গ্যাস ক্ষেত্রগুলোl আজকে গার্মেন্টস সহ আমাদের যা কিছু অর্জন তার চালিকা শক্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর দেয়া গ্যাসl জাতির পিতার এই পদক্ষেপ ছিল বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রামের অংশ হিসেবে জাতীয় স্বার্থে তাঁরই গৃহীত কিছু সাংবিধানিক, আইনি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন।

পৃথিবীর কোন জাতীয়তাবাদি রাষ্ট্রনায়ক  তার দেশের স্বার্থে এই ধরণের কোন সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে সেটি আমার জানা নেই l জ্বালানি বিষয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছি l যুক্তরাজ্যের ডান্ডী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত এনার্জি সেন্টার থেকে আমি জ্বালানি আইন ও পলিসি বিষয়ে পিএইচডি শেষ করে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের রেগুলেটর হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছি । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেনl পৃথিবীর অনেক দেশের জ্বালানি পলিসি এবং বিভিন্ন সময়ের আন্তর্জাতিক জ্বালানি পলিসি নিয়ে আমি স্টাডি করেছিl জাতীয় পর্যায়ের জ্বালানি খাতে বঙ্গবন্ধুর মতো এইরকম যুগান্তরকারী ঘটনা পৃথিবীতে আর কেও ঘটাতে পারেনিl

বঙ্গবন্ধু সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশীয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের উপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। এই আইনি অধিকারের ধারণাটি তৎকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক আইন অঙ্গনে খুবই নতুন ছিল। ঔপনিবেশিক শক্তি ও বহুজাতিক কোম্পানী সমূহের অনুকূলে খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের উপর প্রদত্ত ইজারা ভিত্তিক মালিকানা জাতীয় স্বার্থে বাতিল করে জারি করা বঙ্গবন্ধুর এই বিধান সমকালীন সময়ে পৃথিবীর খুব কম দেশই তাদের সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করতে পেরেছিল। বঙ্গবন্ধুর এই পদক্ষেপ ছিল তাঁরই নেতৃত্বে বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জন। জাতির পিতা গ্রামীণ উন্নয়ন এবং নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবন যাত্রার মানের বৈষম্য দূর করার জন্য গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়নের বিষয়টিকে  সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে অনুচ্ছেদ ১৬ তে ঘোষনা করেন। বঙ্গবন্ধুর এই বৈপ্লবিক ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তৎকালীন তৃতীয় বিশ্বে এটি একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-২৭ এর মাধ্যমে দেশের তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ খনিজ, তেল ও গ্যাস কর্পোরেশন গঠন করেন। ১৯৭৪ সালে এর সংক্ষিপ্ত নামকরন করা হয় ‘পেট্রোবাংলা’। তিনি জ্বালানি খাতকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে পেট্রোলিয়াম আইন ও পেট্রোলিয়াম পলিসি প্রণয়ন করেন। উক্ত আইন ও পলিসির আওতায় তিনি দেশীয় কোন মূলধন বা বিনিয়োগ ছাড়াই বিদেশী/বহুজাতিক কোম্পানীর মাধ্যমে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের লক্ষ্যে ‘উৎপাদন বন্টন চুক্তি’ পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রবর্তন করেন। বর্তমানে সারা বিশ্বে এই মডেলটি বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় হলেও ঐ সময়ে পৃথিবীর অনেক দেশই এই মডেলটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৫৯ এর মাধ্যমে দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য বিদ্যুৎখাত পূনঃগঠন করেন। জাতির পিতা ১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ  The ESSO Undertaking Acquisition Ordinance 1975 এর মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ESSO Eastern Inc.- কে অধিগ্রহন করে এদেশে জ্বালানি তেল মজুদ, সরবরাহ ও বিতরনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেন। বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত এই সকল স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান সমূহই আজও এদেশের তেল সেক্টরের জ্বালানি নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করছে। 

বঙ্গবন্ধুর পর একমাত্র একমাত্র শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া আর কেওই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর জোর দেয় নিl  ১৯৯৬-২০০১ সাল সময়কালে এবং ২০০৯ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দেশ আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, গোটা উন্নয়নশীল বিশ্বের একমাত্র সরকার প্রধান যিনি জ্বালানিনিরাপত্তার বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সমার্থক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি সরকার প্রধান হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগী এই মডেলটির প্রশংসা করেছেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, দক্ষতা ও দৃঢ় মনোবলের কারণে কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড গড়েছে। মুজিব শতবর্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে পুরো দেশ। এখন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২০ হাজার আটশো মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে,  যা ২০০৯ এর জানুয়ারী তে ছিল মাত্র ৩২৬৭ মেগাওয়াটl

বহুজাতিক কোম্পানি শেলের  কাছ থেকে গ্যাস কোম্পানিগুলো নেয়ার মাত্র ৬ দিন পরই জাতির পিতা নিহত হন। পৃথিবীর অনেক দেশেই বহুজাতিক কোম্পানির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ক্যু হয়েছে। জাতির পিতা এই তথ্য জানতেনl দেশের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে দিয়ে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করেন নি l বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া এদেশের সকল সরকারই বিদেশী কোম্পানির পক্ষে কাজ করেছেl 

জননেত্রী শেখ হাসিনার সমুদ্রসীমা জয়ের মাধ্যমে সমুদ্রে প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে তেল গ্যাস সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছেl সমুদ্রে আমাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেl একমাত্র রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি অসীম সাহসিকতা ও দক্ষতার মাধ্যমে একদিকে মিয়ানমার, আরেক দিকে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে সমুদ্রসীমা জয় করেছেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিবেচনায় এটি আমাদের জন্য এক বিশাল অর্জন l এই ধরণের উদাহরণ পৃথিবীতে খুব কমই আছেl 

বঙ্গবন্ধু জ্বালানি নিরাপত্তাকে অত্যধিক  গুরুত্ব দিয়েছিলেন, কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয় l বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই ধারাই অনুসরণ করেছেনl এটি আমাদের জানা দরকার, জাতির পিতা যে গ্যাস সম্পদ আমাদেরকে দিয়ে গিয়েছিলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা তথা সার্বিক উন্নয়নের জন্য সেই সম্পদ রক্ষা করেছিলেন তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনা। গ্যাস সম্পদ দেননি বলে তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নির্বাচনে হারানো হয়েছিল ২০০১ সালেl 

জাতির পিতা বাংলাদেশে একটি আত্ম নির্ভরশীল ও শক্তিশালী জ্বালানি খাত তৈরি করে গিয়েছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল এদেশকে অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে নিয়ে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করা। এটিই ছিল বঙ্গবন্ধু সূচিত বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম মূল লক্ষ্য। জাতির পিতার পরে শেখ হাসিনাই একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও বাধা ঊপেক্ষা করে জাতির পিতার এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নানামূখী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকারণের নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে শুধু দুটি নাম দেদীপ্যমান - জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আর রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com