রোববার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ● ৫ আশ্বিন ১৪২৭ ● ১ সফর ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
#জ্বালানি কূটনীতিতে শেখ হাসিনা নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন: ড. সেলিম মাহমুদ। #বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তার স্বপ্নের সোনার বাংলাকেই হত্যা করেছিল: ইকরামুল হক টিটু। #বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ষড়যন্ত্রকারীরা আওয়ামী লীগকেও ধ্বংস করতে চেয়েছিল: ফাইয়াজুল হক রাজু।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২০, ১০:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে মনে করেন আলোচকরা। দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এমন দাবি করেন আলোচকরা। 

রোববার আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু এবং তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ফাইয়াজুল হক রাজু। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।

ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, আজকে জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস। ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ৫ টা গ্যাস ক্ষেত্রকে জাতীয়করণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি ১০ বছর ধরে জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কাজে সম্পৃক্ত রয়েছি। মাত্র ১৭ কোটি টাকার বেশি দিয়ে জাতির জনক এই গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে কিনেছিলেন দেশের প্রয়োজনে। গত ৪ দশকে আমাদের দেশে যত শিল্পায়ন হয়েছে, সেখানে মূল উপাধান ছিল জ্বালানি শক্তি। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালেই সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে যুক্ত করেছিলেন, ইজারাভিত্তিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ করেছিলেন। পৃথিবীর খুব কম দেশ এমন কাজটি করতে পেরেছে। উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে শুধু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র রাষ্ট্র নায়ক যিনি জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সমার্থক হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজেই জ্বালানি খাতের দায়িত্ব নিয়েছেন। তারই সুযোগ্য পারদর্শিতার কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। মুজিব শতবর্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে পুরো দেশ। এখন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২০ হাজার মেগাওয়াটও ছাড়িয়ে গেছে। বহুজাতিক কোম্পানি সেলের কাছ থেকে গ্যাস কোম্পানিগুলোকে মাত্র রাষ্ট্রয়াত্ব করার মাত্র ৬ দিন পরই নিহত হন। পৃথিবীর অনেক দেশেই বহুজাতিক কোম্পানির বিরুদ্ধে গেলেই কয়েক দিনের মধ্যেই ক্যু হয়েছে। এরশাদের সামরিক শাসন এবং খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে তারা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে বিদেশী প্রভুদের হাতেই তুলে দিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এমনটা করেননি। সমুদ্রসীমা জয়ের মাধ্যমে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে তেল গ্যাসের মালিকানা পেয়েছে বাংলাদেশ। এটা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার এবং ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করে সমুদ্রসীমা জয় করেছেন। এটা আমাদের অহংকার। এমন উদাহরণ পৃথিবীর কোথাও নেই। বঙ্গবন্ধু জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, সেই ধারাতেই ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনা জ্বালানি খাতের জন্য একটা মডেল ধারা করেছিলেন। সেই মডেলও খালেদা জিয়াও অনুসরণ করে গেছেন, তাই জ্বালানি খাতের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জ্বালানি কূটনীতিতে শেখ হাসিনা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নিজেকে।

ইকরামুল হক টিটু বলেন, আমি প্রথমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের শহীদ সকলের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। বঙ্গবন্ধুকে বাংলার মানুষের মুক্তির জন্যই পাঠিয়েছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। বঙ্গবন্ধু যদি জন্ম না নিতেন তাহলে বাঙালি জাতি কখনোই স্বাধীন হতো না। ১৭৫৭ সালের পর প্রায় দুই শত বছর আমাদের স্বাধীনতার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ গঠন করে ধীরে ধীরে বাঙালিকে সংগঠিত করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিয়েছেন। ৭০ এর নির্বাচনে জয়ের পরও আমাদের বাঙালির অধিকার পাইনি। তারপর বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানেই সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন স্বাধীনতার যুদ্ধের। আজকের দিনে আমরা অনেক প্রস্তুতি নিয়েও মিটিং সফল করতে পারি না। কিন্তু ৭ মার্চ প্রতিকুল পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে লাখ লাখ মানুষ রেসকোর্স ময়দানে এসেছিলেন। একাত্তরের পর বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর দেশ গড়তে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তাকে হত্যা করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকেই হত্যা করেছিল  আজকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র্য সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের প্রযুক্তিগত আধুনিক বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারই আমাদের জন্য আদর্শ। একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়ি বলা হতো, এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। তার হাত ধরেই জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ পাবো বলে আশা রাখি। আমরা যদি বঙ্গবন্ধুকে না হারাতাম. তাহলে বাংলাদেশ এতদিনে সিঙ্গাপুরের চেয়েও উন্নত দেশ হতো। আমরা এটাও দেখেছি, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেষ্টা করতে চেয়েছিল। তিনি যদি সেদিন নিহত হতেন, তাহলে বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুড়িই হতো।

ফাইয়াজুল হক রাজু বলেন, আগস্টের মর্মস্পর্শী এই ঘটনার পূর্বাপর কিছু বিষয় ছিল। আমরা যখন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যখন যুদ্ধ করেছিল বাঙালিরা। তখন পরাশক্তিরা আমাদের বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু যুদ্ধপরবর্তী সময়ে একটা বিধ্বস্ত সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই সময়ে তিনি সবার সাথে একতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। দেশ গড়ার ক্ষেত্রে আমরা বঙ্গবন্ধুকে সেইভাবে সমর্থন দিতে পারি নাই। তখনকার সময়ে বঙ্গবন্ধুর সকল ভাষণেই বলেছেন, কিছু বৈপরীত্য নিয়ে তাকে চলতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। তখন দেশী ষড়যন্ত্রকারীদের পাশে আন্তজার্তিক ষড়যন্ত্রও মোকাবিলা করতে হয়েছিল। তাই বঙ্গবন্ধু হতাশা নিয়েই বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি। আমাদের স্বাধীন দেশের প্রথম বাজেট ছিল মাত্র ৬০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে অর্থনীতিকে শক্তিশালী হতে হবে। তিনি সবার কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে যোগসূত্র করেছিলেন। ভারত তখন আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলেছেন। তবে দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু সবার আগে কাজ করেছেন। স্বাধীনচেতা ভাব নিয়ে তিনি ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন, ভারতের বাধা উপেক্ষা করেই। কিন্তু এদেশে ষড়যন্ত্রকারীরা সব সময়ই সক্রিয় ছিল। তারা এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকেও ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তারা দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ঠটকারী গল্প তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। কিন্তু এখন মানুষ সত্যটা জানে। গত তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর যেসব বই এসেছে, তাতে সত্যটা উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠনের মাধ্যমে কোনোভাবেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চাননি। এরপর যারা তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে ষড়যন্ত্র করে গেছেন। আজকে ২০২০ সালে মানুষ সত্যটা জানে। তাই তাদের মিথ্যাচারগুলো ধোপে টিকছে না।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com