রোববার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ● ৫ আশ্বিন ১৪২৭ ● ১ সফর ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বঙ্গমাতার অবদান শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন
#বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণে বঙ্গমাতার ভূমিকা অতুলনীয়: ডা. দীপু মনি। #বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সাহসের স্তম্ভ: অ্যারোমা দত্ত। #নারী হিসাবে আমরা বঙ্গমাতার কাছে কৃতজ্ঞ: সেলিমা আহমেদ। #বঙ্গমাতা যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে সহায়তা করে গেছেন তা স্মরণীয়: উম্মে কুলসুম স্মৃতি। #বঙ্গমাতার অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না: নাজমা আকতার। #বঙ্গমাতা পাশে ছিলেন বলেই শেখ মুজিবুর রহমান থেকে বঙ্গবন্ধু হয়েছিলেন: ফরিদা পারভীন।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০, ১০:৫১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গমাতার অবদান শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন

বঙ্গমাতার অবদান শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের কর্মময় জীবন, আদর্শকে শিক্ষা কার্যক্রমে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। এটা করতে পারলেই একজন সংগ্রামী নারীর প্রতীক হিসাবে বঙ্গমাতার অবদান পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারবে। 

শনিবার (৮ আগস্ট) দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এ দাবি করেন আলোচকরা। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, সংসদ সদস্য সেলিমা আহমেদ মেরী, সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফরিদা পারভীন। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।

ডা. দীপু মনি বলেন, আমি আজকের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টে সকল শহীদদের। কৈশোরেই বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুর সাথে জড়িয়ে পরেছিলেন। তিনি আমৃত্যু সেভাবেই ছিলেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বঙ্গমাতা তার সন্তানদের মানুষ করার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের অনেক চাওয়া পাওয়া মিটানোর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাছে সবার প্রবেশাধিকার। অনিশ্চিত পরিবেশে তিনি সন্তানদের পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি শেখ কামাল সেতার, শেখ হাসিনা বেহালা এবং শেখ রেহানা আপা নাচ শিখতেন। কি অসম্ভব দক্ষতার সাথে তিনি সন্তানদের মানুষ করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণে তিনি অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধুসহ আওয়ামী লীগের সব নেতারা যখন জেলে, তখন তিনি আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছেন। তিনি স্বামীর স্বপ্নপূরণে অত্যন্ত দৃঢ়তা নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ৭ মার্চের ভাষণের আগে বঙ্গবন্ধুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, তোমার মনে যা আসে তাই বলবে, কারণ তুমিই এদেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করছো। বঙ্গবন্ধুকে লেখক বঙ্গবন্ধু হিসাবে তৈরি করার কারিগর বঙ্গমাতা। এখন আমাদের সময় এসেছে বঙ্গমাতার অবদানকে আরো সামনে তুলে ধরার। বেগম মুজিবের কাছে আমাদের স্বাধীনতার জন্য অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। তিনি ছিলেন বিলাসিতাহীন জীবন চর্চায় বিশ্বাসী। তিনি তার সন্তানদেরও সেভাবেই গড়ে তুলেছেন। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বঙ্গমাতাকে আরো বেশি তুলে ধরা প্রয়োজন। বঙ্গমাতার জীবনের আদর্শ আমাদের ছড়িয়ে দিতে হবে।

অ্যারোমা দত্ত বলেন, আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভোরের পাতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে আজ বঙ্গমাতার শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ডাকার জন্য। প্রথমেই আমি শোকের মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আর এটাও কামনা করছি পৃথিবীতে এ ধরণের নৃশংস ঘটনা যেন আর না ঘটে। আজ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯০ তম জন্মদিন। কিন্তু ৭৫ সালে ৪৫ বছর কয়েক মাসেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি শিশুকালেই পিতামাতা হারিয়ে বঙ্গবন্ধুর পরিবারে মানুষ হোন তার বোনসহ। ওই বাড়িতে তিনি সেই সন্তান হিসাবেই বেড়ে উঠেছেন। ওই পরিবারের আলোতেই বড় হয়েছেন তিনি। এরপর বঙ্গবন্ধুর সাথে তার বিয়ে দেয়া হলো, তখন বঙ্গবন্ধু কলকাতায় পড়াশুনা এবং রাজনীতি করছেন। তিনি রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েই বড় হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বলেই তাকে বাড়ি ভাড়া দেয়া হয়নি। তখন তার বয়স খুবই অল্প। ২৪ বছর বয়সেই তিনি যুদ্ধ করে গেছেন। তিনি স্বামীকে সব সময়ই সমর্থন দিতেন। এটা ছিল তার ব্রত। যখন বঙ্গবন্ধু জেলে গেছেন তখন তিনি কখনোই ভেঙে পরেননি, তিনি স্বামীকে বলতেন, তুমি এগিয়ে যাও। আমি তো সন্তানদের জন্য আছি। বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সাহসের স্তম্ভ। জেলখানায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে খাতা দিয়ে তিনিই বলেছিলেন, তুমি তোমার আত্মজীবনী লিখতে শুরু করো। তিনি প্রতিবার জেলখানায় গিয়েছেন এবং খাতা দিয়ে এসেছেন এবং লুকিয়ে খাতা নিয়ে এসেছেন। তিনি সরাসরি রাজনীতি না করলেও তিনি সাহস দেখিয়েছেন কিভাবে রাজনীতি করতে হয়। বঙ্গবন্ধুকে তিনি সব সময়ই পাশে থেকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছেন।

সেলিমা আহমেদ বলেন, আমি প্রথমেই শ্রদ্ধা নিবেদন করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এছাড়া ১৫ আগস্ট কালো রাতে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি বলতে চাই, আমাদের বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন বলেই আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম তরান্বিত হয়েছিল। সংসারের সকল ঝামেলা পিছনে ফেলে তিনি স্বামীকে কর্মক্ষেত্রে সর্বক্ষণ অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় প্যারোলে মুক্তি নেয়ার বিষয়ে তিনি রাজি হননি। এটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এগিয়ে গিয়েছিল। তিনি দলের নেতাকর্মীদের জন্য নিজের সম্পদ বিক্রি করেও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার সংগ্রামী জীবন, আদর্শকে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। আমরা যারা এখন রাজনীতি করছি, আমাদের উচিত বঙ্গমাতার আদর্শকে বুকে ধারণ করা। নারী হিসাবে আমরা বঙ্গমাতার কাছে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। তার সাহস ও ত্যাগ সম্পর্কে আমাদের আরো জানতে হবে। বঙ্গমাতাকে নিয়ে স্কুলের কারিকুলামে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।

নাজমা আকতার বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের পথিকৃৎ হচ্ছেন তিনি। তার পরামর্শেই নির্যাতিত নারীদের জন্য পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একাত্তরে নির্যাতিত নারীদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। বঙ্গমাতা প্রচারের বাইরে থেকে নিজের গহনা বিক্রি করে নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এটা ছিল তার চরম দেশপ্রেমের লক্ষণ। জাতির জনক যেমন সংসার সন্তান ফেলে সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। এই কাজটি নেপথ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্ররেণা দিয়ে গেছেন বঙ্গমাতা। আজকের এই জন্মদিনটি আমাদের হতো পারতো আনন্দের দিন। কিন্তু শোকের আগস্টে এটা করা সম্ভব নয়। জীবনেও তিনি বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন। তার নেপথ্যে থেকে কর্মময় জীবন আমাদের জন্য শিক্ষনীয়। আজকের এই দিনে বেগম মুজিবের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, আজ ৮ ই আগস্ট আমাদের বঙ্গমাতার জন্মদিন। এই শোকের মাসে জন্মদিন পালন করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। আমি প্রথমেই স্মরণ করতে চাই ১৫ আগস্টে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শুরু করছি। বঙ্গমাতা যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে সহায়তা করে গেছেন তা স্মরণীয়। আমি মনে করি, বঙ্গমাতাসহ ১৫ আগস্টে সকল শহীদদের জীবন বৃত্তান্ত প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। এটা আমাদের দাবি। এক সময় আমরা জয় বাংলা স্লোগানও দিতে পারতাম না। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই আমরা বঙ্গমাতার জন্মদিন পালন করতে পারছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে, এই কষ্টের জন্মদিনে  আমরা যেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে কাজ করতে পারি।

ফরিদা পারভীন, আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি যাদের জন্য এই দেশটা পেয়েছিলাম। বঙ্গমাতার এই জন্মদিনে আমি একটু যদি পিছনে ফিরে যাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ছিল বঙ্গমাতার। গোলাপ ফুলের মতো গায়ের রং হওয়ার কারণে বঙ্গমাতাকে রেণু বলে ডাকা হতো। ৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানো এবং ৫ বছর বয়সে মাকে হারিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিবারে চলে আসেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার মা ছিলেন গেরিলা। বঙ্গবন্ধু যখন জেলখানায় ছিলেন, তখন তিনি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গেছেন। বঙ্গমাতা পাশে ছিলেন বলেই শেখ মুজিবুর রহমান থেকে বঙ্গবন্ধু হয়েছিলেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে বঙ্গমাতার চোখ ভিজে গিয়েছিল।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com