রোববার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ● ৫ আশ্বিন ১৪২৭ ● ১ সফর ১৪৪২
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি তারই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল: শ ম রেজাউল করিম
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০, ১১:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি তারই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল: শ ম রেজাউল করিম

যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি তারই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল: শ ম রেজাউল করিম

যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারাই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ভাবাদর্শে পরিচালনা করার মাধ্যমে এ দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করা এবং বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করেছিল জিয়াউর রহমান। এমনকি খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত বলে দাবি করেন আলোচকরা। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা আলোচকরা। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমি শুরুতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্টে শহীদ, ৩ নভেম্বর শহীদ জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ মা বোন যারা সম্ভ্রম হারিয়েছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নিহত হওয়া ২৪ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কথা বলছি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্যের পথ সুগম করার জন্য তৎকালীন আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু জিয়াউর রহমানের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এ কারণে তাকে ইতিহাস মনে রাখবে। বঙ্গবন্ধুকে শুধু উন্নয়ন রোধ করার জন্য হত্যা করা হয়নি। ১৯৬৯ সালের ২০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু জানতে পারেন পাকিস্তান থেকে তাকে হত্যার জন্য আততায়ী এসেছে। ২৩ ডিসেম্বর তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এই বিষয়টা মার্কিন কনস্যুলেটের তৎকালীন ডেপুটি চীফ সিনডি সোভারকে জানান। এরপর তিনি ২৯ ডিসেম্বর বিষয়টি ওয়াশিংটনকে জানানো হয়। দ্বিতীয়টা ১৯৭২ সালে জুলাই মাসে মার্কিন দূতাবাসে কর্নেল ফারুক তৎকালীন মেজর ফারুক অস্ত্র কেনার জন্য যায়। তারা প্রথমে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। কারণ অস্ত্র কেনার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বলা হবে। বিক্ষিপ্তভাবে কেন মেজর কর্নেলরা অস্ত্র কিনতে আসবে। এরপর পরের বছর ১৯৭৩ সালের ১১ জুলাই কর্নেল রশিদ আবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে যান, একইভাবে পরের দিন ১২ জুলাই কর্নেল ফারুক গেলেন। তখন তারা বললো, আমাদের একটা শক্তিশালী দল আছে। আমাদের কিছু অস্ত্র প্রয়োজন। আমাদের দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিগ্রেডিয়ার জিয়াউর রহমান। এরপর ১৯৭৪ সালের ১৩ মে কর্নেল ফারুক আবার একটা টিম নিয়ে মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে বললেন, আমরা শেখ মুজিব সরকারকে উৎখাত করতে চাই। আমরা আমেরিকার সহায়তা চাই। এই ঘটনার ১৫ মাস পরেই তারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করতে সফল হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ আর্মড রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন সৈয়দ ফারুক রহমান জিয়াউর রহমানকে বললেন, আমরা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করবো। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হওয়ার সময় শপথে বলতে হয়, রাষ্ট্রপতির জীবন রক্ষার জন্য নিজের জীবন দিতে হবে। কিন্তু জিয়াউর রহমান বিদ্রোহীদের দমন করেনি। এই প্রেক্ষাপটকে এই কারণে বললাম, যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি তারই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। আমাদের স্বাধীনতার সময় বিরোধী ছিল তারাই বঙ্গবন্ধু খুনিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আত্মস্বীকৃত ১২ জন খুনিদের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দেয়া হলো। এছাড়া গোলাম আজম, সবুর খান, আব্দুল মান্নানের মতো স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিল। সাম্প্রদায়িক এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। এরপর ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করেছিল। আগস্ট মাস এলেই সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসীরা আবারো ষড়যন্ত্র করতে শুরু করে। তারা ভাবে একবার আগস্টে তারা সফল হয়েছিল, আবারো সফল হবে। কিন্তু শোকের মাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস মানুষ আর কোনো ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দিবে না।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






আরও সংবাদ
https://www.dailyvorerpata.com/ad/BHousing_Investment_Press_6colX6in20200324140555 (1).jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/431205536-ezgif.com-optimize.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com