বৃহস্পতিবার ● ৬ আগস্ট ২০২০ ● ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ ● ১৫ জিলহজ্জ ১৪৪১
ঘন ঘন নীতির পরিবর্তনে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ হুমকিতে
#জমির মূল্যের সঙ্গে ১৫% ভ্যাট বসানোর সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ #ভ্যাট প্রত্যাহার বেজার চিঠি #ভ্যাট প্রত্যাহারে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০, ৬:৪৭ পিএম আপডেট: ০৭.০৭.২০২০ ৬:৫৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ঘন ঘন নীতির পরিবর্তনে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ হুমকিতে

ঘন ঘন নীতির পরিবর্তনে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ হুমকিতে

দেশে ব্যবসা করতে গিয়ে সরকারি দপ্তরে পদে পদে হয়রানি আর ভোগান্তির কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ কতটা নাজুক তা দেখা গেছে বিশ্বব্যাংকের সবশেষ ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে। যেখানে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার তলানিতে; ১৬৮তম। ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশের ক্ষেত্রে সরকারের ঘন ঘন নীতি-কৌশল পরিবর্তন করাকেও বড় বাধা হিসেবে বলে আসছেন ব্যবসায়ীরা। বারবার নীতি কৌশল পরিবর্তন করলে ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাসে ছিড় ধরে। বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিশ্বের যেকোনো দেশেই বিনিয়োগ টানার মূলতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় আগে দেশি বিনিয়োগকারীদের তুষ্ট করা। দেশিয় বিনিয়োগকারীদের হাত ধরেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগে আশ্বস্ত হন। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটছে উল্টো। সরকার সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে বেশ আগেই। দশ বছর কর রেয়াতসহ নানা সুবিধা দেওয়ায় সেসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে। কিন্তু অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ঘন ঘন নীতি কৌশল পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির লিজ ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট চাপাতে যাচ্ছে সরকার। যেটা আগে ছিল না। অর্থ্যৎ একজন উদ্যোক্তা যদি কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০০ কোটি টাকার জমি কেনে, তাহলে ওই উদ্যোক্তাকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে জমির মূল্য বাবদ ১০০ কোটি টাকার সঙ্গে বাড়তি ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে বলে বলছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য বিকাশের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজার) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এমনিতেই ব্যবসা করা কঠিন। তার ওপর কভিড ১৯ এর কারণে দেশে ব্যবসার অবস্থা মন্দা চলছে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের জমির মূল্যের সঙ্গে বাড়তি ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করলে ব্যবসায়ীদের জন্য আরো কঠিন হয়ে যাবে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় অনুরোধ করেছি। আশা করছি ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হবে। 

এদিকে ভাড়ার ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করা দুইডজনের ওপর ব্যবসায়ী গ্রুপ। নতুন করে ভ্যাট আরোপের পাশাপাশি বেশকিছু নতুন জটিলতার কারণে ব্যাংক ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে গেছে। এছাড়া বিনিয়োগের ফলে বিনিয়োগকারীরা যে সুবিধা পেয়ে আসছে তাও অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) দেওয়া এক চিঠিতে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিনিয়োগকারীরা যে সব বাধা ও জটিলতার মুখে পড়েছেন তার সমাধান চেয়েছেন তারা। সরকারের নতুন নীতির কারণে কিভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ হুমকিতে পড়ছে এবং লাখ লাখ চাকরি তৈরির সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় চিঠিতে। 

সারা দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সংস্থাটি ইতিমধ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা এখন বলছেন, ঘন ঘন নীতি কৌশল পরিবর্তনের কারণে তারা আতœবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। ভ্যাট নিয়ে বেজার কাছ থেকে নতুন একটি চিঠি পাওয়ার পর থেকে তাদের মনোবল ভেঙ্গে গেছে। কারণ নতুন এ নীতির ফলে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের বিনিয়োগ খরচ অনেক বেড়ে যাবে। বেজার কর্মকর্তারাও বলছেন, জমির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত হলে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাবে। দেশে ও বিদেশি পণ্য রপ্তানিতেও খরচ বেড়ে যাবে। এতে ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম বাড়াতে হবে। আর পণ্যের দাম বাড়ালে দিন শেষে চাপ পড়বে ভোক্তার ওপর। ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন, অন্যদিকে সেখানে নতুন শঙ্কা তৈরি করলো সরকারের শুল্ক ও ভ্যাট নীতি থেকে সরে আসা। এর ফলে সরকারের অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের বিনিয়োগ সম্ভাবনা হুমকিতে পড়ল। অথচ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির আশা করছে বেজা।  

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ টানতে হলে অবশ্যই নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও নিশ্চয়তা থাকতে হবে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ন্যায্য দাবির প্রতি এফবিসিসিআইয়ের সমর্থন সবসময় রয়েছে।’ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ফলে যে ট্যাক্স হলিডে সুবিধা পাওয়ার কথা তা পাওয়ার জন্য আমরা প্রবল আগ্রহে অপেক্ষা করছি, যেখানে বিবেচনা করা হবে না কোন ধরণের পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।’ বেজা কর্তৃক প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনির্দিষ্টকালের বিলম্ব করা হচ্ছে বলেও চিঠিতে যোগ করা হয়। এমনকি যে সব সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বহু আগেই দেওয়া হয়েছে সেগুলো পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তার মাঝে আছেন ব্যবসায়ী  উদ্যোক্তারা। চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধা ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠা করা আমাদের জন্য অসম্ভব। ফলে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার তো সুযোগই থাকলো না।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বাস্তবায়ন শুরু হওয়া নতুন ভ্যাট আইনে জমিকে উপকরণ বা ‘ইনপুট’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জমিকে ইনপুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে আগে পণ্যের উৎপাদন খরচের সঙ্গে ভ্যাটের সমন্বয়ের সুযোগ থাকলেও নতুন বাজেটে সেই সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। নতুন করে আর পণ্যের উৎপাদন খরচের সঙ্গে ভ্যাটের সমন্বয় থাকছে না। এর ফলে ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। পণ্যের খরচ বেড়ে যাবে।

অপ্রত্যাশিত ভ্যাটের বোঝা চাপলো বিনিয়োগকারীদের ওপর 
বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে লিজ ভাড়ার ওপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট চাপানো হয়েছে এ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। বিনিয়োগের সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ নিয়ে কোন আলোচনাই করা হয়নি। যদিও বাণিজ্যিক লিজের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রদানের একটি সাধারণ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বেজা যে ভ্যাট দাবি করেছে তা এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে। তা সরকারের ‘ভ্যাট অন কমাশ্চিয়াল লিজিং’ এসআরও এর আওতায় নয়।  বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এসআরওতে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, ‘ভ্যাট নিবন্ধিত ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠানের কারখানা বা প্ল্যান্ট স্থাপনে লিজের ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় পড়বে।’ ফলে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধিত ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের জন্য ইজারা প্রাপ্ত সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবে। সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী অব্যাহতি সুবিধা থাকায় এ ক্ষেত্রে তাদের ভ্যাট দিতে হয় না। তাই চিঠিতে অতিরিক্ত এ ভ্যাট দ্রুত তুলে নেয়ার দাবি জানানো হয়। 

অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সময় বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট বলা হয়েছে যে ধরণের শিল্পই প্রতিষ্ঠা করা হোক না কেন তারা ১০ বছর পর্যন্ত করপোরেট আয়কর হলিডে ভোগ করবে। ব্যবসার শুরু থেকেই এ সুবিধা ভোগ করবে। ওই সময় বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকেই সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলে যে পণ্যই উৎপাদন করা হোক না কেন সরকার যেন ঘোষিথ সুবিধায় কোন পরিবর্তন না ঘটায়।  এছাড়া বিদ্যমান প্রণোদনার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সময়ে সময়ে যেন সরকার নতুন প্রণোদনা দেয়। এমন অনুরোধও করা হয়েছিলো। 

বেজা ও বিনিয়োগকারীদের মাঝে ভূমি ইজারার যে চুক্তি হয়েছে তার ২৪ ধারা অনুযায়ী ভূমিকা মর্টগেজ বা বন্ধকের ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। কিন্তু কোন নিয়মের লংঘন ঘটালে কিংবা এ কারণে তৃতীয়পক্ষের কাছে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সে সুযোগ দেয়া হবে কিনা তা নির্ভর করবে বেজার মতামতের ওপর। 

একইসঙ্গে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) বেজার এনওসি (অনাপত্তি সনদ) ছাড়া ঋণ সুবিধা বাড়াতে আগ্রহী নয়। এছাড়া ভূমি ইজারা চুক্তিতে শব্দের ব্যবহারে অস্পষ্টতা ও ভবিষ্যত স্থানান্তরে বেজার ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেও অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ অনুমোদন করে না।

ব্যাংক ঋণ নিয়ে জটিলতায় উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা
অর্থনৈতিক অঞ্চলে যারা শিল্প ইউনিট পরিচালনা করছেন তাদের ঋণ দেয়ার প্রক্রিয়া যেন সহজ করা হয় এ জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে। 
তারা লিজ চুক্তির যে কাঠামো আছে তাতে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোন ঋনগ্রহীতার ডিফল্ট হলেও বন্ধক ভূমি তৃতীয়পক্ষোর কাছে কোন বাধা ছাড়াই স্থানান্তর করতে পারে।

সরকারের নীতিগত পরিবর্তন হতে পারে এমন উদ্বেগ থেকে বিনিয়োগকারীরা আগেই সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিলো কোন প্রণোদনা যাতে তুলে না নেয়া হয় কিংবা অতিরিক্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন কর আরোপ করা না হয়। 
প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে বিনিয়োগকারীরা আরো বলেন, ‘মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিপুল শিল্পায়নের সম্ভাবনা রয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর এ চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। তাই ভূমি ইজারার ব্যালেন্স পেমেন্ট চাওয়ার আগেই যেনো বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়।’ এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুত, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবসা এবং সড়ক সংযোগসহ ইউটিলিটির যাবতীয় সেবা প্রদানে বিলম্বের জন্যও তারা  উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আস্থা ধরে রাখতে প্রয়োজন নীতির ধারাবাহিকতা
ডিবিএলের এমডি এম এ জব্বার বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেছি নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য। যাতে করে আমাদের বিনিয়োগ টেকসই হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটি শিল্প ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছি। যেখানে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’ 

তিনি জানান, সিলেট অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প কারখানা পরিচালনার জন্য ডিবিএল গ্রুপ ইতিমধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ পেয়েছে।  কিন্তু  ডিবিএলের এমডি বলেন, ‘হোল্ডিং কম্পানির ওপর দ্বিগুণ কর এবং সিঙ্গেল-পয়েন্ট ঋণ সীমাবদ্ধতার কারণে এখন বিনিয়োগে আমরা নিরুৎসাহিত হচ্ছি।’ ডিবিএলের ২৪ টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ হাজার লোক কাজ করে।
তিনি আরো জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী তারল্য সংকটে ভুগছে। কারণ নীতি সহায়তা ঘাটতির কারণে লিজধারীরা ঋণ নিতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে হস্তক্ষেপ করতে হবে না হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার দিতে হবে যাতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা সহজে ঋণ সুবিধা নিতে পারেন। তা না হলে সরকারের ওয়ান স্টপ সেবা কোন উপকার বয়ে আনবে না।’

কভিড-১৯ এর কারণে যে সুযোগ এসেছে তা কাজে লাগানোর আহবান
কভিড-১৯ সংকট বিদেশী বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে বিদেশীদের। এমন তথ্য জানিয়ে ডিবিএলের এমডি এম এ জব্বার বলেন, ‘দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার এটিই সঠিক সময়।’ তিনি জানান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এমনকি ভারত বিনিয়োগে একটি ভালো পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি এ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারে তবে শিল্পায়নে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হচ্ছে অফশোর থেকে সিঙ্গেল বরোয়িং লিমিট (এসবিএল)। যে কারণে এইচএসবিসির মতো ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে এখন আগ্রহ দেখায় না। আরেকটি বাধা হচ্ছে হোল্ডিং কম্পানির ওপর দ্বিগুণ কর। আমরা এ ব্যাপারে কথা বলছি কিন্তু সরকারি কোন সংস্থা থেকে সাড়া পাচ্ছি না। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com