মঙ্গলবার ● ১১ আগস্ট ২০২০ ● ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ ● ২০ জিলহজ্জ ১৪৪১
পদ্মায় বর্ষা মৌসুমে ধরা পড়ছে বিশাল আকৃতির পাঙ্গাস-কাতল-বাগাইড় মাছ
গোয়লন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০, ৬:২৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পদ্মায় বর্ষা মৌসুমে ধরা পড়ছে বিশাল আকৃতির পাঙ্গাস-কাতল-বাগাইড় মাছ

পদ্মায় বর্ষা মৌসুমে ধরা পড়ছে বিশাল আকৃতির পাঙ্গাস-কাতল-বাগাইড় মাছ

দেশের বৃহত্তম পদ্মা ও যমুনা নদীর মিলন স্থল রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে প্রতিদিন জেলের জালে ধরা পড়ছে  বিশাল আকৃতির পাঙ্গাশ, কাতল, বাগাইড়, রিটা সহ বিভিন্ন প্রজাতির মিঠা পানির মাছ।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে দৌলতদিয়া মৎস্য আড়তে ২৮ কেজি ওজনের একটি পাঙ্গাশ, ২৫ কেজি ওজনের একটি কাতল জেলেরা আনলে মাছ দুটি দেখার জন্য উৎসক জনতা ভিড় করে। স্থানীয় মৎস্য আড়তদার  মাছ দুটি বিক্রির জন্য ওযাকশনে (নিলামে) দিলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা সর্ব্বোচ দামে ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা পাঙ্গাস মাছটি ১৩শ ৫০টাকা কেজি দরে ৩৭হাজার ৮শ টাকা ও সাজাহান সেখ  কাতল মাছটি ১৪শ টাকা কেজি দরে ৩৫হাজার টাকায় কিনে নেন। সৌখিন মাছ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মাছ তাজা রাখার জন্য দৌলতদিয়া  ফেরি ঘাটের পল্টুনের সাথে বেঁধেরাখে। মোবাইলের ছবি তুলে দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী অথবা আমলাদের নিকট পাঠিয়ে দেয়। দামদর ঠিক হলে মাছ তাদের বাড়ীতে পৌছিয়ে দিয়ে মাছের টাকা নিয়ে আসে।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই প্রায় প্রতিদিন বিশাল আকৃতির মাছ গুলো জেলেদের জালে ধরা পড়ায় ভিশন খুশি জেলে ও স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা ভরা বর্ষা মৌসুমে আরো বড়বড় মাছ ধরা পড়বে। গত কয়েক দিনে দৌলতদিয়া মৎস্য আড়তে বেশ কিছু বিভিন্ন প্রজাতির রড়  মাছ ক্রয় বিক্রয় হয়েছে। 

পাবনা জেলার নগর বাড়ী এলাকার জেলে গুরু হালদার বলেন ,দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাছ ধরে সংসার চালাচ্ছি।  মাছ ধরা আমার বাপ দাদার পেশা , মৌসুম শুরুতে কয়েক টি রড় মাছ পেয়েছি আশা করি কয়েক বছরের চেয়ে এ বার কিছু টাকা ঘরে তুলতে পারবো । তবে আড়তদারদের নিকট থেকে দাদন নেওয়ার কারনে তাদের কাছে বাকিতে মাছ বিক্রি করতে হয়। দাদন না নিলে মাছ গুলো আমরা অন্য জায়গায় নগদ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম । 

দৌলতদিয়া মাছ ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, এ বছর বড় বড় মাছ কিনেছি মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় আমরা মাছ ডেলিভারি দিয়ে থাকি, করোনাভাইরাসের কারনে অনেক ব্যবসায়ী এতো দামে মাছ কিনতে চায়না । অনেক সময় বাকিতে মাছ বিক্রি করতে হয়। 

দৌলতদিয়া বাজার মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মোহন মন্ডল বলেন, এ বার মাছ একটু বেশি ধরা পড়ছে , কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার কারনে কয়েক বছর মাছ কম ছিলো, জাটকা সহ ডিম ছাড়ার মাছ না ধরলে আগামীতে মাছের উৎপাদন আরো বেড়ে যাবে । এ জন্যে নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার প্রয়োজন। 

গোয়ালন্দ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ জানান, এ মৌসুমে এখন পদ্মা নদীতে মাঝে মধ্যেই বড় ধরনের মাছ পাওয়া যাবে, তবে এত বড় মাছ এখন খুব একটা দেখা যায় না। এ ধরনের মাছ সাধারণত ফ্যাসন, দশন, কৌনা, কচাল ও চাকা ওয়ালা ঘাইলা ব্যার জালে ধরা পড়ে। পদ্মা নদীতে মাছের জন্য অভয়াশ্রম করলে ভবিষৎ প্রজ্জমের জন্য ধরে রাখা যেতো। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com